কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ও ইসলাম

আচ্ছা, আপনি কি “কোয়ান্টাম” শব্দটি শুনেছেন? যদি শুনে থাকেন তবে নিশ্চয়ই ভাবছেন যে আমি এখনই “কোয়ান্টাম মেকানিক্সের” কথা বলব। আসলে ব্যাপারটি তা নয়। শিরোনামে কোয়ান্টাম শব্দটি থাকলেও আমার এই লেখার বিষয়বস্তু কিন্তু “কোয়ান্টাম মেকানিক্স” নয় বরং “কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন”। যারা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নাম শুনেছেন তাদেরকে তো আর এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আর যারা এর নাম শোনেননি বা এই ফাউন্ডেশন সম্পর্কে যাদের কোন ধারণা নেই- তাদের ঘাবড়ানোর কিছু নেই, এই লেখাটি পড়তে থাকুন – আশাকরি জানতে পারবেন। মনে প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক যে এই ফাউন্ডেশন নিয়ে এত বড় লেখা লিখার কী দরকার ছিল। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বেশ কিছু ব্যাপার আমার কাছে গড়বর লাগছে। এত বেশি গড়বর লাগছে যে ব্যাপারগুলো আমার জন্য হজম করা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে, এই লেখাটি সেই বদহজমেরই ফলাফল।

লেখার শুরুতেই কিছু ব্যাপার খোলসা করে বলে ফেলি। আমি বিজ্ঞানপ্রিয় একজন মানুষ, কোন বিজ্ঞানী নই। তাই একজন বিজ্ঞানীর চেয়ে আমার বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞান অনেক কম হবে সেটাই স্বাভাবিক। আমি আস্তিক এবং ধর্মবিশ্বাসে মনেপ্রাণে একজন মুসলিম, চেষ্টা করি জীবনের সব ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ মেনে চলতে, তবে আমি কোন মুসলিম পন্ডিত নই কিংবা ইসলাম নিয়ে আমার অগাধ জ্ঞান নেই। আমার এই লেখায় বিজ্ঞান ও ইসলাম নিয়ে যা কিছু চলে এসেছে তার সবই আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর এই সীমাবদ্ধতাকে পাকপোক্ত করার জন্য বিভিন্ন রেফারেন্স ও ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে রেফারেন্সগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে নাম্বার দিয়ে রেফারেন্সগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। মিলিয়ে দেখার সুবিধার জন্য রেফারেন্সগুলো তালিকা আকারে ডান পাশে ও উপরের মেনুতে উল্লেখ করা আছে। আর লেখায় ব্যবহৃত কোয়ান্টাম মেথড সংক্রান্ত সকল তথ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট [১] এবং তাদের প্রকাশিত বিভিন্ন বই [২][৩] থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সবগুলো বইয়েরই সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে.

বিজ্ঞান

আমার এই ছোট্ট জীবনে বিজ্ঞান বেশ বড়সর একটা জায়গা দখল করে আছে। বিজ্ঞানের সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করে – হোক সেটা ডিনামিক্সে দেয়া নিউটনের মূলসূত্রগুলো কিংবা আইনস্টাইনের থিউরি অফ রিলেটিভিটি অথবা এডিসনের তৈরি ইলেক্ট্রিক বাল্ব। বড় বিজ্ঞান ছোট বিজ্ঞান – সবকিছুতেই মুগ্ধ হতে সময় লাগেনা। বাতাসভর্তি বেলুনকে ফাটালে শব্দ হয় – বেলুনের ভেতর কোন বোমা না থাকার পরও কেন শব্দ হয় সেই ব্যাখ্যা পেয়ে আমি মুগ্ধ হই। পানিতে টইটুম্বুর একটা গ্লাসের মুখে কাগজ চেপে গ্লাস উল্টালে পানিও পড়েনা কাগজও পড়েনা – দেখে আমি মুগ্ধ হই। জগদীশচন্দ্র বসু প্রমান করলেন গাছেরও প্রাণ আছে – জেনে আমি মুগ্ধ হই। আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন, সুব্রত বড়ুয়া আর মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা বিজ্ঞানবিষয়ক ছোটদের বইগুলো পড়ে মুগ্ধ হই। বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা, বিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এমনকি বিজ্ঞানী দেখেও মুগ্ধ হই। মোদ্দা কথা বিজ্ঞান আমাকে যেরকম মুগ্ধ করে আর কোন কিছুই সেভাবে আমাকে মুগ্ধ করতে পারেনা। যারা বিজ্ঞান বোঝেন তারা নিশ্চয়ই বিজ্ঞানের নানা কলাকৌশল দেখে আমার মতই মুগ্ধ হন – কেউ কম মুগ্ধ হন আবার কেউবা বেশি মুগ্ধ হন – কিন্তু মুগ্ধ যে হন এটা নিশ্চিত! মুগ্ধ হয়ে বিজ্ঞানকে আরো মহিমান্বিত করার চেষ্টাও করেন অনেকে, বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিতে চান মানুষের কাছে।

অবশ্য সবাই যে বিজ্ঞানকে নিয়ে এভাবে ভাবেন তাও কিন্তু নয়, এর বিপরীত অবস্থাও দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে বিজ্ঞান বিষয়টি এখনও সেরকমভাবে জনপ্রিয় হতে না পারলেও “বৈজ্ঞানিক” শব্দটি কিন্তু বেশ জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই কেউ “বৈজ্ঞানিক” পদ্ধতিতে মাত্র সাত দিনে ইংলিশ শিখিয়ে দিচ্ছে, কেউবা “বৈজ্ঞানিক” পদ্ধতিতে ভাগ্যগণনা করে ভবিষ্যৎ বলে দিচ্ছে আবার কেউ “বৈজ্ঞানিক” পদ্ধতিতে জীবনে সুখ আনবার ট্রেনিং দিচ্ছে। চারপাশে অবৈজ্ঞানিক সব ব্যাপারস্যাপারকে যেভাবে “বৈজ্ঞানিক” শব্দটির মোড়কে ঢেকে ফেলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তা হাতে গছিয়ে দেয়া হচ্ছে – বিজ্ঞানপ্রিয় মানুষ হয়ে আমার জন্য সেটা হজম করা বেশ কষ্টকর।

নিশ্চয়ই বৃত্তান্ত শুনতে ইচ্ছা করছে যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্কটা কি? বৃত্তান্ত দেবার আগে কিছু বৈজ্ঞানিক কথাবার্তা বলি, তাহলে পরের কথাগুলো বুঝতে সুবিধা হবে আপনার জন্য প্রথমেই আমরা কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়ে শুরু করি।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স

প্রথমেই শুরু করি কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়ে। কোয়ান্টাম মেকানিক্স মোটেও সহজ ব্যাপার না, বাঘা বাঘা লোকজনও এই থিওরি বুঝতে গিয়ে ঘোল খায়। এর এই কঠিন দিক নিয়ে রসবোধে বরপুর বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান রসিকতা করে বলেছিলেন, “I think I can safely say that nobody understands quantum mechanics.”[৪] সহজ ভাষায় কোয়ান্টামতত্ত্ব লেখা মোটেও চাট্টিখানি কথা না। এ কারণে সহজ ভাষায় সবার বোধগম্য করে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য প্রয়াত কথা শিল্পী হুমায়ুন আহমেদের লেখা “কাঠপেন্সিল” বইটির [৫] উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এমন একটা সময় ছিল যখন পদার্থ বিজ্ঞানই ছিল মূল বিজ্ঞান, আর পদার্থ বিজ্ঞানের মূল ব্যাপার-স্যাপারগুলো এসেছিল আইজাক নিউটনের সূত্র ধরে। সেটাকে বলা হত ক্লাসিকাল মেকানিক্স। সবকিছু সেসব সূত্র মেনেই চলছিল। একসময় ধারণা করা হল যে পদার্থবিদ্যার সবকিছুই আবিষ্কার হয়ে গেছে, নতুন আর কিছুই আবিষ্কার করার নেই। পুরো পদার্থবিদ্যা জগতে নেমে এল স্থবিরতা। পদার্থবিদ্যা বাদ দিয়ে লোকজন জীববিজ্ঞান, রসায়ন – এইসব ব্যাপার নিয়ে মেতে উঠল। পদার্থবিদ্যার যখন এই অবস্থা তখন হঠাৎ দেখা গেল যে পদার্থবিদ্যার বেশ কিছু জিনিস ক্লাসিকাল মেকানিক্স দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছেনা। যেমন ইলেক্ট্রনের আচরণ। আর সেরকম এক সময়ই ম্যাক্সপ্ল্যাংক কোয়ান্টাম মেকানিক্স নামে এক বিদ্যা তৈরি করে ফেললেন। এর মধ্যে হাইজেনবার্গ তাঁর বিখ্যাত “অনিশ্চয়তার সূত্র”টি দিয়ে দিলেন। তিনি বললেন যে কোন বস্তুর গতি ও অবস্থান কখনোই একসাথে বের করা যাবেনা, কিছু অনিশ্চয়তা থাকবেই। এই অনিশ্চয়তা কতটুকু তাও তিনি বের করে দিলেন। আইনস্টাইন সে সময় খুব বিরক্ত হলেন। তিনি বললেন, সব বস্তু যেহেতু প্রকৃতির মাঝে রয়েছে তাই প্রকৃতি সব বস্তুর বেগ ও অবস্থান জানে, প্রকৃতিতে কোন অনিশ্চয়তা নেই। কাজেই আমাদের উপর কোন অনিশ্চয়তা নেই। এ সময়ই আইনস্টাইন তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেন – “ঈশ্বর পাশা খেলেন না (God does not play dice)”। তিনি উঠে পড়ে লাগলেন “অনিশ্চয়তার সূত্র” ভুল প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু তা করতে গিয়ে তিনি থিওরিটিকে আরো পাকা পোক্ত করে ফেলেন। নিলস বোর তাঁকে দেখিয়ে দেন যে কিভাবে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। আইনস্টাইন বাধ্য হয়ে সূত্রটির যথার্থতা স্বীকার করলেও, তিনি কোয়ান্টাম থিওরি নিয়ে কখনোই পুরোপুরি নিঃসন্দেহ হতে পারেননি।

আইনস্টাইনের মত কোয়ান্টাম থিওরি বাতিল প্রমাণ করার জন্য কাজ করছিলেন বিজ্ঞানী শ্রোডিঙ্গার। তিনি নিজে যদিও কোয়ান্টাম ফিজিক্সের জনকদের একজন (এবং তরঙ্গ সমীকরণ বা Wave Equation এর আবিষ্কারক), তারপরও পদার্থবিদ্যায় সম্ভাবনা (probability) ও অনিশ্চয়তার ব্যাপার তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেননা। তিনি এক কল্পিত এক্সপেরিমেন্টের কথা বললেন। সেই এক্সপেরিমেন্টে একটি বেড়াল আছে একটি বাক্সের মধ্যে, যে বাক্সে রয়েছে এক বোতল বিষাক্ত গ্যাস, বোতলের উপর একটা হাতুরি, হাতুড়িটা আবার একটা গিগার কাউন্টারের (যা দিয়ে তেজষ্ক্রিয়তা মাপা হয়) সাথে যুক্ত, কাউন্টারটির পাশেই রয়েছে একটুকরো তেজষ্ক্রিয় ইউরেনিয়াম। ধরা যাক, ৫০% সম্ভাবনা যে ইউরেনিয়াম অ্যাটম এক সেকেন্ড পর ভেঙ্গে যাবে। সাথে সাথেই গিগার কাউন্টারটি সচল হবে, ফলে হাতুরি আছড়ে পড়বে বোতলে, শুরু হবে বিষক্রিয়া। এখন এই ঘটনার ফলে বাক্সের ভেতর বেড়ালটি বেঁচে আছে কি মারা গেছে – এ প্রশ্নের সাধারন কোন উত্তর নেই, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেড়ালটি বেঁচেও আছে আবার মারাও গেছে – এই দুই অবস্থাতেই বিদ্যমান। অর্থাৎ একটি বিড়ালের দুটি wave function থাকবে। বাক্স না খোলা পর্যন্ত আমরা বলতে পারছিনা যে বিড়ালটি জীবিত না মৃত। বাক্স খুললেই কেবল তা জানা সম্ভব, আর তখনই বিড়ালের wave function collapse করবে। শ্রোডিঙ্গারের কাছে ব্যাপারটি খুবই হাস্যকর ছিল। তিনি বললেন, আমরা যখন দেখব তখনই বিড়ালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে, তার আগে না – এ কেমন কথা?

এই বার নোবেলবিজয়ী পদার্থবিদ ইউজিন উইগনার এগিয়ে এলেন শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল সমস্যার সমাধানে। তিনি বললেন যে, “চেতনাই বস্তুর অবস্থানের নিয়ন্তা (Consciousness determines the existense)”। কার চেতনা? যে ঘটনাটি দেখছে তার চেতনা, অর্থাৎ Observer এর চেতনা। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম – যদি Observer এর মধ্যে চেতনা থাকে থাকে তবেই ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সের বিষয়টা চলে আসে। সমস্যা দেখা দিল যখন চেতনাকে সংজ্ঞায়িত করতে যাওয়া হল তখন। কারণ পদার্থবিদ্যায় চেতনার কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। পদার্থবিদ্যা চেতনা নিয়ে কাজ করেনা, এটা মনোবিজ্ঞানের বিষয়। বেশিরভাগ ভৌত বিজ্ঞানীরা আবার মনোবিজ্ঞানকে পাত্তা দেননা।[৬] কারণ তাদের মতে মনোবিজ্ঞানে কোন কিছুরই সেরকম কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। যেমন ধরুণ – “সুখ”। আপনি কিভাবে সুখকে সংজ্ঞায়িত করবেন? কারণ এই জিনিসটা নিয়ে একেকজনের অনুভূতি একেক রকম – এর কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তাছাড়া এর কোন পরিমাপও নেই। এক কেজি সুখ বা দুই মিটার সুখ – এভাবে কি সুখকে মাপা যায়? সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও পরিমাপ ছাড়া বিজ্ঞান কাজ করেনা। যার ফলে দেখা যায় যে মনোবিজ্ঞান সত্যিকারের বিজ্ঞান কীনা সেটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে প্রায়ই তর্কবিতর্ক চলে – সে আরেক মজার কাহিনী!

যাই হোক, আগের কথায় ফেরত আসি। চেতনাকে যখন সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাচ্ছেনা, তখন বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করলেন যে চেতনা ব্যাপারটা নেই এমন থিওরি দিতে। এবং তারা সমস্যার একাধিক সমাধানও করে ফেললেন। এই ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সের বিষয়টা বেশ কিছু কোয়ান্টাম ইন্টারপ্রেটেশন থেকে এসেছে, এর মধ্যে কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রেটেশন খুব বিখ্যাত। কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রেটেশনে ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সের কথা বলা আছে ঠিকই কিন্তু ঠিক কী বা কে “অবজার্ভার” হিসেবে বিবেচিত হবে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা নেই। সুতরাং তিনি শুধুমাত্র “কনসাস অবজারভার (conscious observer)” ইন্টারপ্রেটেশনটি বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে নীলস বোরসহ অনেকেই ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সকে শুধু প্রতীকী উপস্থাপনা বলে আখ্যায়িত করেছেন।[৭] শেষমেষ ইউজিন উইগনার নিজেই চেতনার ব্যাপারস্যাপার থেকে সরে দাঁড়ান। [৮]

এদিকে জার্মান পদার্থবিদ ডিটিয়ার বেন বিড়াল সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে বলেন যে জীবিত বিড়ালের ওয়েভ ফাংশন আর মৃত বিড়ালের ওয়েভ ফাংশন আলাদা থাকবে, একটির সাথে অন্যটির কোন যোগ থাকবেনা। ফলে কোন অবজার্ভারের দরকার পড়বেনা। হিউ এভার্ট লিখলেন যে শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল একই সাথে জীবিত ও মৃত, কারণ জগৎ দুইভাগে ভাগ হয়ে গেছে, এক জগতে বিড়াল মৃত অন্য জগতে বিড়াল জীবিত। জগৎ দুটি একই জায়গায় একই সময়ে হলেও তারা সম্পূর্ণ আলাদা। জগৎ যদি ভাগই হয় তবে দুটো ভাগে কেন ভাগ হবে? আরো বেশি ভাগেই ভাগ হয়ে যাক! তৈরি হল মাল্টিভার্স থিওরি, যেখানে একইসাথে একাধিক জগৎ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আমি বরং আর না এগোই। কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে নিশ্চয়ই মাথায় এতক্ষণে কঠিন প্যাচ লেগে গেছে? তো এই হচ্ছে অতি সংক্ষেপে অতি সহজ ভাষায় কোয়ান্টাম মেকানিক্স। কোয়ান্টাম মেকানিক্স ঠিকমত বুঝতে বা বুঝাতে হলে অংকের সাহায্য নিতেই হবে, এখানে অংক প্রয়োগের সে সুযোগ নেই বলে কোয়ান্টাম থিওরিকে অতি সরল লাগলেও লাগতে পারে।

কোয়ান্টাম মেথড

প্রথমেই বেসিক প্রশ্ন – কোয়ান্টাম মেথড কি? তাদের ভাষ্যমতে এককথায় এটি – “Science of Living”. আশ্রম ও খানকার চৌহদ্দি থেকে বের করে ধ্যানকে গণমানুষের আত্মউন্নয়ন ও ব্যক্তিত্বের বিকাশে প্রয়োগ করাই তাদের উদ্দেশ্য।[৯] ধ্যানচর্চার মাধ্যমে প্রাচ্যের সাধনা আর আধুনিক বিজ্ঞানের নির্যাসে সঞ্জীবিত কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন প্রক্রিয়া। সাধকদের সাধনা ও মনোবিজ্ঞানের প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের ফলে সহজে মেডিটেটিভ লেভেলে পৌছে আত্মনিমগ্ন হওয়া যায়।[১০] সোজা কথায় ধ্যান চর্চার মাধ্যমে জীবনযাপনের বিজ্ঞান এটি।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও কোয়ান্টাম মেথড

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এই “কোয়ান্টাম” নামটি কিন্তু এসেছে কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকেই। এ ব্যাপারে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ভাষ্য হচ্ছে –

কোয়ান্টাম শব্দটি নেয়া হয়েছে কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আগে বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রিত হতো নিউটনিয়ান মেকানিক্স দিয়ে। আমরা জানি, বিজ্ঞানী নিউটন এবং ম্যাক্সওয়েলের সূত্র অনুসরণ করে পদার্থবিজ্ঞান ঊনবিংশ শতাব্দির শেষভাগে এক সুশৃঙ্খল বিশ্বদৃষ্টি উপস্থাপন করে। এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সবকিছুই ছিলো এক নিয়মের অধীন, সবকিছুই হিসেব করে বলে দেয়া যেত। সেখানে বিজ্ঞানীর কোনো ভূমিকা থাকলো না। বিজ্ঞানী ছিলেন একজন দর্শকমাত্র। আর পুরো প্রক্রিয়া হচ্ছে দর্শক-মন নিরপেক্ষ। অর্থাৎ মনের কোনো ভূমিকা আর থাকলো না। বিজ্ঞান থেকে মন নির্বাসিত হলো এবং বস্ত্তবাদের বিকাশ ঘটলো। [১১]

পরমাণু পর্যন্ত নিউটনিয়ান মেকানিক্স ভালোভাবেই সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হচ্ছিলো। কিন্তু বিজ্ঞান যখন পরমাণুর গভীরে বা সাব-এটমিক লেভেলে ঢুকলো তখন দেখা গেল, একটা সাব-এটমিক পার্টিকেল-পার্টিকেল ফর্মে আছে, না এনার্জি ফর্মে আছে তা হিসেব করে বলা যাচ্ছে না, দেখে বলতে হচ্ছে। যেকোনো সময় এটা পার্টিকেল ফর্মে থাকতে পারে, যেকোনো সময় এটা এনার্জি ফর্মে থাকতে পারে। এটাই হলো ওয়ার্নার হেইজেনবার্গের আনসারটেইনিটি প্রিন্সিপল। বিজ্ঞানে তখন আবার দর্শকের আগমন ঘটলো।[১১]

কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিংশ শতাব্দিতে এসে বিজ্ঞান থেকে নির্বাসিত মনকে আবার বিজ্ঞানে পুনর্বাসিত করে। যেহেতু কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিজ্ঞান থেকে নির্বাসিত মনকে বিজ্ঞানে পুনর্বাসিত করে, তাই চেতনার শক্তিকে, মনের বিশাল ক্ষমতাকে নিজের ও মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের সহজ ও পরীক্ষিত এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটির নামকরণ করা হয়েছে কোয়ান্টাম মেথড। [১১]

মন ও চেতনার ক্ষমতা সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গির সার-সংক্ষেপ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী ইউজিন উইগনার তাঁর ‘Remarks on the Mind-Body Question’ নিবন্ধে চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, অধিকাংশ পদার্থ বিজ্ঞানীই এই সত্যকে মেনে নিয়েছেন যে, চিন্তা অর্থাৎ মনই হচ্ছে মূল। ‘চেতনার উল্লেখ ছাড়া কোয়ান্টাম মেকানিক্স-এর নিয়মকে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণভাবে গঠন করা সম্ভব নয়।’ নিবন্ধের উপসংহারে বিজ্ঞানী উইগনার বলেছেন, ‘বিশ্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণা শেষ পর্যন্ত চেতনাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’ [১২]

যদিও কোয়ান্টাম মেকানিক্স কি বা এটা কি ধরণের থিওরির কথা বলে – এসব ব্যাপারে কোন আলোচনা করেনি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। তবে দেখা যাচ্ছে যে কোয়ান্টাম মেকানিক্সে যেহেতু চেতনার বা মনের একটা কনসেপ্ট ঢুকেছিল সে জন্য কোয়ান্টাম মেডিটেশনকে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। এবং একারণেই এই ধ্যানচর্চার নামকরণ করা হয়েছে – কোয়ান্টাম মেডিটেশন। এটা ছাড়া কেয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে এর কোনই সম্পর্ক নেই, অর্থাৎ অনিশ্চয়তার সূত্র বা মাল্টিভার্স থিওরি বা অন্য কোন কিছুর সাথে এর কোনই যোগাযোগ নেই!

আমরা একটু আগেই পড়েছিলাম, বিজ্ঞানী ইউজিন উইগনারের হাত ধরেই কোয়ান্টাম মেকানিক্সে “চেতনা” জিনিসটার আগমন ঘটে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই চেতনার ব্যাপারটি থেকে ইউজিন উইগনার নিজেই সরে দাঁড়ান।[৮] শুধু তাই নয়, শ্রোডিঙ্গারের থট এক্সপেরিমেন্টে ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সে কনসাস অবজারভারের ভূমিকার প্রয়োজনই নেই এমনটা পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে বাক্সে রাখা গিগার কাউন্টারই যথেষ্ট ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স করাতে সেখানে দর্শক বা চেতনা বা মন দরকার পড়বে না।[১৩] তাছাড়া, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আরেকটি বহুল পরিচিত ইন্টারপ্রেটেশন হচ্ছে মেনি-ওয়ার্ল্ড ইন্টারপ্রেটেশন বা মাল্টিভার্স ইন্টারপ্রেটেশন। এই ইন্টারপ্রেটেশনে ওয়েভ ফাংশন আদৌও কলাপ্স হয়না বলা হয়েছে। এই ইন্টারপ্রেটেশনের পক্ষে অনেক বিখ্যাত পদার্থবিদকেই দেখা যায়, তাদের মধ্যে আছেন স্টিফেন হকিং, ভাইনবার্গ প্রমুখ[১৪]। আরও আছে অবজেক্টিভ কলাপ্স থিওরি, এ থিওরিতে বলা হয়েছে চেতনা নয় বরং বিড়াল নিজেই নিজেকে পর্যবেক্ষণ করছে। এর অর্থ হল বিড়াল একটা নিশ্বাস নিলো, অতিক্ষুদ্র হলেও তার ভর বাড়ল সুতরাং ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স। নিঃশ্বাস ছাড়ল? সাথে সাথে ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স। তাপমাত্রা পরিবর্তন হল? সাথে সাথে কলাপ্স! অর্থাৎ কোন মন বা চেতনা সম্পন্ন দর্শকের বাক্স খুলে বিড়াল দেখার আগেই ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স হয়ে বসে আছে! [১৫]

তো আমরা দেখতে পাচ্ছি, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যে দাবী করছে যে চেতনাই কোয়ান্টাম থিওরির সবকিছু, আসলে ব্যাপার সেটা না। উপরন্তু এই চেতনা জিনিসটা ভৌতবিজ্ঞানের কিছু না হওয়াতে এবং একে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়না দেখেই কোয়ান্টাম বিশ্বে চেতনাকে বাদ দেবার জন্য অনেক থিওরি তৈরি ও প্রমানিত হয়। চেতনা নামের জিনিসটাই ছাড়াই বেশ ভালোভাবেই কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সবকিছু চলছে।

অবশ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন শুধু চেতনাই না, মানুষের মনকে ইলেক্ট্রনের সাথেও তুলনা করেছে। মন কিভাবে ইলেক্ট্রনের সাথে তুলনীয় হতে পারে সেটা অবশ্য বোধগম্য নয়। তাদের কথানুযায়ী –

তাছাড়া কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলে, পরমাণুর ভেতরে নিউক্লিয়াসকে ঘিরে একটি ইলেকট্রন যখন তার কক্ষপথে ঘোরে, তখন ঘুরতে ঘুরতে আস্তে আস্তে কেন্দ্রের দিকে নামতে শুরু করে। এরই একপর্যায়ে সে একটা উচ্চতর কক্ষপথে লাফ দেয়। খুব দ্রুত ঘটা এ উচ্চস্তরে উত্তরণ বা উত্থানকে বলা হয় কোয়ান্টাম লিপ বা কোয়ান্টাম উল্লম্ফন। তেমনি একজন মানুষ যখন ধ্যান করে, আত্মনিমগ্নতার গভীরে চলে যায়, তখন তার মধ্যেও একটা উপলব্ধির স্ফূরণ ঘটে, যা তাকে আগের চেয়ে উন্নততর মানসিক ও আত্মিক স্তরে নিয়ে যায়। কোয়ান্টাম লিপের মতো তার চেতনার জগতেও একটা উল্লম্ফন হয়। কোয়ান্টাম মেথড নামকরণের এটাও একটা কারণ।[১৬]

ভালকথা যে ইলেক্ট্রন উচ্চতর শক্তিস্তরে লাফ দেয়, যাকে এখানে উত্থানের সাথে তুলনা করা হয়েছে। পরের লাইনগুলোতে যা বলা হয়েছে যে তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে যে, ধ্যানেও নাকি লোকজনের এই রকম আত্মিক উত্থান ঘটে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে, ইলেক্ট্রন শুধু উচ্চ শক্তিস্তরেই লাফ দেয়না বরং নিম্ন শক্তিস্তরেও লাফ দেয়।[১৭] ইলেক্ট্রনের উচ্চস্তরে লাফানোকে উত্থান বলা হলে, নিম্নস্তরে লাফানোকে নিশ্চয়ই পতন বলা হবে। তো সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়? ধ্যানে লোকজনের আত্মিক পতনও ঘটে?

সোজা কথা, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে কোয়ান্টাম মেথডের কোন সম্পর্কই নেই। ইনফ্যাক্ট বিজ্ঞানের সাথেই এর কোন সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র চটকদার নাম নেবার জন্য “কোয়ান্টাম” শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আমার ধারণা। যদিও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দাবী করে যাচ্ছে যে এটা নাকি বিজ্ঞান-

তাই আমরা কোয়ান্টামকে বলি জীবনযাপনের বিজ্ঞান, সফল জীবনের বিজ্ঞান।[১৬]

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোগোতেও লেখা আছে – “Science of Living”। কিন্তু এখানে বিজ্ঞানের কোন ব্যাপারটা আসলো, যার কারণে একে আমরা বিজ্ঞান বলব, সেটাই বুঝলাম না! কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে তো বৈজ্ঞানিক উপায়ে কিছু হচ্ছেনা, কোন গবেষণা হচ্ছে না। কেবল মেডিটেশন হচ্ছে। তাহলে কি বলব যে ধ্যান করাটা বিজ্ঞান? কিন্তু কেন? ধ্যানকে তো মাপজোখ করা যাচ্ছেনা। কোন গানিতিক সূত্র দিয়ে একে সংজ্ঞায়িত করা যাচ্ছেনা। তবে কেন কোয়ান্টাম মেথড বিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিক কিছু একটা হবে?

কোয়ান্টাম মেথড ও টেলিপ্যাথি

টেলিপ্যাথি কি? সংক্ষেপে, এ হলো কোনো রকম মাধ্যম ছাড়া দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে চিন্তার ট্রান্সমিশন। অর্থাৎ আপনার ভেতর যে চিন্তা খেলা করছে তা আরেকজনের কাছে কোন মাধ্যম (কাগজ, বই, চিঠি, ফোন ইত্যাদি) ছাড়াই পাঠিয়ে দেয়া, যেভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার কে আপনি আপনার কথাকে অন্যের কাছে পৌঁছে দেন। বিভিন্ন সায়েন্স ফিকশনে এই ব্যাপারটার অস্তিত্ব থাকলেও সত্যিকারের বিজ্ঞানে কিন্তু এর কোন স্বীকৃতিই নেই।[১৮][১৯][২০][২১] টেলিপ্যাথিকে গুরুত্ব দেন মনোবিজ্ঞানীদের একটি বিশেষ দল যাদেরকে বলা হয় প্যারাসাইকোলজিষ্ট। প্যারাসাইকোলজি[২২] অনুসারে টেলিপ্যাথি হলো এক প্রকার অতীন্দ্রিয় অনুভূতি, একস্ট্রা সেনসরি পারসেপশন বা সংক্ষেপে ইএসপি[১৮]।

প্যারাসাইকোলজিষ্টরা চিন্তাকে তরঙ্গ (frequency) হিসেবে দেখেন। তারা মনে করেন যে, যখনই কেউ চিন্তা করে তখন সে আসলে তরঙ্গ তৈরি করে। আর মানুষ ঐ তরঙ্গের প্রেরকযন্ত্র (ট্রান্সমিটার) ও গ্রাহকযন্ত্র (রিসিভার) হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। কাজেই, ফ্রিকুয়েন্সি মিললে একজনের ভাবনা আর একজনের কাছে পৌঁছে যাবে। অনেকটা রেডিও, টিভি বা মোবাইল ফোনের মত। রেডিও স্টেশন থেকে আসলে বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি পাঠানো হয়, আপনার হাতের রেডিওটি তখন সেই ফ্রিকোয়েন্সি রিসিভ করলে আপনি সেই স্টেশনটির পাঠানো যেকোন বার্তা শুনতে পারবেন। যাই হোক, এই ধরনের চিন্তা তরঙ্গের কোনো অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। হওয়ার কথাও নয়। আর মানুষের মাথা যে এরকম কোন রিসিভার নয়, তার বড় প্রমাণ আপনি নিজে। কারণ, প্রতি মুহূর্তে আপনার চারপাশে বিস্তর তথ্য মাইক্রোওয়েভে বা রেডিওওয়েভে এদিক ওদিক যাচ্ছে। অথচ আপনার মাথার রিসিভারের এন্টেনা এ সবের কিছুই ধরতে পারছে না।

তবে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দাবী করে যে এরকম টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ করা সম্ভব[২৩]। শুধু তাইনা তাদের মতে মানুষের ব্রেন হচ্ছে চিন্তার ট্রান্সমিটার ও রিসিভার[২৪]। এর একটা অদ্ভুত ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে-

প্রতিটি মন হচ্ছে বিশ্বমন নামক এক সুপার সুপার সুপার কম্পিউটাররূপী মহাজাগতিক জ্ঞানভান্ডারের (Cosmic information super highway) এক একটি টার্মিনাল। সুপার কম্পিউটারের যতগুলো টার্মিনালই থাকুক না কেন, যে কোন টার্মিনাল থেকে ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে বা সুপার কম্পিউটারের কেন্দ্রের সাথে যেমন যোগাযোগ করা যায়, তেমনি মন ধ্যানের স্তরে বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সি সৃষ্টি হলে বিশ্বমনরূপী মহাজাগতিক জ্ঞানভান্ডারের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত তথ্য লাভ করে।[২৫]

Cosmic information super highway জিনিসটা কোথায় আছে বা কিভাবে আছে তার কোন ব্যাখ্যা নেই বইটিতে। শুধু যে বইটিতে ব্যাখ্যা নেই তাই না, মহাজ্ঞানী Google ও এর সঠিক কোন হদিস দিতে পারেনি। তবে যদি ধরেও নেই যে এই ধরণের একটা কম্পিউটার রয়েছে, তারপরও আমরা বেশ সমস্যায় পড়ব। সমস্যাটা হবে এই কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে। আমাদের চিন্তার ফ্রিকোয়েন্সি কত সেটা নিয়ে কোন ব্যাখ্যা নেই বইটিতে। তবে ব্রেন ওয়েভের কথা বলা হয়েছে[২৪], যা আদতে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের বিভিন্ন নিউরাল অ্যাক্টিভিটির কাজ করার ছন্দকে প্রকাশ করে[২৬], এর সাথে চিন্তা তরঙ্গের কোন সম্পর্ক নেই। তাছাড়া ব্রেইনওয়েভের যে ফ্রিকোয়েন্সি উল্লেখ করা আছে (সর্বোচ্চ ২৭ হার্জ বা তার বেশি, সর্বনিম্ম ০.৫ হার্জ) তা দিয়ে তারছাড়া (wireless) যোগাযোগ একেবারেই সম্ভব না। সফলভাবে ওয়্যারলেস যোগাযোগের জন্য সর্বনিম্ম যে ফ্রিকোয়েন্সি দরকার তা হল ৩০০০ হার্জ[২৭]। এর চেয়ে কম হলে যোগাযোগ করা খুবই কষ্ট হয়ে পড়বে। যার কারণে এর চেয়ে নিচে কোন ফ্রিকোয়েন্সিতে যোগাযোগ করার কোন চেষ্টা করা হয়না। তাছাড়া আমরা যখন যোগাযোগের জন্য কোন সিগনাল পাঠাই তখন সেটাকে মডুলেশন নামে একটা পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠাই। আমাদের গলার স্বরের ফ্রিকোয়েন্সি মোটামুটি ৪০০০ হার্জ। এটা খুব দুর্বল ফ্রিকোয়েন্সি বিধায় একে একটা শক্তিশালী ফ্রিকোয়েন্সির উপর চাপিয়ে পাঠানো হয়। এই পদ্ধতিটির নামই হচ্ছে মডুলেশন। মোবাইল ফোন বা রেডিও – সব কিছুই এই পদ্ধতিটি মেনে চলে। যে কারণে আমাদের খালি গলার আওয়াজ খুব অল্প দুরত্ব পর্যন্ত শোনা গেলেও, রেডিও বা ফোনে সেটাকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া বা তার চেয়েও দুরত্বে শোনা যায়। মডুলেশনের কয়েকটি বহুলব্যবহৃত ভাগের নাম অবশ্য সবারই জানা – অ্যাম্প্লিচিউড মডুলেশন (এএম) ও ফ্রিকোয়েন্সি মডুলেশন (এফএম)। এএম রেডিও বা এফএম রেডিওতে এসব মডুলেশন ব্যবহার করা হয়। তাই এর চেয়ে কম ফ্রিকোয়ন্সিতে কেউ কোন মাধ্যম ছাড়া যোগাযোগ করছে, তাও আবার মডুলেশন পদ্ধতি ছাড়া – এই অযৌক্তিক ব্যাপারটা বিজ্ঞান কখনোই মেনে নিতে পারেনা।

অবশ্য বইটিতে টেলিপ্যাথির সফল প্রয়োগের একটা উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে-

অ্যাপোলো-১৪-এর নভোচারী এডগার মিচেল চন্দ্র পৃষ্ঠ থেকে ভূ-নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিউস্টনের সাথে টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ স্থাপন করেন। এই যোগাযোগ এত সফল হয়েছিল যে, নভোচারী মিচেল ভূপৃষ্ঠে ফিরে এসে গড়ে তোলেন এক নতুন প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট অব নিইটিক সাইন্সেস।[২৫]

এডগার মিচেলের এই কাহিনী যে ধাপ্পা সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে বহু আগেই প্রমাণিত হয়ে গেছে[২৮]। অথচ এই ধাপ্পা কাহিনীটিকেই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন টেলিপ্যাথির প্রমাণিত উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছে। সত্যিকারের বিজ্ঞানের কাছে টেলিপ্যাথি হচ্ছে অপবিজ্ঞান।

এবং চুম্বক পানি

চুম্বক এবং পানি – দুটোকেই আলাদাভাবে বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারলেও, চুম্বকায়িত পানির কোন বৈজ্ঞানিক অস্তিত্ব নেই। তবে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে এই অবৈজ্ঞানিক জিনিসটার বেশ কদর আছে। কদরের উদাহরণ-

পানীয়ের রাজা চুম্বক পানি। নিয়মিত চুম্বক পানি পানে হজম শক্তি ও ক্ষুধা বাড়ে, এসিডিটি হ্রাস পায়, আলসার ও মূত্রাশয়ের ব্যাধি নিরাময় হয়, গলব্লাডার ও কিডনিতে পাথরসহ দেহে অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু জমাট বাঁধতে পারে না।[২৯]

প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক যে কেন চুম্বকায়িত পানির কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই? তার আগে আমরা দেখি যে চুম্বক নিয়ে বিজ্ঞান কি বলে। বিজ্ঞান বলে যে চুম্বকের চুম্বকত্বের কারণে চুম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। এই চুম্বক ক্ষেত্র অদৃশ্য কিন্তু এর মাধ্যমেই চুম্বকের প্রায় সব ধর্ম প্রকাশ পায়; এটা একটি বল যা তার চারপাশের ফেরোচৌম্বক পদার্থকে আকর্ষণ করে এবং অন্য চুম্বককে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করে। চুম্কবকে আকর্ষণ করতে হলে অন্য পদার্থকে অবশ্যই ফেরোচৌম্বক (Ferromagnetic) হতে হবে[৩০]। লোহা ফেরোচৌম্বক হলেও পানিকে নিয়ে হচ্ছে সমস্যা। এটি মোটেও ফেরোচৌম্বক নয়, যার কারণে চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করতে পারলেও পানিকে পারেনা। ফেরোচৌম্বক পদার্থে ছোট ছোট ম্যাগনেটিক ডোমেইন থাকে। এসব ডোমেইন বিভিন্নদিকে মুখ করে থাকে। বিভিন্ন দিকে মুখ করে রাখার করার কারণে এতে চৌম্বকত্ত্ব থাকেনা। কিন্তু ফেরোচৌম্বক পদার্থটিকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে ম্যাগনেটিক ডোমেইনগুলো উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু বরাবর একইদিকে মুখ করে থাকে। ফলে তখন পদার্থটি তখন চৌম্বকত্ত্ব দেখায়[৩১]। কিন্তু পানি ডায়াচৌম্বক (Diamagnetic) পদার্থ হবার কারণে চৌম্বকত্বের এই ধর্ম দেখায় না। শুধু তাইনা, পানির ম্যাগনেটিক সাসেপ্টিবিলিটি খুবই নগন্য, প্রায় নেগেটিভ ০.৯১। যার ফলে বলা যায় যে এর মাঝে কোন চৌম্বকত্ব নেই। যতটুকু আছে সেটা একেবারেই না থাকার সমান।[৩২]

অবশ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ভাষ্যমতে চুম্বকপানির পুরো প্রসেসটি বেশ সোজা, শুধু চুম্বকপানি ভর্তি বোতলে সাধারণ পানি রিফিল করলেই নতুন পানি চুম্বকপানি হয়ে যাবে –

এক বোতল চুম্বক পানি থেকে এক গ্লাস খেয়ে স্বাভাবিক এক গ্লাস পানি পুনরায় বোতলে ঢেলে রাখুন। চুম্বক পানির স্পর্শে নতুন পানিও চুম্বকায়িত হবে। এভাবে ৬ মাস অনায়াসে চালাতে পারবেন।[৩৩]

যেখানে বোতলে প্রথমবার রাখা পানির নিজেরই চৌম্বকত্ব নেই, সেখানে সে কিভাবে পরেরবার যোগ করা পানিকে চৌম্বক করে ফেলবে? আরো বড় কথা হল যে, বিজ্ঞান থেকেই দেখলাম যে চুম্বক দিয়ে পানির কোন গুনাগুনই পাল্টাচ্ছেনা, তাহলে চুম্বক পানি আর সাধারণ পানির মধ্যে পার্থক্য কি থাকল? আসলেই কোন পার্থক্য নেই। চুম্বকপানির নামে আসলে যা রয়েছে তা একদম সাধারণ পানি। মানুষের বিশ্বাস ও অজ্ঞতাকে পুঁজি করে চুম্বকপানির নামে সাধারণ পানি চালিয়ে দেবার এইসব ব্যাপার বেশ পুরনো[৩৪]।

তো সায়েন্স অফ লিভিং বা জীবন যাপনের বিজ্ঞান নিয়ে যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কাজ করার কথা বলছে, তারা আসলে বিজ্ঞানের কোন কিছুই অনুসরণ করছেনা। কোয়ান্টাম, কসমিক, সুপারহাইওয়ে, টেলিপ্যাথি, চুম্বক-পানি ইত্যাদি কিছু সায়েন্স ও সায়েন্স-ফিকশন টার্ম টেনে নিয়ে এসে অবৈজ্ঞানিক কোন কিছুকে বৈজ্ঞানিক বলে দাবী করার প্রয়াস অনেক পুরনো। সেজন্যই বলছিলাম যে বাংলাদেশে “বৈজ্ঞানিক” বেশ জনপ্রিয় একটি শব্দ। লোকজন বিজ্ঞান বুঝুক আর না বুঝুক, বিজ্ঞানের প্রতি তাদের চরম শ্রদ্ধা রয়েছে। তারা মনে করে কোন কিছুতে “বিজ্ঞান” শব্দটি থাকলে সেখানে ভুল কোন কিছু থাকতেই পারেনা। তাই চরম অবৈজ্ঞানিক ব্যপারেও “বৈজ্ঞানিক” বা “বিজ্ঞান” শব্দ বসিয়ে নিলে লোকজন তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। যার কারণে বিজ্ঞানের ধারেকাছে না ঘেঁষে অপবিজ্ঞানকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠা কোয়ান্টাম মেথডকে লোকজন বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিনিয়ত ভুল করে যাচ্ছে।

ইসলাম ধর্ম

শুরুতেই বলে নেই, যারা মনে করেন যে বিজ্ঞান মানেই নাস্তিকতা, আমি তাদের দলে নই। আমি বিশ্বাস করি আমাদের চারপাশের মহাবিশ্বে যা যা ঘটছে বিজ্ঞান সেসবের নিয়মগুলো বের করে চলেছে। ঘটনাগুলো বিজ্ঞান ঘটাচ্ছেনা, নেপথ্যে অন্য কেউ রয়েছে। বিজ্ঞানী নিউটন বলের তিনটি সূত্র বের করে অমর হয়ে আছেন, কিন্তু সেই সূত্রগুলো কে তৈরি করেছে? বিজ্ঞানী ওহম একটা ইলেক্ট্রিক সার্কিটের মধ্যে কারেন্ট ও ভোল্টেজের মধ্যকার সম্পর্কটি বের করেছিলেন, কিন্তু সেই সম্পর্কটি তৈরি করেছিলই বা কে? এই মহাবিশ্বের সবকিছু যে নিয়ম মেনে ঠিকঠাকমত চলছে সেই নিয়মকানুনগুলো কে তৈরি করেছে? এভাবে চিন্তা করলে সবকিছু একজন সৃষ্টিকর্তাকেই স্মরণ করিয়ে। যে কারণে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছিলেন –

আমি নাস্তিক নই এবং আমি নিজেকে সর্বেশ্বরবাদেবিশ্বাসীও বলি না। আমরা আসলে ছোট্ট একটা শিশুর জায়গায় আছি যাকে বিশাল একটা লাইব্রেরিতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ভাষায় রচিত বহু বই সাজিয়ে রাখা আছে। শিশুটি জানে যে এই বইগুলো অবশ্যই কেউ একজন লিখেছে। সে জানেনা যে কিভাবে লেখা হয়েছে। সে বইগুলোতে ব্যবহৃত ভাষাগুলোও জানেনা। শিশুটি অনুমান করছে যে বইগুলোকে সাজিয়ে রাখার ব্যপারে একটা রহস্যময় ব্যাপার আছে কিন্তু জানেনা যে সেটা কি। এটাই হচ্ছে আমার মতে স্রষ্টার প্রতি সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষটির আচরণ। আমরা একটা অসাধারণভাবে সাজানো গুছানো মহাবিশ্ব দেখি যা বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলে, কিন্তু সেসব নিয়মকানুনের খুব নগন্য অংশই আমাদের বোধগম্য। আমাদের সীমিত জ্ঞান এই মহাবিশ্বের পেছনের চালিকাশক্তিকে পুরোপুরি বুঝতে পারেনা।

সেজন্য আমি নিজেকে আস্তিক বলেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ধর্মবিশ্বাসে আমি একজন মুসলিম। আমি বিশ্বাস করি আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহতা’লা। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স) তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। বিশ্বের সিংহভাগ মুসলিমের মত আমিও একজন সুন্নি[৩৫]। সুন্নিদের মূল বৈশিষ্ট্য হল তারা জীবনের সবক্ষেত্রে রাসুল (স) এর জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করেন। সকল সুন্নিদের মত তাই আমিও বিশ্বাস করি আমাদেরকে কিভাবে চলতে হবে বা জীবন যাপন করতে হবে তার সবকিছুই কুরআন ও হাদীসে বলে দেয়া আছে।

এইবার নিশ্চয়ই ভাবছেন যে এত কিছু থাকতে কোয়ান্টাম মেথডের ভেতর ইসলাম ধর্ম কেন টেনে আনলাম? আসলে আমি টেনে আনিনি। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নিজেরাই কোয়ান্টাম মেথডের মাঝে ইসলামকে টেনে এনেছেন[৩৬]। কারণ “বৈজ্ঞানিক” শব্দটির মতই আমাদের দেশের আরেকটি জনপ্রিয় শব্দ হল “ইসলাম”। মুসলিম ধর্মালম্বীর সংখ্যাগরিষ্ঠতার এ দেশের মানুষ অনেক আগে থেকেই ধর্মভীরু। এই ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই যেকোন কিছুর গায়ে “ইসলামিক” বা “হালাল” – এইসব শব্দ চাপিয়ে দিয়ে নিজের কাজ সেরে নিচ্ছে। এজন্য বাজারে “হালাল সাবান” কিংবা “ইসলামিক ফোন” দেখা যায়। মুদরাবার সব নিয়ম না মেনে চলা “ইসলামিক ব্যাংকিং” দেখা যায়। এসবের পাশাপাশি দেখা যায় “ইসলাম” লেবেল চাপানো বিভিন্ন পীরদের অবাধ ব্যবসার দৌরত্ম্য। নিজে জেনে-বুঝে ইসলাম পালন করার চেষ্টা এখন নিতান্তই ক্ষুদ্র ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাঝে সীমাবদ্ধ। তাই যেকোন মতবাদ, তা ইসলামের সাথে যতই সাংঘর্ষিকই হোক না কেন “ইসলামিকভাবে” প্যাকেট করে ধর্মভীরুদের সামনে তুলে ধরা হলে তা কোন প্রশ্ন ছাড়াই গ্রহনযোগ্য হয়ে পড়ে। এভাবে ধর্মভীরু মানুষদের ধর্ম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে বিভ্রান্ত করার কৌশল অনেক আগে থেকেই চলে আসছে।

আগেই বলেছি আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। আমার এই সীমিত জ্ঞানে বিদা’ত, কুফর ও শিরক নিয়ে যা বুঝি তাতে ইসলামের মূলনীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এমন অনেক কিছুই কোয়ান্টাম মেথডে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। তবে তার আগে আমরা ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়ের পর্যালোচনা করি। বিষয়গুলো পরিস্কার না হলে বক্তব্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়বে।

ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়

বিদআত

বিদআত প্রসঙ্গে আল্লামা ইব্রাহীম ইবন মুসা আল-শাতিবী বলেন:

বিদআত বলতে বুঝায় দ্বীনের মধ্যে শরীয়াতের পদ্ধতির তূল্য কোন নব-আবিষ্কৃত উদ্ভাবিত তরীকা বা পদ্ধতি, মহান আল্লাহর অতিরিক্ত ইবাদাতের আশায় যে পদ্ধতির অনুসরণ করা হয়। [৩৭]

অর্থাৎ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা অনুমোদন দিয়েছেন তা ব্যতীত নতুন কোন কিছু যোগ করাটাই হচ্ছে বিদআত। তারমানে এমন কোন ইবাদত না করা যা আল্লাহতা’লার রাসুল নিজেও করেননি এবং আমাদের করতে বলেননি। বিদআত অবশ্যই বর্জনীয়। বিদ’আত মূলত বর্জনের সুন্নাতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ইবাদতের উদ্দীপনাতেই এর সৃষ্টি।

অনেকেই এক্ষেত্রে প্রশ্ন করে থাকেন যে আল্লাহর রাসূল এরোপ্লেনে চড়েননি, তাহলে কি প্লেনে চড়া বিদআত? আমাদের দেখতে হবে আল্লাহর রাসূলের এই বর্জন কি ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত? এবং এটি ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট কীনা? বিদ’আত সবসময় ইচ্ছাকৃত বর্জন এবং অবশ্যই ইবাদাতের সাথে সংশ্লিষ্ট। রাসুল (স) এর সময় এরোপ্লেন ছিলনা – তাই এটা অনিচ্ছাকৃত বর্জন এবং এরোপ্লেনে চড়া ইবাদত নয়। তাই এটা বিদআত নয়।

তাই কোন কিছু বিদআত নাকি বিদআত নয় তা জানতে হলে আমাদের অবশ্যই নিচের কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে –

  • প্রথমেই দেখতে হবে তা ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট কিনা। হতে পারে তা কোন কথা, কাজ বা বিশ্বাস।
  • ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট হলে দেখতে হবে আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সাহাবীরা এই পদ্ধতিটি সম্পর্কে জানতেন কিনা।
  • যদি না জেনে থাকেন, তবে তাঁর উৎস ওহী নয়। আর ইসলামে সকল ইবাদতের উৎস একমাত্র ওহী।
  • যদি জেনে থাকেন, তবে তাঁরা তার উপর আমল করেছিলেন কিনা।

আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সাহাবীরা যদি এমন কিছুর আমল না করে থাকেন, তবে আমাদেরও উচিত তাঁদের দেখানো পথ অনুসরণ করে এমন কিছুর উপর আমল না করা, কারণ তাঁরাই ইসলামের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম এবং আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় আদর্শ।

ইসলাম একটি পূর্ণাংগ এবং ত্রুটিমুক্ত জীবনব্যবস্থা, এতে নতুন কিছু সংযোজন বা পুরনো কিছু বিয়োজনের কোন অবকাশ নেই। রাসূল (সা) বলেন –

সত্যতম বাণী আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদের আদর্শ, সবচেয়ে খারাপ বিষয় হল নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) আর প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। [৩৮]

তাই কেউ যদি দাবি করেন যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এমন কোন কাজ বা পন্থা বা ইবাদত রয়েছে যা ইসলামে উল্লেখ করা নেই, তবে তিনি প্রকারান্তরে দাবী করছেন যে –

  • আল্লাহর ওহী অসম্পূর্ণ, রাসূল (সা) আমাদেরকে যা জানিয়েছেন, তার চেয়ে উত্তম কিছু তিনি আবিষ্কার করেছেন।
  • রাসূল (সা) তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেননি, ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আরো উত্তম পন্থা তিনি আমাদের দিয়ে যাননি।

একজন মুসলিম হিসেবে আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছি যে, উপরোক্ত দুটি চিন্তার উভয়টি বা যে কোন একটি আমাদেরকে ইসলামের বাইরে নিয়ে যায়। কারণ কুরআন ও হাদীস দিয়ে আমাদের স্পষ্টভাবে কি করতে হবে বা না করতে হবে তা বলে দেয়া আছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স) বলেন-

যা কিছু কাউকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে অথবা আগুন থেকে দূরবর্তী করে তার এমন কিছুই নেই যা কিনা তোমাদের জন্য স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়নি। [৩৯]

কুফর

কুফরীর আভিধানিক অর্থ আবৃত করা ও গোপন করা। আর শরীয়তের পরিভাষায় ঈমানের বিপরীত অবস্থানকে কুফরী বলা হয়। কেননা কুফরী হচ্ছে আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান না রাখা, চাই তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক কিংবা না হোক। কুফর সম্পর্কে আল্লাহতা’লা বলেন-

নিশ্চয় যারা কুফরী করে, তাদের না ধন-সম্পদ এবং না তাদের সন্তানাদি আল্লাহর বিপক্ষে কোন কাজে আসবে। আর তারা আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।[৪০]

ইসলামই যে একমাত্র জীবনব্যবস্থা তা জানাবার জন্য আল্লাহতা’লা বিদায় হজ্জ্বের মাঠে নিচের দুটি আয়াত নাযিল করেন-

আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [৪১]

আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। [৪২]

আয়াত দুটি নাযিল হবার পর পৃথিবীতে কেবল দু’টি দ্বীন রয়েছে, “দ্বীন আল-ইসলাম” আর “দ্বীন আল-কুফর” – সুতরাং একজন মানুষ হয় “মুসলিম” নয় “কাফির”! ইসলাম ছাড়া আর সকল দ্বীন এবং সেগুলোর ধর্মগ্রন্থ ও নিয়মকানুন – সব বাতিল হয়ে গেছে। এই কথারই প্রতিফলন নীচের কথাগুলোতে –

It is the final religion which abrogates all religions and laws that came before it There is no religion on earth according to which Allaah is to be worshipped apart from Islam. [৪৩]

মুসলমান ও কাফিরদের মাঝে পার্থক্যের রেখা হচ্ছে ঈমান। কেউ যদি ঈমান হারায় তবে সে সব কিছুই হারালো। আল্লাহতা’লার উপর ঈমান আনা মানে হচ্ছে তাঁর আদেশ নিষেধ সবকিছু মেনে চলা। তাঁর কথা অমান্য করার অর্থই হল মুসলিমদের কাতার থেকে নাম মুছে কাফিরদের কাতারে নাম লেখানো।

শিরক

শিরক শব্দের আভিধানিক অর্থ- অংশীদারিত্ব, অংশীবাদ, মিলানো, সমকক্ষ করা, অংশীস্থির করা, সমান করা, ভাগাভাগি, সম্পৃক্ত করা। ইংরেজীতে Polytheism (একাধিক উপাস্যে বিশ্বাস), Sharer, Partner, Associate। শরীয়তের পরিভাষায়, যেসব গুনাবলী কেবল আল্লাহর জন্য নির্ধারিত সেসব গুনে অন্য কাউকে গুনান্বিত ভাবা বা এতে অন্য কারো অংশ আছে বলে মনে করাই শিরক।

শিরক হচ্ছে বান্দা আল্লাহর সাথে তাঁর রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত কর্ম কিংবা তাঁর জাত ও আসমা ওয়াস সিফাতে তথা নাম ও গুনাবলী অথবা উলুহিয়্যাতে (ইবাদতে) কাউকে শরীক করা। [৪৪]

অর্থাৎ আল্লাহর সাথে এমন বিষয়ে সমকক্ষ স্থির করা যেটা আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য। যেমন- আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করা, অন্য কারো নিকট আশা করা, আল্লাহর চাইতে অন্য কাউকে বেশী ভালবাসা, অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতের কোন একটি অন্যের জন্য করাকে শিরক বলে। শিরকের ক্ষেত্রে একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, এতে দু‘শরীকের অংশ সমান হওয়া আবশ্যক নয়। বরং সহস্রভাগের একভাগের অংশীদার হলেও তাকে অংশীদার বলা হয়। তাই আল্লাহতা‘লার হকের সামান্যতম অংশ অন্যকে দিলেই তা শিরকে পরিণত হবে, এতে আল্লাহর অংশটা যতই বড় রাখা হোক না কেন।

শিরক অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এ ব্যপারে আল্লাহতা’লা বলেন –

তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না।[৪৫]

হে বনী ইসরাইল! তোমরা আমার রব এবং তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদত কর। কেউ আল্লাহর শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম। [৪৬]

আহলে কিতাব ও মুশরিক কাফেররা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। [৪৭]

যদি তোমরা তাদের (মুশরিকদের) কথামত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হবে। [৪৮]

উপরের আয়াতগুলোতে আল্লাহতা’লা মুসলিমদেরকে শিরক থেকে সাবধান করে দিয়েছেন যে, যদি তারা মুশরিকদের আক্বীদা-বিশ্বাস, কাজ-কর্মে আনুগত্য করে তাহলে তারা মুশরিক হয়ে যাবে। শিরক মূলত এ পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যকেই অস্বীকার করে। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘য়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য, এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন –

আমি মানব এবং জ্বিন জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।[৪৯]

শিরকের মাধ্যমে আল্লাহর মর্যাদা এবং নিরংকুশ সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন করা হয়। আল্লাহ হচ্ছেন আমাদের রব এবং ইলাহ, আর আমরা হচ্ছি তার বান্দা বা দাস। যা কিছু আছে সবই আল্লাহর সৃষ্টি। প্রধান কয়েক ধরণের শিরকগুলো একটু আমরা দেখে নেই[৫০] –

রবুবিয়াতের ক্ষেত্রে শিরক – এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ’র পাশাপাশি অন্য রব বা সৃষ্টিকর্তা আছে।

ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক – এটা হল আল্লাহ্’র সাথে অন্যের ইবাদত করা, যেমন নবীদের এবং নেককার বান্দাদের। যেমন অনেকেই বিপদে পড়ে নেককার বান্দাদের কাছে সাহায্য চায়, বেশিরভাগ সময়ই লোকজন মাজারে গিয়ে মৃত পীর-আউলিয়াদের কাছে সাহায্য চায়। এ জাতীয় কাজ শিরক।

আল্লাহতা’লার গুণের মধ্যে শিরক – আল্লাহর কোন সৃষ্টিকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট গুণে ভূষিত করা হলেও শিরক হবে। যেমন গায়েব (ভবিষ্যৎ) এর ইলম জানা। অর্থাৎ কেউ যদি দাবী করেন যে সে ভবিষ্যৎ জানে বা ভবিষ্যতে কি হবে তা দেখতে পায় তবে তা শিরকের পর্যায়ে পড়বে।

বিদাত ও কুফর

আমরা আগেই দেখেছি যে, বিদআত আমাদের ভাবতে শেখায়-

  • আল্লাহর ওহী অসম্পূর্ণ, রাসূল (সা) আমাদেরকে যা জানিয়েছেন, তার চেয়ে উত্তম কিছু তিনি আবিষ্কার করেছেন।
  • রাসূল (সা) তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেননি, ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আরো পন্থা তিনি আমাদের দিয়ে যাননি।

অন্যকথায় আমরা আসলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বাণী ও কাজে সন্দেহ প্রকাশ করছি যে তাঁরা যা বলেছেন তার চেয়েও উত্তম ব্যবস্থা রয়েছে। এই ভাবনাটা কিন্তু আমাদের ঈমানকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার মত একটা পদক্ষেপ। চিন্তা করুন – আপনার প্রতিপালক তাঁর রাসুলের মাধ্যমে আপনাকে ইবাদতের ব্যপারে যা শিখিয়েছেন, আপনি বিশ্বাস করছেন যে তার চেয়েও ভাল কোন নিয়ম আপনার কাছে রয়েছে। অর্থাৎ ইবাদতের ক্ষেত্রে রাসুল (স) এর শেখানো পদ্ধতি আপনার কাছে অপ্রতুল মনে হচ্ছে। অর্থাৎ সর্বকালের সর্বশ্রষ্ঠ মানব রাসুল (স) নিজে যেভাবে ইবাদত করেছেন সেটা আপনার কাছে পর্যাপ্ত মনে হচ্ছেনা – কী ভয়ানক কথা! আর এই বিশ্বাসই আপানকে কুফরে নিমজ্জিত করে ফেলবে।

বিদাত ও শিরক

মূর্তিপূজা যে শিরকের সবচেয়ে প্রকাশ্য এবং জঘন্য রূপ এ ব্যাপারটি সর্বজনস্বীকৃত। আল্লাহ পাক আল কুর’আনে হয়রত নূহ (আ) এর জাতির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছেন-

এবং বলেছিল, ‘তোমরা কখনও পরিত্যাগ করো না তোমাদের দেব-দেবীকে; পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া’আ, ইয়াগূস, ইয়া’ঊক ও নাসর-কে’। [৫১]

এতে হয়রত নূহ (আ) এর জাতির যে উপাস্যগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তা ছিল তাদের পূর্ববর্তী যুগের সৎকর্মশীলদের নাম। কিন্তু তাদের পূজা কিভাবে শুরু হল সেটা আমরা জানতে পারি নিচের হাদীস থেকে –

হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কায়েস (রহ.) বলেন যে, ঐ লোকগুলো ছিলেন আল্লাহর ইবাদাতকারী, দ্বীনদার,আল্লাহ ওয়ালা ও সৎ। তাঁরা হযরত আদম (আঃ) ও নূহ (আ) এর ছিলেন সত্য অনুসারী,যাদের অনুসরণ অন্য লোকেরাও করতো। যখন তারা মারা গেলেন। তখন তাদের অনুসারীরা পরস্পর বলাবলি করলোঃ ‘যদি আমরা এদের প্রতিমূর্তি তৈরী করে নেই, তবে ইবাদাতে আমাদের ভালভাবে মন বসবে এবং এদের প্রতিমূর্তি দেখে আমাদের ইবাদাতে আগ্রহ বাড়বে।’ সুতরাং তারা তাই করল। অতঃপর যখন এই লোকগুলোও মারা গেল এবং তাদের বংশধরদের আগমণ ঘটল, তখন শয়তান তাদের কাছে এসে বললোঃ ’তোমাদের পূর্বপুরুষরাতো ঐ বুযুর্গ ব্যক্তিদের পূজা করত এবং তাদের কাছে বৃষ্টি ইত্যাদির জন্য প্রার্থনা করত। সুতরাং তোমরাও তাই করো।’ তারা তখন নিয়মিতভাবে ঐ মহান ব্যক্তিদের পূজা শুরু করে দিল।[৫২]

উপরের কথাগুলো থেকে কয়েকটি বিষয় একটু মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে-

  • প্রথমে নূহের জাতির জন্য স্মারক বানানোর পুরো ব্যাপারটির উদ্দেশ্যই ছিল সৎ-আল্লাহর ইবাদাতে মনোযোগ বৃদ্ধি। কিন্তু এই পদ্ধতিটি ঐশী বাণী দ্বারা সমর্থিত ছিলনা। ইসলামী পরিভাষায় একে আমরা স্বচ্ছন্দে বিদ’আত হিসেবে অভিহিত করতে পারি।
  • বিদআত রাতারাতি শিরকে পরিণত হয়না (সাধারণত), কয়েক প্রজন্ম সময় লাগে।
  • শয়তান আপাতদৃষ্টিতে ভাল পরামর্শই দিয়ে থাকে। ঐশী জ্ঞানের সাহায্য ছাড়া তার কুটকৌশল বোঝা কঠিন।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে বিদআত আসলে কুফর ও শিরকের পথে আমাদের চালিত করে। যার ফলে বিদআত সম্পর্কে আমাদের শুরু থেকেই সতর্ক হতে হবে – না হলে এই বিদআতই আমাদেরকে কুফর ও শিরকের মাঝে নিয়ে ফেলে দিবে।

কোয়ান্টাম মেথড – শূন্য কথা

কোয়ান্টাম মেথড বলতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কি বোঝাচ্ছে সেটা আমাদের জানা দরকার। এই লেখাটিরই “বিজ্ঞান” পর্বে আমরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নিয়ে হালকাপাতলা পরিচিতিপর্ব সেরে ফেলেছিলাম। এই পর্বে আমরা আরো বিশদভাবে পরিচিত হব এই ফাউন্ডেশনের সাথে – একেবারে শূন্য লেভেল থেকে।

মেডিটেশন বা ধ্যানচর্চা

সবার মাঝে ধ্যানচর্চা ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যে নব্বইয়ের দশকে যোগ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। কালপরিক্রমায় সেটাই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নাম নিয়ে বর্তমানে পথ চলছে। দেশে বিদেশে প্রচুর শাখা খুলে বসেছে এই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মূলমন্ত্রই হল ধ্যান বা মেডিটেশন করা, ধ্যান বা মেডিটেশন করে অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার অধিকারী হওয়া। আর সেই ক্ষমতাবলে আপনি দূর করবেন আপনার সকল সীমাবদ্ধতা। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলে-

মানুষের অসীম শক্তি ও সম্ভাবনাকে সবসময় শৃঙ্খলিত ও পঙ্গু করে রাখে সংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। … এই ভ্রান্ত ধারণার শিকল ভেঙে মুক্ত বিশ্বাসে উপনীত হওয়াটাই হচ্ছে মানুষের আসল স্বাধীনতা। কারণ মুক্ত বিশ্বাস হচ্ছে সকল সাফল্য, সকল অর্জনের ভিত্তি। বিশ্বাসই রোগ নিরাময় করে, ব্যর্থতাকে সাফল্যে আর অশান্তিকে প্রশান্তিতে রূপান্তরিত করে। বিশ্বাসই মেধাকে বিকশিত করে, যোগ্যতাকে কাজে লাগায়, দক্ষতা সৃষ্টি করে। বিশ্বাসই অভাব দূর করে, প্রাচুর্য সৃষ্টি করে। …ভ্রান্ত ধারণা ও সংস্কারের শৃঙ্খল মুক্তির পথ হচ্ছে মেডিটেশন। … তখন প্রতিবারের প্রার্থনাতেই আপনি পুলকিত হবেন, প্রতিটি সেজদাই পরিণত হবে মেরাজে। … মেডিটেশনের মাধ্যমেই আপনি সংযোগ সাধন করতে পারেন আপনার ‘অন্তরের আমি’র সাথে, আপনার শক্তির মূল উৎসের সাথে। … মেডিটেশনের পথ ধরেই আপনি লাভ করবেন পারিপার্শ্বিক দুষ্টচক্রের শৃঙ্খল ভাঙার অন্তর্গত শক্তি। … আপনি অতিক্রম করবেন আপনার জৈবিক অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা। [৫৩]

মেডিটেশনের কথা বলতে গিয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলছে যে হযরত ইউসুফ (আ) ধ্যান করতেন এবং ধ্যান করেই তিনি সকল সাফল্য লাভ করেন –

বরং কারাগারে নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করার সাধনায় নিজেকে নিয়োগ করেন। বন্দী জীবনকে তিনি ধ্যানের মাধ্যমে আত্মশক্তিতে বিকশিত করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন।[৫৪]

এই ধ্যানচর্চা জিনিসটা কি সেটা বোঝানোর জন্য একটা ব্রেন ওয়েভ প্যাটার্ণ সারণী দেয়া হয়েছে[৫৫], যেখানে থিটা লেভেল সম্পর্কে বলা হয়েছে মেডিটেশনকালে সাধকরা এই স্তরে প্রবেশ করেই মহাচৈতন্যের (super consciousness) সাথে সংযোগ স্থাপন করতেন। এর পরবর্তী লেভেল ডেল্টাতে বলা হয়েছে যে দরবেশ ঋষিরা এই স্তরেও সজাগ থাকেন আবার মহাচৈতন্যে লীনও হতে পারেন। তবে এই মহাচৈতন্যে জিনিসটির সুস্পষ্ট বা অস্পষ্ট কোন ধরণের সংজ্ঞাই বইটির কোথাও দেয়া নেই।

মেডিটেশনের প্রথম ধাপ হচ্ছে ‘শিথিলায়ন’ যার মাধ্যমে ব্রেন ওয়েভকে আলফা লেভেলে নিয়ে মনের ধ্যানাবস্থা সৃষ্টি করা হয়। শিথিলায়নের মধ্য দিয়েই ধ্যানাবস্থায় যেতে হয়। ধ্যানাবস্থায় মানুষজন যা খুশি তাই ঘটিয়ে ফেলার এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার এক ঐশ্বরিক ক্ষমতা বা ঈশ্বরসমান ক্ষমতা লাভ করে। এই ক্ষমতা সম্পর্কে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলে –

শিথিলায়ন পুরোপুরি আয়ত্ত হলেই আপনি মনের শক্তিবলয় নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি হাতে পাবেন। ধ্যানাবস্থায় মন হয় ত্রিকালদর্শী, চেতনা অতিক্রম করে সকল বস্তুগত সীমা। মনের এই ধ্যানাবস্থার শক্তিকে প্রয়োগ করেই প্রাচ্যের সাধক দরবেশ ঋষিরা একদিন আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। ইচ্ছা করেছেন – ঘটনা ঘটেছে। ইচ্ছা করেছেন – মানুষ রোগমুক্ত হয়েছে। আপনিও এ চাবিকাঠিকে কাজে লাগিয়ে অর্জন করতে পারেন অতিচেতনা। এই চাবিকাঠি দিয়েই দৃশ্যমান সব কিছুর পেছনে যে নেপথ্য স্পন্দন ও নিয়ম কাজ করছে তার সবটাকেই আপনি নিজের ও মানবতার কল্যাণে সক্রিয় করে তুলতে পারবেন।[৫৬]

তো মোটামুটি এই হচ্ছে মেডিটেশন – যার মাধ্যমে একজন মানুষ অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে সাধু-ঋষিদির মত প্রকৃতির নেপথ্য স্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের ও অপরের ভাগ্য গড়ে নেয়।

মনছবি

শিথিলায়ন প্রক্রিয়ায় মানুষের মাঝে এমন এক ক্ষমতা তৈরি হয় যার ফলে সে তার কল্পনা শক্তি দ্বারাই নিজের চাওয়া পাওয়া পূরণ করে ফেলতে পারে, নিজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটিই হচ্ছে মনছবি। মনছবি ব্যবহার করে ঘটিয়ে ফেলা কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যমেই জানতে পারা যায় –

এক তরুণী। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করে ভাবছে কি করবে। সে মনছবি দেখল একটি চাকরির। এমন চাকরি যেখানে কাজ কম কিন্তু বেতন বেশি। সে নিয়মিত মনছবি দেখতে লাগল আর এ ধরনের কাজ যে সব প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যেতে পারে সেখানে ডাকযোগে বায়োডাটা পাঠিয়ে দিল। দেড় মাসের মধ্যে একটি বিদেশী দূতাবাসে চাকরি হয়ে গেল তার।[৫৭]

এক ইঞ্জিনিয়ার। সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার মনছবি দেখতে লাগল। ডিভি ভিসা পেয়ে গেল। ভিসা পাওয়ার পর মনছবি দেখতে লাগল সমমানের চাকরির, যাতে নিজের প্রকৌশল জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারেন। দেশে তিনি কাজ করতেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার দেড় মাসের মধ্যে একই প্রতিষ্ঠানে আগের চেয়েও দায়িত্বপূর্ণ পদে চাকরি হয়ে গেল তার।[৫৭]

অর্থাৎ কেবলমাত্র মনে মনে কল্পনা করেই যেকোন জিনিস ঘটিয়ে ফেলা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা আছে নেলসন ম্যান্ডেলা, মাওসেতুং, মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, উড়োজাহাজের আবিষ্কর্তা রাইট ভ্রাতৃদ্বয়, উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা দিলীপকুমার, মুষ্টিযোদ্ধা জর্জ ফোরম্যান কিংবা ফিলিস্তীনের হাজার হাজার জনতা – যারা (কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ভাষ্যমতে) মনছবি দেখে দেখে নিজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।[৫৮] অবশ্য যারা এটাকে ফ্যান্টাসি মনে করছেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতে তারা মূর্খ[৫৯]।

স্বপ্ন চর্চা ও আইচিং এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎগণনা

কোয়ান্টাম মেথডের আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ হচ্ছে স্বপ্নচর্চা বা স্বপ্নব্যাখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গণনা বা ভবিষ্যৎ দর্শন করা। স্বপ্নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দেখে নেয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার, কারণ মহামতি বুদ্ধের মা মায়াদেবী, শ্রী রাম কৃষ্ণ পরম হংসদেবের পিতা ক্ষুদিরাম, জুলিয়াস সিজার, প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, ইংরেজ কবি শেলী, কবি টেনিসন প্রমুখ স্বপ্নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দেখেছিলেন। তাছাড়া বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক ভন কাকুল, সেলাই মেশিন আবিষ্কারক ইলিয়াস হাওয়ে, বল বিয়ারিং-এর আবিষ্কর্তা জেমস ওয়াট সহ অনেক বিজ্ঞানীরা তাদের সমস্যার সমাধান স্বপ্নেই পেয়ে গেছেন।[৬০] এ ছাড়াও স্বপ্ন চর্চার ও ব্যাখ্যার অনুশীলন বলতে গিয়ে হয়রত ইউসুফ (আ) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে এও বলা হয়েছে যে হিন্দুদের স্বপ্ন চর্চার গুরুত্বপূর্ণ দলিল অথর্ববেদ বা বৌদ্ধভিক্ষুদের স্বপ্নচর্চাকারী সম্প্রদায় স্বপ্নযোগীর মত ইসলাম ধর্মেও আলেমদের অনেকে যে ‘ইস্তেখারা’ করে ভালমন্দ বলেন, তা-ও স্বপ্নচর্চা ও স্বপ্নের সৃজনশীল প্রয়োগেরই একটি বিশেষ মাত্রা।[৬০] অর্থাৎ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতে স্বপ্নচর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার প্রয়াস থেকেই বিভিন্ন আলেমগণ ইসলাম ধর্মে স্বপ্নচর্চা করে থাকেন এবং স্বপ্নচর্চার জন্য তারা ‘ইস্তেখারা’ সালাত আদায় করেন! শুধু স্বপ্নচর্চা নয় বরং “আইচিং” এর মাধ্যমেও ভবিষ্যৎ গণনার উপর শিক্ষা দেয়া হয় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে।[৬১] আইচিং হচ্ছে ভবিষ্যৎগণনার জন্য চীনদেশীয় একটা পদ্ধতি, যাতে মাটিতে কাঠি বা পয়সা ফেলে ভাগ্যগণনা করা হয়।[৬২]

কোয়ান্টাম নিরাময়

রোগের মূল কারণকে মানসিক আখ্যায়িত করে এখানে মেডিটেশনের মাধ্যমে সকল রোগ ব্যাধি উপশমের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে[৬৩]। মনছবি বা ইমেজ থেরাপি ছাড়াও রয়েছে ‘দেহের ভিতরে ভ্রমণ’ নামক পদ্ধতি যেখানে রোগীকে প্রথমে শিথিলায়ন করতে বলা হয়, তারপর শরীরের নানা অঙ্গের মধ্য দিয়ে কাল্পনিক ভ্রমণ করতে বলা হয়। এতে সে তার সমস্যার স্বরূপ সম্পর্কে অন্তদৃষ্টি লাভ করে এবং নিজেই কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সমাধান করতে পারে। যেমন-

একজন ক্যান্সারের রোগী তার ক্যান্সারের কোষগুলোকে কল্পনা করে সর্ষের দানারূপে।আর দেখে অসংখ্য ছোট ছোট পাখি ওই সর্ষে দানাগুলো খাচ্ছে। আর সর্ষের দানার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। আস্তে আস্তে সর্ষের দানা নিঃশেষ হয়ে আসছে। সর্ষের দানাও শেষ, নিরাময়ও সম্পন্ন। [৬৪]

শিথিলায়ন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা সম্পর্কে এতে বলা হয়েছে –

শিথিলায়নের মাধ্যমে ব্যথা উপশম করার জন্য আপনাকে সাধু সন্ন্যাসী বা ভিক্ষু হবার প্রয়োজন নেই। এজন্য নির্বাণ বা ফানাফিল্লাহর স্তরেও আপনাকে যেতে হবেনা।[৬৫]

এখানে যে নির্বাণ[৬৬] ও ফানাফিল্লাহ[৬৭] এর কথা বলা হচ্ছে তা হল যথাক্রমে বৌদ্ধধর্ম ও সুফিবাদ থেকে আগত ধ্যানের দুটি অবস্থা।

মাটির ব্যাংক

মাটির ব্যাংক হচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে মানত করে টাকা জমা করার একটি মাধ্যম। পরে জমাকৃত টাকাসহ মাটির ব্যাংকটি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অফিসে জমা দিতে হয়। এটি শুধু টাকা জমা রাখার পাত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হয়না বরং এটা দাতার জন্য কল্যানকর অনেক কিছু বয়েও আনে। এ ব্যাপারে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বক্তব্য হচ্ছে-
দাতা এর মাধ্যমে শুধু পারলৌকিক পুণ্য অর্জনের সুযোগই পান না, দৈনন্দিন জীবনেও পাচ্ছেন প্রাচুর্য, দুরারোগ্য ব্যধি থেকে মুক্তি এবং বালা-মুসিবত মুক্তি।[৬৮]

কল্যাণকর এরকম কিছু কাহিনী নিচে উল্লেখ করা হল-

ম্যানেজারের অসততার কারণে দুবাইতে আমার প্রথম চাকরিটি হারাতে হয়। কিন্তু হতাশ না হয়ে বিভিন্ন কোম্পানিতে সিভি ও ইন্টারভিউ দিতে থাকলাম। এর সাথে মাটির ব্যাংকে ১০০০ টাকা পাঠালাম ও মনছবি দেখতে লাগলাম সর্বনিম্ন ৩০০০ থেকে ৩৫০০ দিরহাম (৬০-৭০ হাজার টাকা) এর মধ্যে একটি চাকরি পাচ্ছি। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকার অর্থাৎ ২৫০০ দিরহামের কয়েকটি অফার এলো। আমি অফারগুলো ফিরিয়ে দিয়ে নিয়মিত মেডিটেশন ও মনছবি দেখতে লাগলাম। অবশেষে একটি গ্রুপ অফ কোম্পানিতে একাউনটেন্ট জেনারেল হিসেবে ৩০০০ দিরহাম বেতনে ১ মাসের মধ্যে চাকরি হয়ে গেল।[৬৯]

হোঁচট খেয়ে আমার ডান পায়ের হাঁটু ফুলে গেল। ব্যথার জায়গায় রক্ত জমে কালচে রং ধারণ করেছে। ঘুমানোর আগে ব্যথানাশক ওষুধ খেলাম। মাঝরাতে প্রচন্ড ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেল। সবাই তখন ঘুমিয়ে আর আমি বিছানায় বসে হাঁটু ধরে কাঁদছি। ব্যথা উপশমের উপায় খুঁজতে খুঁজতে মাটির ব্যাংকের কথা মনে হলো। নিয়ত করে টাকা ফেলবো বলে বিছানা থেকে নামছি, অনুভব করলাম পুরো ডান পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে গেছে, পা ফেলতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলে ভয়ে ভয়ে একটু হাঁটলাম। অথচ পায়ে আর কোনো ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করলাম না। এমনকি রক্ত জমাটের স্থানেও কালচে দাগ নেই। সেই থেকে আমি সবাইকে মাটির ব্যাংকে দানের কথা বলি।[৭০]

সদ্য কেনা জমির নামজারি ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আলোচনা করতে সেখানকার ভূমি অফিসে যেতে হলো। মেইন রোড থেকে ১০ মিনিটের পথ পেরিয়ে গ্রামের ভেতরে ছিলো সে অফিস। কাঁচা রাস্তা বলে হেঁটে রওনা দিলাম। অফিসে পৌঁছে খেয়াল হলো হাতে ফাইল নেই, ওটার ভেতরেই দলিল ছিলো। দলিল না পেলে জমি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া এর কোনো ফটোকপিও আমার কাছে নেই। সাথে সাথে খুঁজতে বেরুলাম। রাস্তার আশপাশে তন্নতন্ন করে খুঁজছি, সামনে যাকে পাচ্ছি তাকেই জিজ্ঞেস করছি। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারলো না। দলিলের আশা ছেড়ে দেবো কি না ভাবতে ভাবতেই মাটির ব্যাংকে দান করার নিয়ত করলাম। ১০/১৫ মিনিটের মধ্যেই এক কিশোর আমাদেরকে বলাবলি করতে দেখে স্থানীয় এক স্কুলঘরে নিয়ে গেল। সেখানে দেখলাম দলিলটি টেবিলে রাখা, কেউ একজন তা কুড়িয়ে পেয়ে দিয়ে গিয়েছিলো।[৭১]

২০০৮ সালের রমজান মাস। ওযু করার পর মনে হলো কানের হিয়ারিং এইড তো খুলি নি। এই যন্ত্রের প্রধান শত্রু হলো পানি। যে কারণে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেল। নিজেকে খুব অসহায় লাগছিলো। কেননা জন্ম থেকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় শোনার জন্যে এ যন্ত্রের ওপর নির্ভর করা ছাড়া আমার কোনো উপায় ছিলো না। মন খারাপ নিয়ে ইফতার করলাম। মাগরিবের নামাজ শেষে মাটির ব্যাংকে টাকা ফেলার নিয়ত করলাম এবং প্রার্থনা করলাম যাতে হিয়ারিং এইডটি ঠিক হয়ে যায়। এর ঠিক আধঘণ্টা পর খেয়াল করলাম শুনতে আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সব শব্দই আমি স্বাভাবিকভাবে শুনতে পাচ্ছি।[৭২]

এরকম আরো বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সাইটে [৭৩]। উপরের এসব উদাহরণ থেকে আমরা মাটির ব্যাংকের কার্যকারিতা সম্পর্কে এই ধারণা পাচ্ছি যে মাটির ব্যাংকে টাকা রাখার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার মনোবাসনা পূরণ বা কল্যান সাধন কিংবা কল্যান ত্বরান্বিত করতে পারবেন।

কোয়ান্টা সংকেত

কোয়ান্টা সংকেতকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায় – কোয়ান্টা ধ্বনি আর কোয়ান্টা ভঙ্গি।[৭৪] কোয়ান্টা সংকেত সম্পর্কে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বক্তব্য হচ্ছে –

কথিত আছে অলৌকিক শক্তি বলে দরবেশ ও ঋষিরা সব অসাধ্য সাধন করতেন। ইসম বা মন্ত্র উচ্চারণ করতেন আর জাদুর মত সব ঘটনা ঘটে যেত। … দরবেশদের এই ইসমগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আল্লাহ’, ‘ইয়া হু’, ‘ইয়া হক’ সহ নানা জিকির। ঋষিদের মন্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ওম’ সহ নানা জপ মন্ত্র। খ্রিষ্টান ও ইহুদীদের রয়েছে ‘আমেন’। জাপানী বুদ্ধদের ‘নামো আমিদা বাৎসু’ প্রভৃতি মন্ত্র। পাশ্চাত্যে ধর্মহীন ধ্যানীরা অবশ্য পুরোপুরি ধর্ম নিরপেক্ষ ধ্বনি যেমন ‘শান্তি’, ‘প্রেম’, ‘ওয়ান’, ‘পেন’ বা কোন অর্থহীন ধ্বনিকেও মন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। দরবেশ-ঋষিরা সাধনায় যেমন লক্ষ লক্ষ বার তাদের মন্ত্র জপ করতেন, তেমনি এই বিশেষ ধর্ম বহির্ভূত ধ্যনীরা নিজেদের পছন্দমত কোন শব্দ লক্ষ লক্ষ বার উচ্চারণ করেন। তাদের বিশ্বাস এইভাবে অগণিত বার উচ্চারণের ফলে এই ধ্বনি এমন একটা মনোদৈহিক স্পন্দন সৃষ্টিতে সহায়ক হয় যা একজন মানুষকে মুহূর্তে তার মনোদৈহিক সামর্থ্য ও শক্তি পুরোপুরি একাগ্রভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম করে। মন ও দেহ চলে যায় শক্তির স্তরে। ব্যক্তিমন ও চেতনা সংযুক্ত হয় মহাচেতনা বা কসমিক কনশাসনেসের সাথে। তখন অর্জিত হয় দৃশ্যমান সবকিছুর পেছনে প্রকৃতির যে নেপথ্য স্পন্দন ও নিয়ম ক্রিয়াশীল তাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা।[৭৪]

অর্থাৎ এর মাধ্যমে সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জিত হয়। কোয়ান্টা ধ্বনি আর কোয়ান্টা ভঙ্গির উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে –

কোয়ান্টা ধ্বনি উচ্চারণ এবং কোয়ান্টা ভঙ্গি করা মাত্রই মেডিটেশন লেভেলে পৌঁছে যেতে এবং পরিকল্পিত কাজকে সহজতর করতে পারেন। [৭৫]

কোয়ান্টা ভঙ্গি সম্পর্কে বলা হয়েছে –

দরবেশ ও ঋষিরা যেমন মন্ত্র বা ইসম এবং অভয় মুদ্রা বা জ্ঞান মুদ্রাকে ব্যবহার করেছেন, আপনিও ব্যবহার করতে পারেন কোয়ান্টা ধ্বনি এবং কোয়ান্টা ভঙ্গি। আপনি মহামতি বুদ্ধ সহ প্রাচীন ঋষিদের যে ভাস্কর্য দেখতে পান, তার বেশির ভাগই অভয় মুদ্রা বা জ্ঞান মুদ্রা করে পদ্মাসন বা সিদ্ধাসনে বসা।[৭৬]

অর্থাৎ আমরা হিন্দুধর্মের বিভিন্ন সিদ্ধপুরুষ ও দেবতাদের উপাসনারত যে ছবিগুলো দেখি বা গৌতম বুদ্ধের ধ্যানরত যে ছবিগুলো দেখি – সেসব ছবিতে তারা ধ্যান বা তপস্যা করার জন্য যেভাবে বসে থাকেন সেটাকেই কোয়ান্টাভঙ্গি বলা হচ্ছে। এই কোয়ান্টাভঙ্গির কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও অবশ্য এর জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা পাওয়া যায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকেই –

সাফল্যের চাবিকাঠি কোয়ান্টাম মেথড (পরিবর্ধিত নতুন সংস্করণ - জানুয়ারী, ২০০০) এর ১৬৩ নাম্বার পৃষ্ঠা থেকে নেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন করতে পারেন কোয়ান্টা ভঙ্গি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর সমন্বয়ে শুধুমাত্র ২ আঙুলে করতে হবে কেন, এটা তো ৩ আঙুল মিশিয়ে করা যেতে পারে। প্রাচীন ঋষি দরবেশরা কেন ২ আঙুলে করেছেন। এর পুরোপুরি ব্যাখ্যা প্রায় বিস্মৃতির অতলে অপসৃত। কিন্তু এর জ্যোতিষ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমাদের জানা। আমরা জানি, হাতের বুড়ো আঙুলের ক্ষেত্র হচ্ছে শুক্র বা ভেনাসের ক্ষেত্র। তর্জনীর ক্ষেত্র হচ্ছে বৃহস্পতির ক্ষেত্র। জ্যোতিষ বিজ্ঞানে শুক্র ও বৃহস্পতি এ দুটো গ্রহই প্রবৃদ্ধি, কল্যাণ ও সাফল্যের প্রতীকরূপে গণ্য। আর মধ্যমার ক্ষেত্র শনির ক্ষেত্র রূপে বিবেচিত। আর শনি বিলম্ব ও বাধার প্রতীক। প্রাচীন সাধকরা এ কারণেই ভেনাস ও জুপিটারের প্রবৃদ্ধিকেই সংযুক্ত করেছেন। এর সাথে শনির প্রভাবকে যুক্ত করতে চান নি। অতীতের সাধকরা কোয়ান্টা ভঙ্গি ২ আঙুলেই করেছেন। আর অধুনা সফল ব্যক্তিরাও সঙ্কট উত্তরণে এভাবেই কোয়ান্টা ভঙ্গি করছেন। [৭৪]

অবশ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন জ্যোতিষশাস্ত্রে ব্যবহৃত এই ভঙ্গিটির একটা ইসলামী ব্যাখ্যা দিয়েছে –

কোয়ান্টা ভঙ্গি বা সংকেতের আর একটি মজার দিক আছে। আপনি ডান হাতে কোয়ান্টা ভঙ্গি করে হাত সামনে আনুন। ভাল করে দেখুন হাতে কিছু দেখছেন কি না। খেয়াল করলে দেখবেন হাতে আরবী ‘আলিফ’ ‘লাম’ ও ‘হে‘ অর্থাৎ আল্লাহু হয়ে আছে। অর্থাৎ কোয়ান্টা ভঙ্গি করার সাথে সাথে আপনি প্রকারান্তরে স্রষ্টাকে স্মরণ করছেন।[৭৪]

সাফল্যের চাবিকাঠি কোয়ান্টাম মেথড (পরিবর্ধিত নতুন সংস্করণ - জানুয়ারী, ২০০০) এর ১৬৫ নাম্বার পৃষ্ঠা থেকে নেয়া হয়েছে।

তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এই ব্যাখ্যাটি কোত্থেকে এসেছে কিংবা কুরআন-হাদীসের সাপেক্ষে তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত সেসব ব্যাপারে অবশ্য কোন রেফারেন্স দেয়া হয়নি।

কমান্ড সেন্টার

কমান্ডসেন্টার হচ্ছে শক্তি কেন্দ্র। ধ্যান করে আপনার মধ্যে অতিচেতনার উন্মেষ ঘটলে সেটাকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য কাজ করার জন্যই কমান্ড সেন্টার বানাতে হয়। কমান্ডসেন্টার থেকে আপনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। কমান্ড সেন্টার সম্পর্কে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বক্তব্য হচ্ছে –

কমান্ড সেন্টারকে এক কথায় বলা যায়, মনের বাড়ির শক্তি ও কল্যাণ কেন্দ্র। মানব অস্তিত্বের যে অংশ স্থান-কালে (Time and space) আবদ্ধ নয়, সে অংশ এই কমান্ড লেভেলে প্রকৃতির নেপথ্য স্পন্দন ও নিয়মের সাথে সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করে। আর আপনি জানেন, দৃশ্যমান সবকিছুর পেছনেই সক্রিয় রয়েছে প্রকৃতির এই নেপথ্য স্পন্দন ও নিয়ম। স্থান-কালের সীমানা অতিক্রম করে যোগাযোগ, তথ্যানুসন্ধান এবং নিজের ও মানবতার কল্যাণের সকল প্রক্রিয়া সম্পাদনের প্রয়োজনীয় সব উপাদানই রয়েছে এখানে। আর সবকিছুই থাকে সদা প্রস্ত্তত অবস্থায়। [৭৭]

কমান্ডসেন্টার কি রকম হবে সে ব্যাপারে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বর্ণনা হচ্ছে –

এটি একটি বিশাল হল কক্ষ। এখানে আপনার জন্যে একটি বিশেষ কমান্ড চেয়ার, অন্তর্গুরুর জন্যে বিশেষ চেয়ার, তিনটি মনিটরিং স্ক্রিন, ডান দিকের কোনায় ‘রহম বলয়’ বা আশীর্বাদ বলয় বা ‘প্লেস অব ব্লিস’, ডানে একটা সোনার বাথ টাব, একটি টাইম মেশিন, যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ, মনিটরিং নিরাময় ও সার্বিক কল্যাণ সাধনের প্রয়োজনীয় সব কিছুই আপনি প্রথমবার ঠিকঠাক করে নেবেন। [৭৭]

কমান্ডসেন্টারে গিয়ে স্থান-কালের উর্ধ্বে চলে গিয়ে যেকোন তথ্যানুসন্ধান কিংবা নিজের ও অন্যের কল্যাণ করা সম্ভব হয়। যেহেতু আপনি কালের অর্থাৎ সময়ের উর্ধ্বে তাই এখান থেকে সহজেই অতীত বা ভবিষ্যৎ দেখা সম্ভব হয়। অতীত-ভবিষ্যৎ দেখার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কমান্ডসেন্টারেই স্থাপন করতে হয় –

চেয়ারের হাতলে বা চেয়ারের সামনে সব রিমোট কন্ট্রোল সুইচ। চেয়ারের সামনে ৩টি মনিটরিং স্ক্রিন। বামেরটি অতীতের সবকিছু দেখার জন্য। মাঝেরটি বর্তমান আর ডানেরি ভবিষ্যৎ দেখার জন্য। [৭৮]

কমান্ডসেন্টারের বিভিন্নরকম প্রয়োগ আছে। এখানে বসে আপনি অন্যের অসুখ সারিয়ে তুলতে পারবেন কিংবা ভবিষ্যৎ জেনে সে অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন ঘটনাবলী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এ নিয়ে অনেকগুলো উদাহরণ থেকে দুটি নিচে দেয়া হল-

ব্যবসায়িক টেন্ডার দাখিলের জন্যেও কমান্ড সেন্টার ব্যবহার করা যায়। আপনি টেন্ডারের সর্বনিম্ন দর কি হবে এটা জানার জন্যে মাঝের মনিটর (২ নম্বর মনিটর) বা টিভির ওপর বাম দিকে একটি লাল বাতি এবং ডান দিকে একটি সবুজ বাতি স্থাপন করুন। ধরুন আপনি একটি জিনিসের দর দিতে চাচ্ছেন ৪৮০ টাকা। ৪৮০ টাকার কথা চিন্তা করে মনিটরের দিকে তাকান। লাল বাতি জ্বলে উঠলে বুঝবেন এই দর সর্বনিম্ন নয়। তাহলে আস্তে আস্তে দর নিচের দিকে নামাতে থাকুন। ৪৭০ টাকা- আবার লাল বাতি জ্বলে উঠল। বোঝা গেল এতেও চলবে না। নামাতে নামাতে ৪৪৫ টাকায় যখন এলেন সবুজ বাতি জ্বলে উঠল। অর্থাৎ ৪৪৫ টাকা সর্বনিম্ন দর হবে। একজন কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার পর ঠিকাদারি ব্যবসায় মনোনিবেশ করলেন। একটা বড় অঙ্কের টেন্ডার দাখিল করবেন। ইঞ্জিনিয়াররা বলল একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক। এতে কাজ পাওয়া যাবে কিন্তু কোন লাভ হবে না। তিনি মেডিটেশন করলেন এক ঘণ্টা। এক ঘণ্টা পর মেডিটেশন থেকে উঠে বললেন দরপত্রের অঙ্ক আরও এক কোটি বাড়াতে। ইঞ্জিনিয়াররা হা হা করে উঠল, তাহলে আমরা টেন্ডার পাব না। তিনি বললেন, আমরাই পাব। ইঞ্জিনিয়াররা দরপত্র পুনর্বিন্যাস করল সেভাবে। তিনিই সর্বনিম্ন হয়ে টেন্ডার পেলেন। এক কোটি টাকাই লাভ।[৭৯]

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা একটি পশ্চিমা দেশের ভিসা নিতে যাবেন। রাতে কমান্ড সেন্টারে দেখলেন, লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কাউন্টারে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা। তাকে কোন প্রশ্ন ছাড়াই ভিসা দিয়ে দিচ্ছে। পরদিন সকালে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কাউন্টারে দেখেন অন্য পুরুষ, অন্য মহিলা কাজ করছেন। তিনি একটু বিব্রতবোধ করলেন। লাইন এগুচ্ছে। শিক্ষিকার সামনে এখন মাত্র একজন। এ সময় পালা বদল হলো। যারা কাজ করছিলেন তাদের বদলে অন্য ২ জন এসে কাউন্টারে বসলেন। শিক্ষিকা বিস্মিত হয়ে দেখলেন কমান্ড সেন্টারে যাদের দেখেছিলেন, এরা তারাই। শিক্ষিকা কাউন্টারে পৌঁছার পর এরা শুধু পাসপোর্ট দেখলেন, মৃদু হাসলেন। পাসপোর্ট রেখে বললেন, বিকেলে ভিসা নিয়ে যাবেন।[৮০]

কমান্ডসেন্টারে বসে কোয়ান্টামের সদস্যরা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যান। যার ফলে মাদকাসক্তি দূরীকরণ, ইন্টারভিউ বা প্রমোশন সহজ করা, ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি সফল করা, দেনাদার থেকে টাকা আদায়, পারিবারিক মত বিরোধ দূর, সফল অস্ত্রোপচার, যন্ত্রের যান্ত্রিক ত্রুটি বা তথ্য বের করার জন্যে কিংবা ঘরে বসে বহুদূরে কারো উপর নজরদারী – প্রভৃতি কাজ করে ফেলা সম্ভব! কমান্ডসেন্টারে বসে তারা যা কখনো দেখেননি তা সম্পর্কেও নির্ভুল তথ্য দিতে পারেন-

যাকে তাঁরা জীবনে দেখেন নি, যার কথা তাঁরা জীবনে শোনেন নি, শুধু তার নাম, বয়স ও ঠিকানা বলার সাথে সাথে তার এমন হুবহু বর্ণনা দিতে থাকেন যে, প্রশ্নকর্তা নিজেই হতবাক হয়ে যান।[৮১]

অন্তর্গুরু

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতে –

আধ্যাত্মিকতার পথে অগ্রসর হতে হলে একজন আলোকিত গুরু, মুর্শিদ বা গাইডের কাছে বায়াত বা দীক্ষা গ্রহণ প্রয়োজন। বায়াত বা দীক্ষা গ্রহণ ছাড়া নিজে নিজে আধ্যাত্মিক সাধনা এক পিচ্ছিল পথ। যে কোন সময়ই পা পিছলে পাহাড় থেকে একেবারে গিরিখাতে পড়ে যেতে পারেন। [৮০]

এই অন্তর্গুরুর দেখা পেতে হলে ধ্যানের বিশেষ স্তরে যেতে হয়-

কমান্ড সেন্টার নির্মাণ করে সবকিছু ঠিক মত সাজানোর পর ধ্যানের বিশেষ স্তরে অন্তর্গুরুর আগমন ঘটে। অন্তর্গুরু প্রথমে সকল অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য ‘সাইকিক বর্ম প্রদান করেন যা অতীতের সকল অশুভ প্রভাব নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং ভবিষ্যতের এ ধরণের প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখে।[৮২]

দেখা যাচ্ছে যে সকল অশুভ প্রভাব থেকে শিষ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক বিশেষ ক্ষমতা আছে অন্তর্গুরুর। যে কারণে অন্তর্গুরু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। এ ব্যাপারে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলে-

আপনি যাকে মনে করেন যে, তিনি আপনাকে জীবনের পথে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে পারবেন, তাকেই আপনি অন্তর্গুরু হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। তবে যে ধ্যান বা মেডিটেশন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া আপনি অনুসরণ করবেন, সে প্রক্রিয়ার উদ্ভাবক বা প্রশিক্ষককে অন্তর্গুরু হিসেবে গ্রহণ করা সবসময়ই বেশি কার্যকরী। [৮২]

অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে উপরের পদ্ধতি অনুযায়ী কোয়ান্টাম মেথডের প্রবক্তা মহাজাতক সাহেবকে অন্তর্গুরু হিসেবে গ্রহন করতে হবে। অন্তর্গুরু’র ব্যাপারটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবসময় যে গুরুকে পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে আবার কোন নিশ্চয়তা নেই। তিন বছর নিয়মিত মেডিটেশন করার পর গুরুর দর্শন লাভ হয়েছে – এমন নজিরও আছে।[৮২]

ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু বিষয়

এর আগে আমরা ইসলামের কিছু মূলবিষয় – বিদআত, কুফর ও শিরক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। বিদআত কিভাবে কুফরে ও শিরকের পথে নিয়ে যায় তাও আলোচনা করেছিলাম। এবার আমরা ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু বিষয়ের অবস্থান সম্পর্কে জানব (যেমন – ভবিষ্যৎগননা করা কিংবা সুফিবাদ নিয়ে ইসলাম কি বলে)।

আল্লাহর অবস্থান ও ইসলাম

লোকমুখে চালু আছে যে, আল্লাহ পাক সর্বত্র বিরাজমান। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সর্বত্র পরিব্যাপ্ত – এটা সঠিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁর সত্তা তাঁর সৃষ্টির সাথে মিশে আছে। বরং সত্ত্বাগত ভাবে তিনি সৃষ্টি থেকে পৃথক এবং তিনি সাত আসমানের ওপরে আছেন এবং তিনি সৃষ্টির উর্দ্ধে অবস্থানকারী। অতএব তিনি তাঁর সত্তার দ্বারা সর্বত্র বিরাজমান নন, আর মানুষের যুক্তিও তাঁর সর্বত্র বিরাজমান হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে, কেননা যদি তিনি সর্বত্র থাকেন, তবে অর্থ এই দাঁড়ায় যে যাবতীয় আবর্জনাতেও তাঁকে পাওয়া যাবে, কিন্তু এটা তাঁর পবিত্রতার ধারণার বিরোধী, উপরন্তু আল্লাহ পাক তাঁর কিতাবে কিংবা তাঁর রাসূল (স) তাঁর হাদীসে কোথাও উল্লেখ করেননি যে তিনি সর্বত্র বিরাজমান। বরং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি আসমানে, অর্থাৎ সাত আসমানের উপরে অবস্থিত, আর এটাই সঠিক বিশ্বাস। আল্লাহ’তালা বলেন –

তোমরা কি এটা হতে নির্ভয় হয়েছো যে, যিনি আকাশে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন, অনন্তর তা আকস্মিকভাবে থর থর করে কাঁপতে থাকবে?[৮৩]

তাই প্রকৃতি বা অন্যান্য সৃষ্টির মাঝে আল্লাহতা’লা রয়েছেন – এই চিন্তা করাটা আল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে তাঁর নিজের দেয়া আয়াতেরই পরিপন্থী।

সুফিবাদ ও ইসলাম

পার্থিব লোভ লালসা ও ভোগ বিলাস যথাসম্ভব পরিত্যাগ করা ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক শিক্ষানীতি হলেও সন্ন্যাসবাদের কোন স্থান এখানে নেই। আজকের খ্রিষ্টধর্মে এর বহুল প্রচার থাকলেও এটা আসলে কোন ঐশী নির্দেশ নয়। ধার্মিক খ্রিষ্টানগণ যখন অনুভব করলেন বিবাহ ও ঘরসংসার করে যথেষ্ট আখিরাতমুখিতা অর্জন করা যায়না, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মানবীয় বুদ্ধি বিবেক খাটিয়ে এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন, যার ফলে তারা হয়ে পড়ল সংসার বৈরাগী। ইসলামের মাঝেও একদল মানুষ অনুরূপ নতুন পদ্ধতির সূচনা করেন যাদের আক্বীদা, কাযযকলাপ কোন কিছুই শরীয়াহ সম্মত নয়। যেমনঃ সুফীবাদের অনুসারী ও অন্যান্য কতিপয় পথভ্রষ্ট দল সৃষ্টির সাপেক্ষে আল্লাহ পাকের সত্তা ও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ও কদর্য ধারণা পোষণ করে থাকে আর এ সম্পর্কে তাদের কিছু বাতিল পরিভাষা আছে। যেমন –

হুলুল[৮৪] – সুফী ও অন্যান্য পথভ্রষ্ট দলের পরিভাষায় হুলুল হচ্ছে সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার অবস্থান, হতে পারে সেটা গোটা সৃষ্টিজগতে কিংবা এর কোন অংশে। গোটা সৃষ্টিজগতে স্রষ্টার অবস্থানের মতবাদ এই যে – স্রষ্টা সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সর্বত্র বিরাজমান।

ইত্তিহাদ[৮৪] – দুটো বস্তু এক হওয়াকে আরবীতে ইত্তিহাদ বলা হয়। পথভ্রষ্টদের পরিভাষায় ইত্তিহাদ হল এই ধারণা যে স্রষ্টা ও সৃষ্টি অথবা এর কোন অংশ প্রকৃতপক্ষে একই সত্তা। স্রষ্টা ও গোটা সৃষ্টি একই সত্তা হওয়ার মতবাদকে ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’(وَحْدَة الوُجُود)[৮৫] বলা হয়। যারা স্রষ্টা ও সৃষ্টির কোন অংশ একই সত্তা হওয়ায় বিশ্বাসী তারা ধারণা করে যে নবী, সৎকর্মশীল, দার্শনিক প্রকৃতির লোকেরা স্রষ্টারই অংশ।

হুলুল ও ইত্তিহাদের ধারণা সুস্পষ্ট কুফর ও ধর্মদ্রোহিতা, আর এর মধ্যে নিকৃষ্টতার দিক থেকে ইত্তিহাদ হুলুলের চেয়েও মারাত্মক, কারণ তা সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে এক সত্তায় পরিণত করেছে।

জ্যোতিষশাস্ত্র ও ইসলাম

আল-কুরআন এবং হাদীসে দিনের আলোর মত স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে গায়েবের জ্ঞান বা অদৃশ্যের জ্ঞান আল্লাহ পাকের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্য, এতে কারও কোন অংশীদারিত্ব নেই। গায়েবের জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে এমন সবকিছু যা মানুষের ইন্দ্রিয়সমূহের দ্বারা জানা যায় না। সেটা হতে পারে অতীতের ঘটনা, কিংবা ভবিষ্যতের ঘটনা কিংবা দূরত্বের কারণে মানুষের জ্ঞান থেকে অন্তরালে থাকা কিছু যেমন জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছু বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ পাক চাইলে তাঁর সৃষ্টির কোন অংশকে জানাতে পারেন, যেমন তিনি রাসুল (স) মারফত আমাদেরকে জান্নাত জাহান্নামের বিবরণ জানিয়েছেন। তেমনি আল্লাহ পাক পৃথিবীতে মানুষের রিযিকের বিলিবন্টন সংক্রান্ত তথ্য ফেরেশতাগণের নিকট প্রকাশ করলে তাঁরা তা জানতে পারেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নবী-রাসূল কিংবা ফেরেশতারা গায়েব জানেন, বরং গায়েবের জ্ঞানের একাংশ আল্লাহ পাক তাদেরকে জানালে তবেই কেবল তারা তা জানতে পারে। আর তাই এটি ইসলামী আকীদার একটি অন্যতম মূলনীতি যে গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ পাকের বৈশিষ্ট্য, এই বৈশিষ্ট্য কারও প্রতি আরোপ করলে তাকে আল্লাহর সমকক্ষ করা হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’লা বলেন –

বল, ‘আল্লাহ ব্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং তারা জানে না কখন তাদের পুনরুত্থান হবে।[৮৬]

জ্যোতিষশাস্ত্র, রাশিচক্র এবং অনুরূপ ভ্রান্ত বিদ্যাগুলোর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থা ও অবস্থান দেখে কোন ঘটনা, ভাগ্য বা ভবিষ্যৎ নির্ণয় করা। এই বিদ্যাচর্চার দুটি তাওহীদ বিরোধী দিক রয়েছেঃ

  • প্রথমতঃ এই ধারণা করা যে গ্রহ-নক্ষত্র মহাবিশ্বের ঘটনাবলীকে সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে, এই ধারণা মূলত রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শিরক করার সমতুল্য।
  • দ্বিতীয়তঃ গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান থেকে মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যত নির্ণয়ের চেষ্টা, যা কিনা আল্লাহ পাকের অদৃশ্যের জ্ঞানের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে অপরকে শরীক করার শামিল।

জ্যোতিষশাস্ত্র ইসলাম ধর্মে পুরোপুরি হারাম। কারণ এতে বিশ্বাস করা হচ্ছে যে আল্লাহতা’লা নন বরং গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানই মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অনেকে জ্যোতিষশাস্ত্রের (Astrology) সাথে জ্যোতির্বিদ্যাকে (Astronomy) মিলিয়ে ফেলেন। দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান দেখে মানুষের ভাগ্য বলে দেয়া হয়। আর জ্যোতির্বিদ্যায় গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের উপর নির্ভর করে গানিতিকভাবে হিসেব করে সময়, ঋতুচক্র, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি নির্ণয় করা হয় (যেমন প্রাচীনকালে নামাজের সময়সূচী ও ইসলামিক বর্ষপঞ্জী তৈরি করার কাজে জ্যোতির্বিদ্যার অংকপ্রণালী ব্যবহার করা হত)। এ প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনের আলকুদ্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর হুসাম আলদ্বীন ইবনে মুসা আফানা’র ভাষ্য –

First of all, it is worth noting that the Arabs knew astronomy a long time ago. They would predict time through observing the movements of stars. According to the scholars of Shar`iah, there are two terms confused in many people’s minds when it comes to dealing with the question in hand. These terms are astronomy and astrology. Astronomy is the science that deals with studying the movements of the celestial bodies and reducing observations to mathematical order. That science is useful in determining time, seasons, the direction of Prayer, etc. Astrology, on the other hand, is concerned with studying the positions and aspects of celestial bodies in the belief that they have an influence on the course of natural earthly occurrences and human affairs. Astrologists believe that the movements of stars have an influence on people’s lives. Both Muslim astronomers and [religious] scholars refuse the prophecies of astrologists.[৮৭]

অর্থাৎ ইসলামে জ্যোতিষশাস্ত্র কিংবা ভবিষ্যৎগণনার কোন স্থানই নেই।

জ্বিন জগৎ ও ইসলাম

জ্বিন জাতি কুরআনে বর্ণিত এক অতিপ্রাকৃত সত্তা। আরবি জ্বিন শব্দটির আক্ষরিক শব্দার্থ যে কোন কিছু যা গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী বা অনেক দূরবর্তী।[৮৮] পৃথিবীতে মানুষের আগমনের আগে থেকেই তাদের অস্তিত্ব ছিল, এখনও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষ তাদের দেখতে পায়না, তবে জিনরা মানুষকে দেখতে পায়। তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। মানুষের মত তাদের মধ্যেও ভালো ও খারাপ ভেদাভেদ রয়েছে।

কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জ্বিনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাস এর শেষ অংশে জ্বিন জাতির উল্লেখ আছে। জ্বীনদের সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহতা’লা বলেন-

আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্য যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।[৮৯]

হযরত সুলায়মান (আ) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে –

সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হল তার বাহিনীকে – জিন, মানুষ ও পাখিদেরকে এবং তাদেরকে বিন্যস্ত করা হল বিভিন্ন ব্যুহে।[৯০]

কুরআনে আরো বলা আছে হযরত মুহাম্মদ (স) কে জিন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।[৯১][৯২] অর্থাৎ ইসলামে কোনভাবেই জ্বীনদের অস্তিত্ব অস্বীকার করবার উপায় নেই। জ্বিনরা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। বিশিষ্ট ইসলামিক পন্ডিত ইবন তাইমিয়াহ’র মতে যাদুকরদের যাদুর নেপথ্যে রয়েছে জ্বিনদের বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ। এর প্রয়োগেই যাদুকররা কোন জিনিসকে শূন্যে ভাসিয়ে ফেলত, ভাগ্যগননাকারীরা ভবিষ্যৎ জেনে নিত আর আধ্যাত্মিক গুরুরা যখন আত্মাদের সাথে যোগাযোগ করত তখন ভাওতাবাজী করার জন্য জ্বিনরা মৃত মানুষের গলার স্বর নকল করে কথা বলত।[৯২] সাধু সন্ন্যাসী, ভাগ্যগণক, যাদুটোনা চর্চাকারীদের দ্বারা সংঘটিত নানা অলোকিক ঘটনা দেখে বহু মানুষ তাদেরকে আল্লাহর প্রিয় পাত্র ভাবা শুরু করে এবং তাদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার আতিশয্যে তারা যা বলে তাই করতে থাকে। পুরো ব্যাপারটিই ঘটে জ্বিনজগত সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতার কারণে। মানুষের মাঝে একদল লোক যাদুটোনা, ভাগ্যগণনা জাতীয় বাতিল ও নিষিদ্ধ বিষয় চর্চার জন্য জ্বিনদের সাহায্য নেয়, তারা শয়তান জ্বিনদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য নানাপ্রকার শিরকী ও কুফরী কাজ করে, জ্বিনদের ইবাদত করে, ফলে শয়তান জ্বিনেরা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে এই সমস্ত নিষিদ্ধ বিষয় চর্চায় সাহায্য করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতা’লা বলেন –

আর যেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে সমবেত করবেন। সেদিন বলবেন, “হে জ্বিনের দল, মানুষের অনেককে তোমরা বিভ্রান্ত করেছিলে” এবং মানুষদের মধ্য থেকে তাদের সঙ্গীরা বলবে, “হে আমাদের রব, আমরা একে অপরের দ্বারা লাভবান হয়েছি এবং আমরা পৌঁছে গিয়েছি সেই সময়ে, যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।” তিনি বলবেন, “আগুন তোমাদের ঠিকানা, তোমরা সেখানে স্থায়ী হবে। তবে আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত।” নিশ্চয় তোমার রব বিজ্ঞ, সর্বজ্ঞ। [৯৩]

অর্থাৎ আমাদের চারপাশে মানুষের করা অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার যেসব প্রয়োগ দেখা যায়, যা সাধারণ চোখে অলৌকিক বলে মনে হয় তা আসলে জ্বিনদের ঘটানো ব্যাপার-স্যাপার। আর এসব কাজে জ্বিনদের সাহায্য নেবার ব্যাপারে আল্লাহতা’লা সাহায্যকারীদের জাহান্নামের বার্তা দিয়েছেন।

কোয়ান্টাম মেথড ও ইসলাম

মেডিটেশন

ইসলামে মেডিটেশন বা ধ্যান করার ব্যাপারে কোন কিছু উল্লেখ করা নেই। অনেকে দাবী করেন যে, রাসূল (স) হেরা গুহায় ধ্যান করতেন। তাদের খুব স্পষ্টভাবে জেনে রাখা প্রয়োজন যে –

  • রাসূল (স) হেরা গুহায় ঠিক কি করতেন, যা করতেন সেটাকে ধ্যান বলে আখ্যায়িত করা যায় কিনা এ ব্যাপারে আমাদের কোন বিস্তারিত তথ্য জানা নেই।
  • যদি বা তর্কের খাতিরে ধরেও নেই যে, রাসূল (স) হেরা গুহায় ধ্যান করতেন, তবে তা করতেন নব্যুয়তের আগে। নব্যুয়তের আগে তাঁর করা কোন কাজ আমাদের জন্য শরীয়াতের উৎস নয়।

কোন সহীহ হাদীস নেই যেখানে বলা হয়েছে যে রাসুল (স) ধ্যান করতেন, কিংবা তাঁর সাহাবীরা ধ্যান করতেন, কিংবা রাসুল (স) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে ধ্যান করতেন কিংবা রাসুল (স) তাঁর উম্মতদের ধ্যান করতে বলে গেছেন। এরকম কোন নজীরও নেই। রাসুল (স) এর জীবনযাপন ছিল খোলা বইয়ের পাতার মত – সবাই জানতেন তিনি কিভাবে জীবনযাপন করেন। উম্মতরা যাতে সহজেই তাঁকে অনুসরণ করতে পারেন সেজন্য তাঁর সব কথা আর কাজই হাদীস গ্রন্থে আশ্রয় পেয়েছে। তাঁর করা সকল ইবাদতই কুরআন-হাদীসের মাধ্যমে সবাই জানেন – তাহাজ্জুদ, ইশরাক প্রভৃতি সকল ইবাদত তিনি করেছেন, তাঁকে দেখে তাঁর সাহাবীরা করেছেন এবং এভাবে কালপরিক্রমায় আমরাও তা করছি। কিন্তু তিনি সবাইকে নিয়ে জামাতে ধ্যান করতেন – এরকম কোন নজীর নেই।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দাবী করছে যে মেডিটেশন ব্যাপারটা ইসলামে আছে। তাদের কথানুযায়ী রাসুল (স) মেডিটেশন করতেন, কিন্তু আমাদের উপর তা চাপিয়ে দেননি।[৯৪] যদিও কোন সহীহ হাদীস এটাকে সমর্থন করেনা। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলছে যে কুরআনে সরাসরি বলা আছে মেডিটেশনের কথা –

সূরা আলে ইমরানের ১৯০-৯১ আয়াতে আল্লাহ জ্ঞানীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেছেন, ‘তারা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য নিয়ে গভীর ধ্যানে (তাফাক্কুর) নিমগ্ন হয়’। [৯৫]

যথার্থই আল কোরআন বলে, ‘আমি একটি বিষয়ে সতর্ক করছি, আল্লাহর সামনে দাঁড়াও একক বা যৌথভাবে এবং চিন্তা কর…’। এখানে ‘একক বা যৌথভাবে’ অর্থ হচ্ছে সামাজিক বা ব্যক্তিগত সংস্কারের প্রভাব বা চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করে চিন্তা বা বিচার-বিশ্লেষণ করা। তিনি ইবাদতের একটি মাধ্যম হিসেবে ধ্যানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। [৯৫]

অর্থাৎ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের চোখে ধ্যান বা মেডিটেশন হচ্ছে ইবাদত। এবার আমরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ব্যবহার করা সুরা আল ইমরানের ১৯০-১৯১ আয়াত দুটো ভালো করে দেখি –

১৯০। নিশ্চয়ই আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন-রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকের জন্য
১৯১। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে ও বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এটা নিরর্থক সৃষ্টি করনি, তুমি পবিত্র, তুমি আমাদেরকে দোজখের শাস্তি হতে রক্ষা কর। [৯৬]

অর্থাৎ আল্লাহতা’লা এখানে সেসব জ্ঞানসম্পন্ন লোকদের কথা বলেছেন যারা আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে ভীত হয়ে তাঁর কাছে আশ্রয় চায়। এখানে ধ্যান করার কথা বলা হয়নি, বরং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। এখানে “চিন্তাভাবনা” বলতে সেই চিন্তাভাবনাকে বলা হয়েছে যা সাধারণ একজন মানুষ করে থাকে, যেমনটি করেন বিজ্ঞানীরা ও গবেষকরা কোন কিছু বের করার জন্য, যেমনটি করে একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে বসে। গবেষকরা নিশ্চয়ই কোন সমাধানের জন্য কোয়ান্টাভঙ্গিতে বসে ধ্যান করেননা। প্রচুর বই, জার্নাল পড়ে এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকম সাহায্য নিয়েই তারা তাদের সমস্যা সমাধান করেন। এবার আমরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ব্যবহার করা পরের আয়াতে আসি যা সুরা সাবা’র ৪৬ নাম্বার আয়াত –

বল, “আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি: তোমরা আল্ল্লাহর উদ্দেশ্যে দুই-দুইজন অথবা এক-একজন করে দাঁড়াও, অতঃপর তোমরা চিন্তা করে দেখ – তোমাদের সঙ্গী আদৌ উন্মাদ নয়। সে তো আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের সতর্ককারী মাত্র।” [৯৬]

এখানেও ধ্যান করার কথা বলা হয়নি। এমনকি ইবাদতের মাধ্যম হিসেবেও ধ্যানের কথা বলা হয়নি। এখানে আল্লাহর আযাব সম্পর্কে সতর্ককারী নবী-রাসুলদের যে লোকজন উন্মাদ বলে মনে করতেন, সে সম্পর্কে আল্লাহতা’লা সতর্কবাণী হিসেবে আয়াতটি নাযিল করেন। ধ্যান বা মেডিটেশনের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলে যে হাদীসেও ধ্যানের কথা বলা আছে –

হযরত ইবনে আববাস থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, এক ঘণ্টার ধ্যান সারা বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। এছাড়া হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত আছে, নবীজী (স) বলেছেন, সৃষ্টি সম্পর্কে এক ঘণ্টার ধ্যান ৭০ বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম (মেশকাত)।[৯৫]

এই হাদীসটিকে ইবন আল-জাওয়াজীসহ[৯৭] অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ জাল হাদীস বলে চিহ্নিত করেছেন।[৯৮][৯৯] অবশ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এক জায়গায় বলছে যে রাসুল (স)’র আমলে মেডিটেশন জিনিসটা ছিলনা –

এখন বলবেন, মেডিটেশন নতুন জিনিস, নবীজীর (স) যুগে তো এই মেডিটেশন ছিলো না, কোয়ান্টাম মেথড ছিলো না, মেডিটেশন করার প্রয়োজনটা কী? আসলে নবীজীর সময়ে এত টেনশন ছিলো না, এত যান্ত্রিকতা, এত প্রতিযোগিতা ছিলো না। তখন মানুষ উত্তেজিত হতো আবার ঠান্ডাও হতো। কিন্তু এখন মানুষ উত্তেজিত হয়, কিন্তু ঠান্ডা হয় না। যার ফলে সে সত্যকে অনুসরণ করতে পারে না। [১০০]

তো ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? উনারাই একবার বলছেন যে মেডিটেশন রাসুল (স)’র আমলে ছিলনা, আবার উনারাই কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা ও জাল হাদীস নিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করছেন যে আল্লাহতা’লা ও রাসুল (স) সবাইকে মেডিটেশন করতে বলেছেন। ব্যাপারটা একটু কেমন হয়ে গেল না? তাছাড়া ইসলাম ধর্মকে আল্লাহতা’লা পাঠিয়েছেন কিয়ামতের আগ পর্যন্ত সকল মুসলমানের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে। রাসুল (স)’র আমলে ইসলাম যেরকম ছিল, এখনো তাই আছে, ভবিষ্যতেও একই থাকবে – কখনোই কারো জন্য ইসলাম পাল্টাবেনা। তাই রাসুল (স) এর আমলে দরকার ছিলনা দেখে ইসলামে মেডিটেশন ছিলনা, কিন্তু এখন দরকার তাই ইসলামে মেডিটেশন চলে আসছে – এই ধারণাটাই তো বিশাল একটা গোলমেলে ব্যাপার!

ধ্যান বা মেডিটেশন জিনিসটা ইসলামে আছে কি নেই সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবার আগে মেডিটেশনের উৎপত্তিটা জানা দরকার আমাদের। ইতিহাস ঘাঁটলে আমরা দেখতে পাই যে মেডিটেশন বা ধ্যান জিনিসটা আসলে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম থেকে এসেছে –

Some of the earliest written records of meditation (Dhyana), come from the Hindu traditions of Vedantism around 1500 BCE. The Vedas discuss the meditative traditions of ancient India. Around the 6th to 5th centuries BCE, other forms of meditation developed in Taoist China and Buddhist India. Dhyana in early Buddhism also takes influence on Vedanta by ca. the 4th century BCE.[১০১]

ইসলামের ভেতর ধ্যান জিনিসটা আসে অনেক পরে, সুফিবাদের হাত ধরে –

Sufi view or Islamic mysticism involves meditative practices. Remembrance of God in Islam, which is known by the concept Dhikr is interpreted in different meditative techniques in Sufism or Islamic mysticism. This became one of the essential elements of Sufism as it was systematized in the 11th and 12th centuries. It is juxtaposed with fikr (thinking) which leads to knowledge. By the 12th century, the practice of Sufism included specific meditative techniques, and its followers practiced breathing controls and the repetition of holy words.[১০১]

অর্থাৎ সুফি সাধকরা ইসলামে ধ্যান বা মেডিটেশনের প্রচলন করেন, রাসুল (স) এর কাছ থেকে ধ্যান বা মেডিটেশন নিয়ে কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসেনি। সুফিদের মাধ্যমে কিভাবে হিন্দু ধর্মের একটা আচার ধ্যান ইসলামে আসে তার ইতিহাস থেকে আমরা দেখি যে –

The mystic tradition began to find expression among Muslims from about 8th century CE, a century after the borders of the Islamic state had expanded to include Egypt and Syria and its major centers of monasticism. A group of Muslims who were not satisfied with what the Sharee’ah (Islamic Law) had to offer, developed a parallel system which they named the Tareeqah (the way). Just as the ultimate goal of the Hindu was unity with the world soul and of the Christian mystic union with God; the ultimate goal of this movement became Fanaa, the dissolution of the ego, and Wusool the meeting and unification of the human soul with Allaah in this life. A series of preliminary stages and states which had to be attained were defined. They were called Maqaamaat (stations) and Haalaat (states). A system of spiritual exercises was also designed for the initiate in order to bring about this “meeting.” These exercises of “Dhikr” often involved head and body movements and sometimes even dance, as in the case of whirling dervishes.[১০২]

এবার আমরা যদি কোয়ান্টাম মেথডের ধ্যানের ইতিহাস নিয়ে বসি তাহলে আমরা দেখতে পাই যে এটারও আগমন হিন্দু ধর্ম থেকে –

The science of Quantum Mechanics now concurs with the ancient wisdom of Hindu Vedanta philosophy, in the observation that the sense-bound intellect alone is simply inadequate for experiencing the ultimate condition of reality. [১০৩]

স্রষ্টা ও সৃষ্টির মিলনের যে দর্শন অর্থাৎ ইত্তিহাদের কথাই এখানে চলে এসেছে। ইসলামে ধ্যান নিয়ে কোন ধারণাই ছিলনা, এটার আগমন হয় মূলত হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম থেকে। অর্থাৎ ধ্যান বা মেডিটেশন এমন একটা ইবাদত যেটা রাসুল (স) এর আমলে ছিলনা এবং যা হাদীস কুরআন দিয়ে সমর্থিত নয়। তাই এটাকে নিঃসংকোচে বিদআত এর শ্রেনীতে ফেলা যায়। উপরন্তু ধ্যান জিনিসটা এসেছে অন্য ধর্ম থেকে। অন্য ধর্মকে অনুসরণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। অন্য ধর্মের আচার অনুসরণ করার মানে হচ্ছে, আল্লাহতা’লা ইসলাম হিসেবে আপনাকে যা দিয়েছেন তা আপনার কাছে সঠিক ও পর্যাপ্ত মনে হচ্ছেনা। আপনার মনে হচ্ছে অন্য ধর্মের কোন একটা (বা একাধিক) ব্যাপার বা ধারণা আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীনের চেয়েও অনেক ভালো। চিন্তা করুন কত বড় ভয়ানক একটা ধারণা এটি! এ ব্যাপারে আল্লাহতা’লা বলেন –

আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [৪১]

তাই অন্য ধর্মের কোন কিছু বরণ করে নেয়া মানে হল আপনি কুফরি করছেন। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? ধ্যান একটা বিদআত যা এসেছে অন্য ধর্ম থেকে অর্থাৎ এটা কুফরি। তাই ধ্যান একই সাথে বিদআত এবং কুফরি।

মেডিটেশনে কি কি হয়? আসুন দেখি –

ধ্যানাবস্থায় মন হয় ত্রিকালদর্শী, চেতনা অতিক্রম করে সকল বস্তুগত সীমা। মনের এই ধ্যানাবস্থার শক্তিকে প্রয়োগ করেই প্রাচ্যের সাধক দরবেশ ঋষিরা একদিন আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। ইচ্ছা করেছেন-ঘটনা ঘটেছে। ইচ্ছা করেছেন-মানুষ রোগমুক্ত হয়েছে। … এই চাবিকাঠি দিয়েই দৃশ্যমান সব কিছুর পেছনে প্রকৃতির যে নেপথ্য স্পন্দন ও নিয়ম কাজ করছে তার সবটাকেই আপনি নিজের ও মানবতার কল্যাণে সক্রিয় করে তুলতে পারবেন। [ ১০৪]
মেডিটেশনের মাধ্যমেই আপনি সংযোগ সাধন করতে পারেন আপনার ‘অন্তরের আমি’র সাথে, আপনার শক্তির মূল উৎসের সাথে। [১০৫]

অর্থাৎ কোয়ান্টাম মেথডের মতে মেডিটেশনে আপনি আপনার মন কে নিয়ন্ত্রণ করে চারপাশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, যেভাবে করেন সাধু-ঋষিরা। আপনার মন হবে ত্রিকালদর্শী অর্থাৎ ভবিষ্যৎ জেনে নিতে পারবেন আপনি। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন মনে করে মনের শক্তি অসীম।[১০৬] এই অসীম ক্ষমতাধর মনকে নিয়ন্ত্রন করে কি কি করা সম্ভব তার একটা উদাহরণ নিচে দেয়া হল –

ট্রাফিক যখন ডানে-বামে কোনোদিকেই নড়াচড়া করছে না আমাদের অনেক গ্রাজুয়েট তখন উত্তেজিত না হয়ে এই ভঙ্গি (কোয়ান্টা ভঙ্গি) করে অপেক্ষা করেন। দেখা যায়, যাওয়ার পথ সহজ হয়ে গেছে। অথবা শীতের রাত, চারটায় হাইওয়েতে যানবাহন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই ভঙ্গি করে অপেক্ষা করছেন যানবাহন চলে আসছে। অথবা-সব গাড়ি উত্তর দিকে যাবে, দক্ষিণে কোনো গাড়ি যাবে না। এই ভঙ্গি করে অপেক্ষা করছেন দক্ষিণের গাড়ি চলে আসছে। অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে, এই ভঙ্গি করে অপেক্ষা করছেন, ন্যায্য ভাড়ায় যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে। [১০৭]

অন্তরের ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল “তাওয়াক্কুল” (বা ভরসা করা) – যা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ওপর করা যাবে না। কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া এমন কোন সত্তার ওপর এমন কোন ব্যাপারে তাওয়াক্কুল করে যা সংঘটনের ক্ষমতা তার নেই, তবে তা বড় শিরক হবে যা একজন ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডীর বাইরে নিয়ে যায়। মেডিটেশন পদ্ধতিতে নিজের ওপর “তাওয়াক্কুল” ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার শিক্ষা দেয়া হয়, বলা হয় যে আপনি চাইলেই সব করতে পারেন। এমনকি ইচ্ছা করলে প্রকৃতিকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন –

ব্যক্তিমন ও চেতনা সংযুক্ত হয় মহাচেতনা বা কসমিক কনশাসনেসের সাথে। তখন অর্জিত হয় দৃশ্যমান সবকিছুর পেছনে প্রকৃতির যে নেপথ্য স্পন্দন ও নিয়ম ক্রিয়াশীল তাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা।[৭৪]

ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো তাহলে? আপনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। যা করা আল্লাহর এখতিয়ারে, আপনি বিশ্বাস করছেন যে আপনার অসীম শক্তিধর মন সেটা করে ফেলতে পারছে। মনের স্বাধীন শক্তির এই ধারণাটি ইসলামের শিক্ষার সাথে রীতিমত সাংঘর্ষিক। মনের এমন কোন ক্ষমতা নেই, যা প্রকৃতির নেপথ্য শক্তিকে (আল্লাহ ব্যতীত আর কোন শক্তির অস্তিত্ব কল্পনা করাই শিরক) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। জৈবিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা বা স্থান-কালের ঊর্দ্ধে যেতে পারাও সম্ভব নয় মানব আত্মার পক্ষে।

কিছুক্ষণ আগেই আমরা দেখলাম যে ধ্যান জিনিসটা বিদআত এবং কুফরের আওতায় পড়ে। এখন দেখলাম যে মনের অসীম ক্ষমতার উপর বিশ্বাস ধ্যান ব্যাপারটাকে শিরকের আওতায়ও ফেলে দিচ্ছে!

আরেকটি ব্যাপার একটু পরিস্কার হওয়া দরকার। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলে আসছে যে নামাযের সাথে মেডিটেশনের একটা নিগূঢ় সম্পর্ক রয়েছে –

নামাজ ঠিকভাবে পড়ার জন্যে মনোযোগ প্রয়োজন। আর মেডিটেশন মানুষের মনকে বর্তমানে নিয়ে আসে। যখন আপনি মনকে বর্তমানে নিয়ে আসতে পারবেন, মনোযোগকে একাগ্র করতে পারবেন, আল্লাহকে হাজির-নাজির হিসেবে অনুভব করতে পারবেন তখন সেই নামাজ আপনি পড়তে পারবেন-যে নামাজ মানুষকে প্রশান্ত করতে পারে। তখন আপনি বলতে পারবেন-নামাজই যথেষ্ট। কিন্তু ঐ স্তরে যেতে হলে মেডিটেশন প্রয়োজন।[১০৮]

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় তো প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে ফরজ, যা অবশ্য পালনীয়। কোনো মুসলমান যদি তা না করে তাহলে ধর্মের একটি আবশ্যকীয় লঙ্ঘনের দোষে সে দোষী হবে। কিন্তু পাঁচবার নামাজ আদায় করলেই কি সব হয়ে গেল? … তাছাড়া নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধির জন্যেও মেডিটেশন করা উচিত।[১০৯]

অধিকাংশই খুব দুঃখ করে বলেছেন যে, আমরা তো বলি হুদরিল ক্বাল্ব ছাড়া নামাজ হয় না। শুধু রুকু-সেজদা দিলে, সূরা-কেরাত পড়লে নামাজ হয় না। নামাজের জন্যে প্রয়োজন হুদরিল ক্বাল্ব বা একাগ্রচিত্ততা। এই হুদরীল ক্বালব কীভাবে সৃষ্টি করতে হয় এখানে এসে শিখে গেলাম। তাই যারা ইবাদত-বন্দেগিতে একাগ্রচিত্ত হতে চান মেডিটেশন তাদেরকে চমৎকারভাবে সাহায্য করবে।[১১০]

শুধু নামাজই নয় বরং কুরআন-হাদীস চর্চায়ও মেডিটেশন জিনিসটা দরকার বলে মনে করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন –

সঠিকভাবে আপনি যাতে কোরআন এবং হাদীস অনুধাবন করতে পারেন, অধ্যয়ন করতে পারেন, হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন- এজন্যে মাথাটাকে ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন। আর এ জন্যেই মেডিটেশন। ব্রেনটাকে বেশি করে ব্যবহার করতে মেডিটেশনের বিকল্প নেই।[১১১]

অর্থাৎ আপনি নামাজ পড়ুন বা কুরআন-হাদীস পড়ুন, মনোযোগ বা একাগ্রচিত্তের জন্য আপনাকে মেডিটেশন করতে হবে। তার মানে হল ইবাদতে একাগ্রচিত্ততা আনার অপরিহার্য এক অংশ হচ্ছে মেডিটেশন। ছোট্ট একটা সমস্যা রয়ে গেছে এখানে – কুরআন বা হাদীসে কোথাও মেডিটেশনকে ইবাদত কিংবা ইবাদতের অপরিহার্য কিছু বলে উল্লেখই করা হয়নি। নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য রাসুল (স), তাঁর চার খলিফা কিংবা তাঁর সাহাবীগণ – কাউকেই নামাজের আগে কিংবা কুরআন পাঠের আগে মেডিটেশন করতে দেখা যায়নি। তাই নামাযের পূর্বশর্ত হিসেবে মেডিটেশন দরকার – কথাটা কেমন যেন গোলমেলে। তাছাড়া রাসুলের সুন্নতে যেহেতু মেডিটেশন করার কোন উল্লেখ নেই তাই বলা যায় যে ইসলামের সাথে এর কোনই সম্পৃক্ততা নেই। উপরন্তু এটি এসেছে অন্য ধর্মের উপাসনা/তপস্যা থেকে। তাই এটা ইসলাম পরিপন্থী। এটা যে অন্য ধর্ম হতে আগত সেটা আগেও মেডিটেশনের ইতিহাস থেকে দেখেছি। তারপরও আমরা কোয়ান্টাম মেথডে ব্যবহৃত কিছু শব্দ দেখব, যেগুলো মূলত অন্য ধর্মের উপাসনায় ব্যবহৃত হয় এবং এগুলোর উৎপত্তিও ঐসব ধর্ম থেকে। এর একটি হচ্ছে “নির্বাণ” যাকে শিথিলায়নের চেয়ে ধ্যানের একটি উচ্চস্তর হিসেবে বলা হয়েছে [১১২] আর অন্যটি হচ্ছে “কুন্ডলিনী”, যা কোয়ান্টাম মেথড রিয়েলাইজেশন কোর্স এ শিক্ষা দেয়া হয় [১১৩]। নির্বাণ সম্পর্কে বলতে হলে বলতে হয়-

Nirvāṇa (Sanskrit: निर्वाण; Pali: निब्बान nibbāna ; Prakrit: णिव्वाण) is an ancient Sanskrit term used in Indian religions to describe the profound peace of mind that is acquired with moksha (liberation). In shramanic thought, it is the state of being free from suffering. In Hindu philosophy, it is union with the Brahman (Supreme Being). The word literally means “blown out” (as in a candle) and refers, in the Buddhist context, to the imperturbable stillness of mind after the fires of desire, aversion, and delusion have been finally extinguished. [১১৪]

কুন্ডলিনী সম্পর্কে –

Kundalini (kuṇḍalinī, Tamil: குண்டலினி/வாலை, Sanskrit: कुण्डलिनी, Thai: กุณฺฑลิน) literally means coiled. In yoga, a “corporeal energy” – an unconscious, instinctive or libidinal force or Shakti, lies coiled at the base of the spine. It is envisioned either as a goddess or else as a sleeping serpent, hence a number of English renderings of the term such as “serpent power”. It is reported that kundalini awakening results in deep meditation, enlightenment and bliss. In practical terms, one of the most commonly reported Kundalini experiences is the feeling of an electric current running along the spine. [১১৫]

ঘুরেফিরে সবকিছুই সেই হিন্দু অথবা বৌদ্ধ ধর্ম থেকেই আসছে। তাহলে ইসলামের কি থাকল এখানে? না জেনে শুনে কোয়ান্টাম মেডিটেশন করে আসলেই কি আমরা ইসলামকে জলাঞ্জলী দিচ্ছি?

মাটির ব্যাংক

আগের আলোচনায় আমরা দেখেছিলাম যে মাটির ব্যাংককে আসলে কল্যান পাবার শর্টকাট একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে – যেমন, ফাইল হারিয়ে গেছে তো মাটির ব্যাংকে টাকা রাখুন হারানো ফাইল চলে আসবে, ব্যবসায় উন্নতি দরকার তো মাটির ব্যাংকে টাকা রাখুন দ্রুত সাফল্য আসবে, বাড়ীঘর বিক্রি করতে চান তো মাটির ব্যাংকে টাকা রাখুন অধিক দামে বিক্রি হয়ে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ এখানে ধরে নেয়া হচ্ছে মাটির ব্যাংকে টাকা রাখলে মানুষের কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পারে, অথচ ইসলামী শিক্ষা হল কল্যাণ একমাত্র আল্লাহ পাকের কাছ থেকেই আসে, আর কারও জন্য কোন ক্ষতি নির্ধারিত হলে সেটাও একমাত্র আল্লাহ তা’আলার নিয়ন্ত্রণে, আল্লাহর সাথে এতে কোন অংশীদার নেই। তাই মাটির ব্যাংকে টাকা দিলে জীবনে কল্যান-উন্নতি আসে এমনটা ধারণা করলে অর্থাৎ মাটির ব্যাংককে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করলে তা শিরক হবে।

আর যদি দাবী করা হয় যে মাটির ব্যাংকে টাকা রাখার কারণে কল্যাণ ত্বরান্বিত হয়, অর্থাৎ মাটির ব্যাংকে টাকা দিলে নিমিষেই আল্লাহ আপনার মনোবাসনা পূরণ করবেন তবে কোন ঘটনার উপকরণ বা “সাবাব” হিসেবে এমন কিছুকে নির্ধারণ করা হল, যাকে আল্লাহ পাক সেই ঘটনার উপকরণ বা সাবাব হিসেবে নির্ধারণ করেননি। অবস্থাভেদে এটা বড় বা ছোট শিরক হতে পারে। এই কারণেই তাবিজ এর ব্যবহার ইসলামে নিষিদ্ধ।

এখানে আরো কিছু ব্যাপার আছে। যেমন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন মানত ও দানকে একই কাতারে ফেলে দিয়েছে।[১১৬] অথচ দান ও মানত সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন জিনিস। দান হতে হবে নিঃশর্ত এবং তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নিজের স্বার্থের জন্য নয়। অর্থাৎ দান করার সময় আপনি কোন শর্ত আরোপ করে দেবেননা – যদি আমার অমুক ইচ্ছা পূরণ হয় তবেই আমি দান করব – এরকম কোন কিছু হলে সেটা দান হয়না বরং সেটা মানত হয়ে যায়। মানত এ নিজের স্বার্থ জড়িত থাকে এবং তা হয় শর্তযুক্ত। সোজা কথায়, কোনো বিষয় অর্জিত হওয়ার শর্তে কোনো কিছু করার ওয়াদাকে সাধারণত আমরা মানত বলে থাকি। যেমন আমরা কখনো কখনো বলি, যদি আমি পরীক্ষায় পাশ করি তাহলে মাদ্রাসায় একটি ছাগল জবাই করব। এটি একটি মানত।

আসলে মানত করা ঠিক নয়। রাসুল (স) মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে সব সময় উম্মতদের নিরুৎসাহিত করেছেন। বিষয়টি আমরা অনেকেই জানি না। বরং মনে করি মানত করা খুব সওয়াবের কাজ। আসলে এটি কোনো সওয়াবের কাজ নয়। মানত প্রসঙ্গে হাদীসে আছে –

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন: মানত কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। তবে মানতের মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়।[১১৭]

সাহবি আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যেই বস্তু মহান আল্লাহ আদম সন্তানের জন্য নির্ধারণ করেননি মানত সেটি তার নিকটবর্তী করে না। বরং তাকদীরে যা আছে মানত সেটাই নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয় যা সে খরচ করতে চায়নি।[১১৮]

উপরের হাদীস দুটোর সারমর্ম হচ্ছে যে রাসূল (স) তাঁর উম্মতদের মানত করতে নিষেধ করেছেন। তাই আমাদের উচিত হবে কোনো অবস্থায় মানত না করা। অবশ্য মানত করে ফেললে তা পালন করতেই হবে কারণ মানত করলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমরা একটু পরই দেখছি। মানত করার মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয় – এ কথা বলে রাসূল (স) বুঝিয়েছেন, মানত করা একটি অনর্থক কাজ। সাধারণত কৃপণ স্বভাবের লোকেরা মানত করে থাকে। তারা সুস্থ ও নিরাপদ থাকা কালে দান-সদকা করে না। কিন্তু বিপদে পড়লে আল্লাহর পথে খরচ বা দান সদকা করার বড় বড় মানত করে। তাকদীরে যা লেখা আছে তা হবেই। মানত করার মাধ্যমে তাকদীরের লেখা পরিবর্তন করা যায় না। তাকদীরের প্রতি যাদের যথাযথ ঈমান নেই সাধারণত তারাই মানত করে থাকে। অর্থাৎ মানত করা হোক বা না হোক – ফলাফল একই হবে।

তবে হ্যাঁ – মানত করলে তা আদায় করতেই হবে। কেউ যদি কোনো ভাল কাজ করার মানত করে তাহলে তাকে তা পালন করতেই হবে। যাকে আমরা বলি মানত পুরো করা। মানত পুরো করা ওয়াজিব, না করলে গুনাহ হবে[১১৯]। মানত সম্পর্কে আল্লাহ তা’লা বলেন –

তারা যেন তাদের মানতসমূহ পূরণ করে।[১২০]

তোমরা যা কিছু ব্যয় কর অথবা যে কোনো মানত কর তা অবশ্যই আল্লাহ জানেন।[১২১]

আল্লাহ তাআলা সৎকর্মশীল ঈমানদারদের প্রশংসায় বলেন-

তারা মানত পূরণ করে।[১২২]

অর্থাৎ মানত করলে তা পূরণ করতেই হবে। আল্লাহ তাআলা মানত পূরণ করতে হুকুম করেছেন। তবে কুরআনের কোথাও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানত করতে আদেশ করেননি বা উৎসাহ দেননি (যেমনটি তিনি দিয়েছেন দানের ব্যাপারে) কিংবা অন্য কোনো আয়াতেও দিয়েছেন এমনটি পাওয়া যায়নি। কেউ মানত করলে কিংবা কোনো খরচ করলে আল্লাহ তা ভালভাবেই জানেন। তাই কেউ যদি মানত করে তবে মানত পূরণ না করে কোনো উপায় নেই।

তাছাড়া কোন কিছু চাইবার জন্য আল্লাহতা’লার কাছে মানত করারই বা দরকার কি? আল্লাহতা’লা আমাদের একমাত্র রব, তাঁর কাছে আমরা নিঃসংকোচে যেকোন কিছু চাইতে পারি। কোন কিছু পাবার জন্য তাঁকে শর্ত আরোপ করারই বা কি দরকার। শর্তারোপের ব্যাপারটা যেন কেমন হয়ে গেলনা? আমি আল্লাহতা’লাকে বললাম যে হে আল্লাহ আমাকে চাকরি দিয়ে দাও তাহলে আমি মাটির ব্যাংকে চাকরির প্রথম মাসের টাকা দিয়ে দেব। ব্যাপারটা অনেকটা ব্যবসায়িক চুক্তির মত হয়ে গেল, অর্থাৎ আল্লাহতা’লা যদি তাঁর কাজ সম্পাদন করেন তবে আমি আমারটা সম্পাদন করব। অথচ আল্লাহতা’লাকে এভাবে শর্ত দেবার আমি কে? আমি তো নগন্য একজন বান্দা, তাঁর উপর শর্তারোপ করার ক্ষমতা আমার আছেই বা কতটুকু?

এ কারণেই রাসুল (স) মানত করতে নিষেধ করেছেন, আর তিনি যা নিষেধ করেছেন তা করা কতটুকু সমীচীন একজন মুসলিম হিসেবে নিশ্চয়ই আপনাকে বলে দিতে হবেনা। অথচ দেখা যাচ্ছে যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সবাইকে মানত করতে এবং মানতের টাকা মাটির ব্যাংকে রাখতে নানাভাবে (একবারে মানতের টাকা যোগাড় করতে না পারলেও সমস্যা নেই, কিস্তিতে তা দেয়া যাবে) উৎসাহিত করে যাচ্ছে।[১২৩] আমাদের রাসুল (স) যা করতে নিষেধ করেছেন তাই-ই করতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন উৎসাহ যোগাচ্ছে – ব্যাপারটা একটু কেমনতর হয়ে গেলনা?

ভবিষ্যৎ জানা ও জ্যোতিষশাস্ত্র

দান ও মানতের মতোই বিভ্রান্তিকর দুটো শব্দ হচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্র – একটি বিজ্ঞান আরেকটি শাস্ত্র যাতে কোন বিজ্ঞান নেই। জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) ও জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) বিষয় দুটি নিয়ে আগেই আলোচনা করেছি আমরা এবং সেখানে দেখেছিলাম যে ইসলামে জ্যোতিষশাস্ত্রের কোন স্থান নেই। কারণ একজন মুসলিম বিশ্বাস করে ভবিষ্যৎ বা গায়েব কেবলমাত্র আল্লাহ তা’লা জানেন, আর কেউ তা জানেনা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’লা বলেন –

আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?[১২৪]

তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে।[১২৫]

অথচ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দাবী করছে যে ইচ্ছা করলে যে কেউ ভবিষ্যৎ বা গায়েব জানতে পারে এবং সে অনুযায়ী নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। এ প্রসঙ্গে তারা কুরআনের একটি আয়াতের নিচের মত ব্যাখ্যা দিয়েছে –

পবিত্র কোরআনের সূরা জ্বীনের ২৬-২৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘গায়েব বা ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র তিনিই জানেন, যদি না তিনি কাউকে জানান, যেমন তিনি রসুলদের জানিয়েছেন।’ অর্থাৎ জানার পথ খোলা আছে। তিনি যে কাউকে ইচ্ছা ভবিষ্যৎ জানাতে পারেন, যে কাউকে ইচ্ছা গায়েব জানাতে পারেন, এটা ওনার এখতিয়ারে। আর এটা আল্লাহর একটি আশ্বাসই যে, যে যা জানতে চায়, আল্লাহ সেই বিষয়ে তাকে জ্ঞান দান করেন।[১২৬]

অথচ সূরা জ্বিনের ২৬, ২৭ এবং ২৮ নম্বর আয়াত তিনটি হচ্ছে –

২৬। তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না,
২৭। তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। সে ক্ষেত্রে তিনি রাসূলের সামনে এবং পেছনে প্রহরী নিয়োজিত করেন
২৮। রাসূলগণ তাদের প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন কি না জানবার জন্য। রাসূলগণের নিকট যা আছে তা তাঁর জানা রয়েছে এবং তিনি সমস্ত কিছুর বিস্তারিত হিসাব রাখেন। [১২৭]

অর্থাৎ রাসুল ব্যতীত আল্লাহতা’লা কাউকে তাঁর গায়েবের জ্ঞান দেননা। এবং তাঁদের গায়েবের জ্ঞান দেবার পর ফেরেশতা দ্বারা তাঁদের পরিবেষ্টিত করে দেন। তাই জানার পথ খোলা আছে, যে কেউ আল্লাহতা’লার গায়েবী জ্ঞান জেনে নিতে পারবেন – ব্যাপারাটা মোটেও সত্যি নয়। আল্লাহপা’ক বলেন –

আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।[১২৮]

অর্থাৎ নবী রাসুলগণও গায়েব জানেননা, শুধুমাত্র আল্লাহ তাদেরকে যতটুকু জানান তাঁরা ততটুকুই জানেন। যেখানে আল্লাহতা’লা নিজেই ঘোষনা করেছেন যে মনোনীত রাসুল ব্যাতীত আর কাউকে তিনি অদৃশ্যের জ্ঞান জানান না সেখানে আমার আপনার মত নগন্য মানুষকে সেই জ্ঞান দিয়ে দেবেন – এমন চিন্তা করাটাইতো গুনাহ। অথচ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সূরা জিনের এই আয়াতটির ভুল ব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

সমস্যা আরো আছে, ইসলামের দৃষ্টিতে জ্যোতিষশাস্ত্র হারাম কিনা – এমন প্রশ্নের[১২৯] জবাবে ইসলামে যে জ্যোতিষশাস্ত্র হালাল তা বোঝানোর জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান আর জ্যোতিষশাস্ত্রকে এক করে একটি জগাখিচুড়ী ধরণের জবাব দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই জবাবে বলা হয়েছে যে পবিত্র কুরআনে জ্যোতিষশাস্ত্র তথা রাশিচক্রকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে –

পবিত্র কোরআনের ৮৫ নং সূরাটির নাম ‘বুরুজ’, যার মানে রাশিচক্র। আরবি ভাষায় রাশিকে বুরুজ বলা হয়।[১২৬]

যারা তাফসীরের মূলনীতিগুলো জানেন, তাদের একথা জানা যে এটি একটি ভুল অনুবাদ। আসলে বুরুজ শব্দের অর্থ বড় প্রাসাদ ও দূর্গ। অধিকাংশ তাফসীরবিদদের মতে বুরুজ অর্থ বড় বড় নক্ষত্র। কয়েকজন তাফসীরবিদ এ স্থলে অর্থ নিয়েছেন প্রাসাদ; অর্থাৎ সেইসব গৃহ যা আকাশে প্রহরী ও ফেরেশতাদের জন্য নির্ধারিত। পরবর্তীকালে কোন কোন তাফসীরবিদ দার্শনিকদের পরিভাষায় বলেছেন যে সমগ্র আকাশমন্ডলীকে বার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এর প্রত্যেক ভাগকে বুরুজ বলে। তাদের ধারণা, স্থিতিশীল গ্রহ-নক্ষত্রসমূহ এসব বুরুজের মাঝেই অবস্থান করে। কিন্তু এটা সম্পূর্ন ভুল। কুরআন বলে না যে গ্রহগুলো আকাশে স্থির বরং কুরআনের মতে প্রত্যেক গ্রহ নিজস্ব গতিতে গতিশীল।[১৩০] তাই সূরা বুরুজ মানে রাশিচক্র – কথাটি সম্পূর্ণ ভুল।

তাছাড়া বলা আছে যে –

ইসলামের স্বর্ণযুগে যত বড় বড় আরব পণ্ডিত ছিলেন – আল বেরুনী থেকে শুরু করে আল বাত্তানী, আল কিন্দি, আল জারকানি, ইবনে বাজ্জা, ইবনে তোফায়েল, ইবনে আরাবী, ইব্রাহীম আল ফাযারি, আল ফারগানি, আল খারেজমি, আল তারাবি, ওমর খৈয়াম, ইবনে ইউনুস, নাসিরুদ্দিন আল তুসী প্রমুখ ইসলামি মনীষীগণ এস্ট্রলজি চর্চা করেছেন। কারণ তাদের অনুপ্রেরণা ছিলো পবিত্র কোরআনের বাণী, “নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন-রাত্রির আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। তারা দাঁড়িয়ে, বসে বা শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে। তারা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিরহস্য নিয়ে ধ্যানে নিমগ্ন হয় এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি কর নি।”[১২৬]

সুরা আল ইমরানের ১৯০-১৯১ আয়াত দুটোর অর্থ আমরা এর আগেও বিস্তারিতভাবে দেখেছিলাম। আয়াত দুটোর সম্পূর্ণরূপ হচ্ছে –

১৯০। নিশ্চয়ই আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন-রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকের জন্য
১৯১। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে ও বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এটা নিরর্থক সৃষ্টি করনি, তুমি পবিত্র, তুমি আমাদেরকে দোজখের শাস্তি হতে রক্ষা কর।

অর্থ্যাৎ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি নিবিড় পর্বেক্ষণ তাকে উদ্বুদ্ধ করে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মাফ চাইতে যা মুসলিমের অন্যতম অন্যতম বিশ্বাস মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ও বিচারদিনের বিষয়টিকেই প্রতিফলিত করে। এখানে জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। এ ব্যাপারেও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন পবিত্র কুরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করেছে।

তাছাড়া কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যে ইস্তিখারাহ সালাতকে স্বপ্নচর্চা বা স্বপ্নে ভবিষ্যৎ দেখার একটি মাধ্যম বলে আসছে[৬০] সেটাও সম্পূর্ণ ভুল। ইস্তিখারাহ সালাতের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দেখা যায়না। “ইস্তিখারাহ” এর অর্থ হল আল্লাহতা’লা’র কাছ থেকে কল্যাণ চেয়ে নেওয়া। এর উদ্দেশ্য হল দুটি বস্তু থেকে ভালটি কামনা করা। যেমন ধরুণ আপনি দুটো ভালো কোম্পানিতে চাকরির অফার পেয়েছেন, আপনি বুঝতে পারছেননা যে কোনটি আপনার জন্য ভাল হবে। আপনি ইস্তিখারার সালাত আদায় করে আল্লাহতা’লা’র কাছে দোয়া চাইবেন যে যেটা আপনার জন্য ভাল হবে আল্লাহতা’লা যাতে আপনাকে সেটার পথেই পরিচালিত করেন। সবসময় যে স্বপ্ন মাধ্যমেই সব জেনে যাবেন এমন কোন কথা নেই, আরো অনেকভাবেই আল্লাহতা’লা আপনাকে সাহায্য করবেন, যেমন – যে চাকরিটা আপনার জন্য ভালো হবে সেটাতে জয়েন করা আপনার জন্য সুগম হয়ে যাবে আর অন্যটা হয়ে যাবে খুব কঠিন। কিংবা আরো অনেকভাবেই আল্লাহতা’লা আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

It is not necessary that you get a dream or even a “feeling.” Rather, the istikhara is a prayer that Allah guide you towards that which is best (khayr) for you. If you do the prayer of guidance (istikhara) with the proper manners, the most important of which is to truly consign the matter to Allah and suspend your own inclinations, then Allah will make events unfold in the direction that is the best for your worldly and next-worldly affairs.[১৩১]

অর্থাৎ কোন কাজে আল্লাহতা’লার নির্দেশনা চাইবার জন্য ইস্তিখারা সালাত আদায় করা হয়, ভবিষ্যৎ দেখার জন্য নয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যে অ্যাস্ট্রলজি বা জ্যোতিষশাস্ত্র ও ভবিষ্যৎ জানার পক্ষে সাফাই গাইছে সেটা আসলে কত বড় গুনাহ’র কাজ। জ্যোতিষী বা ভবিষ্যৎ দ্রষ্টাদের নিয়ে রাসুল (স) বলেছেন –

যদি কেউ কোন গায়েবী বিষয়ের সংবাদদাতা বা ভবিষ্যদ্বক্তা’র কাছে যায় এবং তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে, তবে ৪০ দিন পর্যন্ত তার কোন নামায কবুল হবে না। [১৩২]

কমান্ড সেন্টার

আগের অংশেই আমরা গায়েব বা ভবিষ্যৎ জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছি এবং কুরআন ও হাদীসের কথানুযায়ী দেখেছি যে যে এতে আল্লাহ ছাড়া আর কারো অংশীদার নেই। আমরা এও দেখেছি যে, কীভাবে কুরআনের আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে এই জঘন্য বিষয়টিকে ইসলামে অনুমোদিত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেই সাথে আমরা এও আলোচনা করেছি যে আমাদের সবকিছুর নিয়ন্ত্রণকারী মহান আল্লাহতা’লা, তাঁর আদেশ ছাড়া গাছের পাতাও পড়েনা। তাই ভবিষ্যৎ জেনে আগে থেকেই ভবিষ্যৎ ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ কেবলমাত্র আল্লাহ তা’লার এখতিয়ারে রয়েছে। কিন্তু কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে কমাণ্ডসেন্টারের প্রয়োগের যে নমুনা (টেন্ডারের ভবিষ্যৎ সর্বনিম্ন মূল্য জেনে যাওয়া বা ভিসা বোর্ডে কী রকম পরিস্থিতি হবে তা আগে ভাগেই নিয়ন্ত্রণ করা) আমরা দেখেছিলাম, তাতে মানুষকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দাবী করছে যখন সে গায়েবের জ্ঞানের অধিকারী হয় এবং নিজের ও অন্যের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।[১৩৩] আর এ রকম ধারণা পোষণ করা যে কাউকেই সরাসরি শিরকের মধ্যে নিমজ্জিত করে ফেলে।

অন্তর্গুরু

ইসলামের কোন পুরোহিততন্ত্র (Priesthood[১৩৪]) নেই – যা এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। পীরের মুরিদ হওয়ার কোন সুযোগ ইসলামে নেই বরং তা যে কিভাবে মানুষকে শিরকের দিকে ডাকে আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে তা বোঝা মোটেও কঠিন নয়। কোয়ান্টাম মেথডের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও ভয়ংকর এই কারণে যে এখানে অন্তর্গুরু কল্যাণ বা অকল্যাণ করার ক্ষমতা রাখেন যা শিরক হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ রাখেনি। এ ব্যাপারে কোয়ান্টম মেথড বলে-

কমান্ড সেন্টার নির্মাণ করে সবকিছু ঠিকমত সাজানোর পর ধ্যানের বিশেষ স্তরে অন্তর্গুরুর আগমন ঘটে। অন্তর্গুরু প্রথমে সকল অদৃশ্য অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির জন্যে ‘সাইকিক বর্ম’ প্রদান করেন। এই সাইকিক বর্ম অতীতের সকল অশুভ প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং ভবিষ্যতের এ ধরনের প্রভাব থেকে তাকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখে।[১৩৫]

অর্থাৎ অন্তর্গুরু আপনাকে অকল্যান থেকে মুক্ত রাখবেন। অথচ আমরা জানি আমাদের অকল্যান ও অশুভ শক্তি থেকে মুক্ত রাখার একমাত্র মালিক হচ্ছেন আল্লাহতা’লা। যে কোন সমস্যায় আমরা তাঁর কাছেই মুক্তি চাই। আল্লাহতা’লা বলেন –

১। আপনি বলুন, আমি ঊষার প্রভুর নিকট আশ্রয় চাই।
২। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে।
৩। এবং (রাত্রির) অন্ধকারের অনিষ্ট হতে যখন তা (সবকিছু) ঢেকে ফেলে।
৪। এবং গ্রন্থিসমূহে যে সকল নারীগণ (যাদু করে) ফূৎকার দেয় তাদের অনিষ্ট হতে।
৫। আর হিংসুক যখন হিংসা করে তার অনিষ্ট হইতে।[১৩৬]

সূরা আননাস এর মূল কথাও একই। অথচ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আল্লাহ তা’লাকে বাদ দিয়ে একজন অন্তর্গুরুর উপর নিজেকে অশুভ শক্তি হতে মুক্ত রাখার জন্য নির্ভর করছে। কত বড় মাপের শিরক এটি চিন্তা করুন?

এবার চলুন আমরা দেখি যে কে হতে পারবে অন্তর্গুরু? কাকে আপনি অন্তর্গুরু হিসেবে মেনে নেবেন? এ ব্যাপারেও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের দিকনির্দেশনা রয়েছে –

অন্তর্গুরু বা মুর্শিদ কে হতে পারেন? আপনি যাকে মনে করেন যে, তিনি আপনাকে জীবনের পথে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে পারবেন, তাকেই আপনি অন্তর্গুরু হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। তবে যে ধ্যান বা মেডিটেশন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া আপনি অনুসরণ করবেন, সে প্রক্রিয়ার উদ্ভাবক বা প্রশিক্ষককে অন্তর্গুরু হিসেবে গ্রহণ করা সবসময়ই বেশি কার্যকরী। বাস্তব জীবনে আপনার বিষয় সম্পর্কে গুরুর কোনো জ্ঞান না-ও থাকতে পারে কিন্তু ওই স্তরে তিনি সে বিষয়ে আপনার চেয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী। [১৩৫]

এ নির্দেশনা অনুযায়ী কোয়ান্টাম মেথডের প্রচলনকারী মহাজাতক সাহেবই হবেন অন্তর্গুরু। তাই যদি হয় তবে অন্তর্গুরুর বৈশিষ্ট্যানুযায়ী মহাজাতক সাহেবের এমন ক্ষমতা রয়েছে যাতে করে তিনি তার শিষ্যদের সকল অশুভ শক্তি থেকে মুক্ত রাখতে পারেন! যে গুণ আল্লাহর থাকার কথা, সেই গুণ কোয়ান্টামের সদস্যরা তাদের গুরুজী মহাজাতকের হাতে অর্পণ করছেন – কী নির্মম ধরণের শিরক এটি!

কোয়ান্টাভঙ্গি

কোয়ান্টাভঙ্গি নিয়ে আমরা আগেই আলোচনা করেছিলাম যে, এটির উৎপত্তিস্হল মোটেই ইসলাম নয়। হিন্দু বৌদ্ধ ধর্ম থেকে আগত এই উপাসনার ভঙ্গির সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন অবশ্য এর জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ব্যখ্যা দিতে সমর্থ হলেও কুরআন-সুন্নাহ’র আলোকে ইসলামী কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। যদিও একটা মনগড়া ব্যাখ্যা তারা দিয়েছে যে, এই ভঙ্গি করলে হাতের মাঝে আরবীতে “আল্লাহু” লেখা হয়ে যায়। কিন্তু কুরআন বা হাদীসানুযায়ী এর কোন সত্যতা নেই, আল্লাহতা’লা আমাদের এই ভঙ্গিতে কোন ইবাদত করতে আদেশ/উৎসাহ দেননি, রাসুল (স) ও এই ভঙ্গিতে কোন ইবাদত করেননি কিংবা তাঁর সাহাবীদের করতে বলেননি। এটা পুরোপুরি কুফর ধর্ম থেকে আসা একটা উপাসনা/তপস্যা পদ্ধতি। মুসলমানদের জন্য ইবাদত করার ভঙ্গি কি হবে তা নিয়ে প্রচুর হাদীস রয়েছে। এরকম একটি হাদীস হচ্ছে –

আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। অতঃপর রাসূলের নিকটে এসে তাকে সালাম করলে রাসূল তার সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন— তুমি ফিরে যাও, এবং পুনরায় সালাত আদায় কর, কারণ, তোমার সালাত হয়নি। অতঃপর লোকটি সালাত আদায় করল। সালাত শেষে রাসূলের কাছে এসে তাকে সালাম জানাল। রাসূল সা. এবারও বললেন, তুমি আবার ফিরে যাও, এবং সালাত আদায় কর, কারণ, তোমার সালাত হয়নি। এভাবে তিনি তিনবার বললেন। লোকটি বলল, যে সত্তা আপনাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তার শপথ ! আমি এর চেয়ে উত্তমরূপে আদায় করতে সক্ষম নই। সুতরাং আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি এরশাদ করলেন, যখন তুমি সালাতে দণ্ডায়মান হবে, প্রথমে তাকবীর দেবে। অতঃপর কোরআন থেকে তোমার জন্য সহজ—এমন কিছু পাঠ করবে। এরপর ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে, এবং সোজা হয়ে দণ্ডায়মান হবে। তারপর সেজদারত হবে মগ্ন হয়ে, এবং সোজা হয়ে বসবে। পুনরায় সেজদায় গমন করবে, পূর্বের মত ধীরস্থিরভাবে। এভাবে তুমি তোমার সালাত সমাপ্ত করবে।[১৩৭]

ইসলামের কোথাও এই কোয়ান্টাভঙ্গি বা কোয়ান্টাসংকেত বা কোয়ান্টাধ্বনি নিয়ে কিছু বলা নেই, এমনকি এগুলোকে সমর্থন করে এরকম কিছুও কুরআন-হাদীসে উল্লেখ নেই। তবে অন্যান্য ধর্মে (বিশেষ করে হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম) এই মুদ্রার ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়, মূলত সেসব ধর্মের ধ্যান, উপাসনা, তপস্যা ইত্যাদি কাজেই এই মুদ্রা ব্যবহৃত হয়।[১৩৮]

যাকাত ফান্ড

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যাকাত ফান্ডের মাধ্যমে যাকাতের অর্থ সংগ্রহ করে তা বিতরণ করে। এক্ষেত্রে তারা অমুসলিমদের মাঝেও যাকাত বিতরণ করে। এটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? ইসলামে যাকাতের আটটি খাত সম্পর্কে আল্লাহতা’লা সুরা আততাওবা’র ৬০তম আয়াতে বলেন-

সাদকা (এখানে যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট (যাকাত আদায় ও বিতরণের সাথে যুক্ত) কর্মচারীদের জন্যে, যাদের অন্তর (ইসলামের জন্য) আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্যে, দাসমুক্তির জন্যে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্যে। এটা আল্লাহর বিধান। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞামায়।

এ সম্পর্কে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে বলা আছে –

>> ভিন্নধর্মী, পাহাড়ি, ধর্মহীন কাউকে যাকাত দেয়া যাবে কি-না?
>> মহান আল্লাহ যাকাত ব্যয়ের যে ৮টি খাত নির্দিষ্ট করেছেন তাতে ফকির-মিসকিন বলা আছে। ঈমানদার ফকির-মিসকিন বলা হয় নি। [১৩৯]

অর্থাৎ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলছে যে যেহেতু কোথাও ঈমানদার ফকির মিসকিনের কথা বলা হয়নি তাই ভিন্নধর্মী বা ধর্মহীনদের যাকাত দেয়া যায়। কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও বিভিন্ন হাদীস পর্যালোচনা করে ইসলামিক পন্ডিতগণের দেয়া মতামত অবশ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সাথে একেবারেই মিলেনা। তাঁদের মতে – যাকাত একটি ফরজ ইবাদত এবং একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে যাকাত দিবে। যদি আপনার আশপাশে বা পরিচিত কোন মুসলিমদের মাঝে যাকাত গ্রহনের মত কেউ না থাকে তবে সেক্ষেত্রে অমুসলিমদের যাকাত দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ একজন মুসলিমের যাকাত পাবার হক সবচেয়ে বেশি এবং সে-ই যাকাত পাবার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।[১৪০][১৪১][১৪২] এবং এরকম যাকাত পাবার মত মুসলমান আমাদের চারপাশেই প্রচুর পরিমানে রয়েছে। তার মানে এই নয় যে অমুসলিমদের দান করা যাবেনা। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং সবাইকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে থাকার জন্য ইসলামে বিভিন্নভাবে দান করাকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এরকমই একটা ব্যবস্থা হচ্ছে সাদকা। যাকাত হচ্ছে সবচেয়ে কম পরিমানের একটা দান যেটা করা আল্লাহতা’লা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন এবং এটা কেবল মুসলিমদের জন্যই। আর সাদকা হচ্ছে ঐচ্ছিক দান যা সবাইকেই দেয়া যায়। অমুসলিমদের সাদকা দেয়া যেতে পারে।[১৪৩][১৪৪]

অতএব আপনি যদি আপনার মুসলিম কোন ভাইকে বঞ্চিত করে ভিন্নধর্মী বা ধর্মহীন কাউকে যাকাত দিয়ে ফেলেন, ইসলামিক বিদ্বানদের মতানুযায়ী সেক্ষেত্রে আপনার যাকাত আদৌ আদায় হবেনা। তাই যাকাত দেবার ক্ষেত্রে আমাদের আগে আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের বিবেচনা করতে হবে, এবং আমাদের মত গরীব দেশে এরকম মুসলিম ভাই-বোন এতবেশি পাওয়া যায় যে যাকাত দিয়ে কূল পাবার কথা না। একটু চোখ মেলে তাকান, আপনার আশপাশেই এরকম প্রচুর দরিদ্র মুসলিম যাকাত গ্রহীতা পেয়ে যাবেন।

সকল ধর্মই এক

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ইসলাম নিয়ে খুব কথা বললেও তারা মনে করে যে সকল ধর্মই এক। যে কারণে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আল্লাহ’র কাছে শুক্রিয়া আদায় করা আর হিন্দুদের হরি ওম বলার মাঝে কোন পার্থক্য দেখেনা –

সকালে ঘুম ভাঙতেই বলুন, ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ/ হরি ওম!/ থ্যাংকস গড বা প্রভু আমি কৃতজ্ঞ নতুন একটি দিনের জন্যে’। [১৪৫]

তাদের কাছে যে সকল ধর্মই সমান এটা অবশ্য তাদের বিভিন্ন কাজ কর্মেও বোঝা যায়। যেমন তারা অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের বাণীও প্রচার করে থাকে। তারা কুরআন ও হাদীসের পাশাপাশি বেদ[১৪৬], গীতা[১৪৭], ধম্মপদ[১৪৮] ও বাইবেলের[১৪৯] বাণীও প্রচার করে। অর্থাৎ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে যে শুধু কুরআন-হাদীসই একজনের জন্য যথেষ্ট নয়, অন্যান্য ধর্ম থেকেও আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। এইখানেই মূল সমস্যা, কারণ ইসলাম আসার পর বাকী সব ধর্ম বাতিল হয়ে গেছে। ইসলামই যে একমাত্র জীবনব্যবস্থা তা জানাবার জন্য আল্লাহতা’লা বিদায় হজ্জ্বের মাঠে নিচের দুটি আয়াত নাযিল করেন-

আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। [১৫০]

আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [১৫১]

অর্থাৎ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের কোন কিছু নেয়া যাবেনা বা অনুসরণ করা যাবেনা, যদি এরকম কেউ করেও থাকে তবে তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে। এই চিন্তাটা “আপাতঃ দৃষ্টিতে” খুব সাম্প্রদায়িক এবং অসহিষ্ণু মনে হলেও করার কিছু নেই। কারণ ইসলামের এই ‘Salvific Exclusivity’ (পরলৌকিক মুক্তি শুধুই ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদের জন্য) তে বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের একটি অংশ।

আসলে সকল ধর্মের মর্মকথা একই – পার্থক্য শুধু অভিব্যক্তিতে বা বাহ্যিক প্রকাশে বা rituals-এ” – এই কথা যদি সত্যি হত, তবে মুহাম্মদ (স)-এঁর মিশনের কোন প্রয়োজনই ছিল না । মক্কার পৌত্তলিকরা সবাই আল্লাহ মানতো – আবু জাহেল, আবু লাহাব সবাই আল্লাহয় বিশ্বাস করতো – কথায় কথায় আল্লাহকে নিয়ে শপথ করতো ৷ কিন্তু তবু আমরা তাদের কাফির ও মুশরিক বলে থাকি এবং কাফির ও মুশরিকের সাথে কিছুতেই মুসলিমদের প্রেম-প্রীতি, সহ-অবস্থান, সামাজিকতা বা নির্বিচার মেলামেশা যে সম্ভব নয়, সে কথা পবিত্র কুর’আনের বহু আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। রাসূল (স)- এঁর বহু হাদীসেও মুসলিমদের সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। কোন মতবাদ যদি তাকে এই দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করতে বলে যে, সকল ধর্মই এক বা কোন কাজ করতে বলে যা অন্য কোন ধর্মের ইবাদাতের অংশ হিসেবে প্রমাণিত বা কোন কাজ যে অনুমোদিত তা বোঝানোর জন্য অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ থেকে রেফারেন্স দেয়া হয় বা অন্য কোন ধর্মের প্রবাদপুরুষ কাউকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে আপনাকে পথভ্রষ্টতার দিকে ডাকছে। হযরত উমর (রা) একবার তাওরাত কিতাবের কিছু পৃষ্ঠা সঙ্গে নিয়ে ঘুরছিলেন, সেটা দেখে রাসুল (স) তাঁকে তিরস্কার করেন আর বলেন যে, মূসা (আ) বেঁচে থাকলে, তাঁরও মুহাম্মদ (স) কে অনুসরণ করা ছাড়া কোন উপায় থাকতো না –

It was reported that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) became angry when he saw that ‘Umar had a page with something from the Tawraat written on it, and he (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “Are you in doubt, O son of al-Khattaab? Have I not brought you something shining and pure? If my brother Moosa were alive, he would have no choice but to follow me.” (Narrated by Ahmad and al-Daarimi, and others).[১৫২]

তাই অন্য কোন ধর্মের রীতি-নীতি কিংবা ধর্মগ্রন্থের বাণী আমাদের কাছে যত সুন্দরই লাগুক না কেন, সেগুলো গ্রহণ করার কোন উপায় নেই। যেখানে হযরত উমর (রা) এর মত শ্রেষ্ঠ মুসলিমদের একজনেরও আহলে কিতাবদের তাওরাতে কিছু খোঁজ করার অধিকার নেই – সেখানে “ভগবত গীতা” বা “বেদ”-এর তো প্রশ্নই ওঠে না! কাফির ধর্মে আমাদের জন্য কিছুই নেই। আর যে কাফিরদের কাফির মনে করেনা সে নিজেই কাফিরদের দলগত হয়ে যায়।[১৫৩] কারণ রাসূল (সা) বলে গেছেন যে, কোন গোষ্ঠীর অনুকরণ করবে, সে তাদেরই একজন বলে গণ্য হবে –

It was narrated that ‘Abd-Allaah ibn ‘Umar said: The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “Whoever imitates a people is one of them.” [১৫৪]

তাহলেই বলুন কোন ন্যূনতম মুসলিমও কি হিন্দু/বৌদ্ধ ঋষি বা সাধুদের অনুকরণ করতে পারে? চিন্তা করে দেখুন তো আন্তঃধর্ম মেলবন্ধন কিংবা সকল ধর্ম একই – এই ব্যাপারটা আপাতঃদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও তা কুরআন-হাদীসে বর্ণিত সাবধানবাণী অনুযায়ী আপনাকে কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলতে পারে? নিশ্চয়ই কুফরের অন্ধকারে।

কোয়ান্টাম মেথডের কর্মকান্ডগুলো কিভাবে ঘটে?

কমান্ড সেন্টার, অন্তর্গুরু, ভবিষ্যৎদৃষ্টি – এই যে বিষয়গুলো কোয়ান্টাম মেথডের সাথে জড়িত, তার বাস্তব সংঘটনের কথা তো অস্বীকার করা যায় না। কারন অনেকের সামনেই এগুলো ঘটেছে। কিন্তু আসলে কিভাবে এগুলো ঘটে? এর ব্যাখ্যাও রয়েছে। এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি যদি আমরা পর্যালোচনা করি, তাহলে আমাদের জানতে হবে জ্বিনদের সম্পর্কে।

Many shaykhs appear to levitate, travel huge distances in split instants of time, produce food or money from nowhere etc. Their ignorant followers believe these feats of magic to be divine miracles. But behind all of these phenomena lie the hidden and sinister world of the jinn. They are able to travel over vast distances instantaneously and enter human bodies prepared for entry. In many Christian and pagan sects people work themselves into a physical and spiritual frenzy, fall into a state of unconsciousness. In that weakened state the jinn may easily enter their bodies and cackle on their lips. This phenomenon has also been recorded by some sufi orders during their dhikr. Information about the past of an unknown person can easily be put into the subconscious mind by the jinn. [১৫৫]

এ থেকে এটা পরিস্কার যে মেডিটেশনের ধাপগুলো আসলে জ্বিনদের সাহায্য অর্জনের প্রক্রিয়া মাত্র। এই বিষয়ে কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক পড়াশোনা থাকলেই আমরা কমান্ড সেন্টারে অপরিচিত মানুষদের ব্যাপারে না দেখেই কীভাবে পুংখানুপুঙ্খ বিবরণ দেয়া হয় তা বুঝতে পারব। যাকে অন্তর্গুরু হিসেবে চাওয়া হচ্ছে তাকে কিভাবে দেখা যাবে তাও বোঝা যাবে। বিজ্ঞানমনস্ক অনেকেই হয়তো এই ব্যাপারটাকে আমলে নিবেননা, অনেকেই হয়তো জ্বিনদের অস্তিত্ব নিয়ে বিশ্বাসই স্থাপন করবেননা, কিন্তু যেখানে কুরআনে স্বয়ং আল্লাহতা’লা জ্বিনদের কথা বলেছেন সেখানে কোন অবিশ্বাসের সুযোগই নেই।

ইসলাম থেকে পথভ্রষ্টতার পথে

একজন মুসলিমকে ইসলামের পথ থেকে সরিয়ে কাফিরদের পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যাবার জন্য অনেক ধরণের কাজ রয়েছে। শায়েখ মুহাম্মাদ ইবন আব্দ আল ওয়াহাব[১৫৬] সহ বিভিন্ন ইসলামি বিদ্বানরা এদের মধ্য থেকে ঈমান ও ইসলাম বিনষ্টকারী দশটি সবচেয়ে সূক্ষ্ম কিন্তু মারাত্মক কাজকে[১৫৭] আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো হল –

    ১। আল্লাহর সাথে শিরক করা
    ২। আল্লাহ ও বান্দার মাঝে কাউকে মাধ্যম হিসেবে মান্য করা এবং এটা বিশ্বাস করা যে তার দ্বারা সহজেই আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানানো যায়
    ৩। কাফিরকে কাফির মনে না করা
    ৪। অন্য কোন ব্যক্তির শিক্ষাকে রাসুল (স) এর শিক্ষার চেয়েও বেশি ফলপ্রসু বা ভালো মনে করা
    ৫। রাসুল (স) মানব জাতির জন্য যে নির্দেশনা এনেছেন সেটা বা তার কোন অংশকে ঘৃণা বা অপছন্দ করা
    ৬। রাসুল (স) এর উপর অবতীর্ণ ধর্ম নিয়ে কোন ধরণের কৌতুক বা মজা করা
    ৭। জাদু-টোনা করা বা জাদু-টোনা করা সমর্থন করা
    ৮। মুশরিকদের সমর্থন দেয়া এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য করা
    ৯। কিছু লোক রাসুল (স) এর ধর্মের উর্ধ্বে ফলে তারা রাসুল (স) এর নিয়ম বহির্ভূত যে কোন কিছু করার অধিকার রাখেন – এমনটা বিশ্বাস করা
    ১০। আল্লাহতা’লার ধর্ম ইসলাম থেকে সরে আসা কিংবা ইসলাম সম্পর্কে কোন কিছু জানতে বা শিখতে না চাওয়া

উপরের কেবল এই দশটি কাজের তালিকা থেকে কোয়ান্টাম মেথড এর মাধ্যমে আমরা কিভাবে ঈমান ও ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়গুলোতে জড়িয়ে পড়তে পারি তা দেখা যাক।

কোয়ান্টাম মেথড আমাদের শেখায় – আমরা সব পারি, সকল ক্ষমতার উৎস আমার মন, ধ্যানের মাধ্যম সব নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, প্রকৃতির নেপথ্য শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, অন্যকে অসুখ হতে সারিয়ে তুলতে পারি, ভবিষ্যতের টেন্ডারের দাম দেখতে পারি (অর্থাৎ গায়েব জানতে পারি) ইত্যাদি ইত্যাদি। আল্লাহর গুনাগুণ মানুষের উপর আরোপ করার নামই শিরক, শিরক কেবল মূর্তি বানিয়ে পূজা করার নাম নয়, শিরক হচ্ছে তৌহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা! সেক্ষেত্রে উপরের ১ নম্বর ঈমান বিনষ্টকারী পয়েন্ট অনুযায়ী আমাদের ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কেউ যদি প্রার্থনার জন্য বা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য অন্য কাউকে এজেন্সি মনে করে, তবে উপরের তালিকার ২ নম্বর পয়েন্ট অনুযায়ী তার ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কোয়ান্টাম মেথড-এর অতিরিক্ত গুরুভক্তি বা ধ্যানাবস্থায় অন্তর্গুরুর হাতে সব সমর্পন করা এই ২ নম্বর পয়েন্টের মধ্যে পড়ে যায় যাতে আমাদের ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কোয়ান্টাম মেথড কাফিরকে কাফির মনে করেনা। তাই তারা কাফির ধর্মের উপাসনা পদ্ধতি (ধ্যান) ইসলাম ধর্মে নিয়ে আসে কিংবা তাদের ধর্মের সাথে ইসলামকে একই অবস্থানে (কুরআনের পাশাপাশি বেদ, গীতা, বাইবেল ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থের বাণী প্রচার ও অনুসরণ) নিয়ে আসে। এর ফলে উপরের তালিকার ৩ নম্বর পয়েন্ট অনুযায়ী ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কোয়ান্টাম মেথড ধ্যান করাকে উৎসাহ দিচ্ছে, অন্য ধর্মের মতাদর্শ প্রচার করছে। অন্য ধর্মের প্রচারকরা (যেমন গৌতম বুদ্ধ) যা করেছেন (অর্থাৎ ধ্যান, অভয়মুদ্রা ইত্যাদি) তা অনুসরণ ও অনুকরণ করা শেখানো হচ্ছে, যা কীনা প্রকারান্তরে রাসূল (স) আমাদের যে জীবন বিধান দিয়ে গেছেন, তাকে অসম্পূর্ণ মনে করা বা অন্য কিছুকে তার চেয়ে শ্রেয় মনে করার শামিল। ফলে উপরের তালিকার ৪ নম্বর পয়েন্ট অনুযায়ী কোয়ান্টাম মেথড আমাদের ঈমান হারানোর আশঙ্কায় ফেলে।

উপরের ৭ নম্বর পয়েন্টের আওতায় তন্ত্র-মন্ত্র (কোয়ান্টা ধ্বনি), তাবিজ-কবজ (অষ্টধাতুর তৈরি কোয়ান্টাম বালা, কোয়ান্টাম মেথডের মতে যা কারো কারো দেহের মেটালিক বা ধাতুগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক[১৫৮]), রাশিতে বিশ্বাস[১৫৯], ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা অর্থাৎ আইচিং[১৫৯], জ্যোতিষ-শাস্ত্র বা ধ্যানের আসনে বৃহষ্পতি শনি ইত্যাদির আবির্ভাব – সবই এসে যাবে। এখানেও আমরা কোয়ান্টাম মেথড এর মাধ্যমে ঈমান হারানোর আশঙ্কায় থাকবো।

উপরের ৯ নম্বর পয়েন্ট অনুযায়ী কেউ যদি মনে করে যে, বিশেষ কারো জন্য শরীয়াহ্ প্রযোজ্য নয় (শিশু, পাগল, ঘুমন্ত ব্যক্তি – এরকম কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) বা বিশেষ কেউ শরীয়তের ঊর্ধ্বে – তাহলে যিনি এমন মনে করবেন তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। যেমন ধরুন, কোয়ান্টাম মেথডের প্রচলনকারী মহাজাতক সাহেব মহিলাদের মাথায় হাত রাখেন (ইউটিউবে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের যেকোন পুনর্মিলনী ধরণের অনুষ্ঠান দেখলেই ব্যাপারটা বোঝা যায়) কিংবা কোয়ান্টামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সামনেই অনেক মহিলা যথাযথভাবে পর্দা না করে থাকে বা কোয়ান্টাম লামা সেন্টারের বিভিন্ন প্রাণীর মুর্তি-ভাস্কর্য স্থাপন করা[১৬০] ইত্যাদি ব্যাপারগুলো ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ যদি মনে করেন যে, মহাজাতক সাহেব এসব শরীয়তের ঊর্ধ্বে, তার বেলায় শরীয়তের চিরাচরিত নিয়মগুলো খাটবেনা, তিনি এসব করতেই পারেন – তবে যে এরকম ভাববে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এখানেও কোয়ান্টাম মেথড এর মন্ত্রণায় আমাদের ঈমান হারাতে পারে।

উপরের ১০ নম্বর পয়েন্ট অনুযায়ী যারা দ্বীন শিখে না বা দ্বীনের প্র্যাক্টিস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা কাফির বলে গণ্য হতে পারে। কোয়ান্টাম মেথড তো আমাদের শর্টকাট শিখিয়ে দিচ্ছে – এমনও বলছে যে কোন আল্লাহতা’লাকে বিশ্বাস না করলেও আমরা চূড়ান্তভাবে সফল হতে পারি[১৬১][১৬২]। এখানেও আমরা ঈমান হারানোর আশঙ্কায় রয়েছি। আমরা যারা কোয়ান্টাম মেথড এর শরণাপন্ন হয়েছি, তারা কি নিজের দ্বীন শেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়েছি? নিজের দ্বীন না শিখে আমরা কি নিজেদের পথভ্রষ্টতার রাস্তায় নিয়ে যাইনি? আমরা কি ইসলামী শরীয়াহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই নি?

আপনি যদি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের দেখানো পথে চলেন তবে উপরের ঈমান হারাবার কাজের তালিকার ১০ টি কাজের মধ্যে ৭টি কাজই আপনি সংঘটিত করেছেন। যেখানে একটি কাজ করলেই আপনার ঈমান হুমকির সম্মুখীন সেখানে সাত-সাতটি কাজ আপনি করেছেন বা করছেন। চিন্তা করে দেখুন তো ব্যাপারটা কতটুকু গুরুতর!

উপসংহার

তাহলে উপরের আলোচনা হতে আমরা দেখলাম যে কোয়ান্টাম মেথড এর সাথে বিজ্ঞানের কোন সম্পর্ক নেই। ওরা বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞান ব্যবহার করে আসছে আর পুরো ব্যাপারটা সবার কাছে পৌঁছে দেবার জন্য “সায়েন্স অফ লিভিং” টার্মটা ব্যবহার করছে। তাছাড়া ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা দেখলাম যে কোয়ান্টাম মেথড প্রকৃতপক্ষে একইসাথে বিদআত, কুফর ও শিরকের চর্চা করে আসছে। যেখানে বিদআত, শিরক ও কুফর – এ তিনটির যেকোন একটি সংঘটিত হলেই ইসলাম থেকে নাম খারিজ হয়ে যায়, সেখানে একই সাথে তিনটি গুনাহ হচ্ছে – কী ভয়াবহ কথা!

আমরা আসলে ইসলামবিহীন মুসলিম, যারা নিজের দ্বীন জানিনা বলে “ঈমান” এবং “কুফরের” সীমা রেখা চিহ্নিত করতে জানি না – তাই সমানে দুই ভুবনে যাতায়ত করতে পারি – মনে করি হিন্দুদের বা বৌদ্ধদের ধর্মীয় উপসনা/তপস্যা করেও আমরা তথাপি মুসলিমই থাকতে পারি (নাউযুবিল্লাহ্)। আচ্ছা, একটু ভেবে বলুন তো, একজন মানুষ কি একই সময়ে “অযু” এবং “অযু বিহীন” অবস্থায় থাকতে পারে? পারে না, তাই না! অযু ভঙ্গের যে কোন একটি কারণ ঘটে গেলে তাকে পুনরায় অযু করতে হবে! ধরুন কেউ জানে সে কিভাবে অযু করবে, কিন্তু সে জানে না কিসে অযু ভঙ্গ হয় – তাহলে কি এমন সম্ভাবনা থাকবে না যে, তার আসলে কখনো হয়তো অযু ভেঙ্গেই গিয়েছে, কিন্তু সে ভাবছে, “তার অযু তো আছেই” এবং সে সালাত আদায় করে চলেছে – অথচ, তার সালাত অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে! একই ভাবে একজন মানুষ একই সাথে “ঈমান” এবং “কুফরে” থাকতে পারে না। ঈমান রক্ষা করতে হলে তাকে জানতেই হবে যে কিসে কিসে ঈমান ভঙ্গ হয়। আর ঈমান ভঙ্গ হলেই সে কাফিরদের কাতারে গিয়ে পড়বে। সারা জীবন নামায-রোযা করেও ক্বিয়ামতের দিন “কাফির” বা “মুশরিকের” কাতারে দাঁড়াতে হতে পারে এবং চির-জাহান্নামী হিসেবে জাহান্নামে যেতে হতে পারে!

তাহলে আমাদের করণীয় কি? এক কথায় যদি আমাদের করণীয় বলতে হয়, তবে তা হল দ্বীন শিক্ষা করা। এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে দ্বীন শিক্ষার রাস্তা কোন কালেই মসৃণ ছিলনা। তাবে-তাবেঈদের মত আমাদের হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাই করতে দিনের পর দিন লোকজনের দরজায় গিয়ে গিয়ে কড়া নাড়তে হবেনা বা উটের পিঠে চড়ে মাসের পর মাস ভ্রমণ করতে হবেনা। আজকের অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে মাউস ক্লিক করে ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা যেমন সম্ভব তেমনি তা সহীহ কিনা সেটাও যাচাই করা সম্ভব। আর সেই সাথে অবশ্যই কৃত কাজের জন্য আমাদের আল্লাহতা’লার কাছে মাফ চাওয়া উচিৎ, আসলে “উচিৎ” বললে কম বলা হয়ে যায়, বলা দরকার “অবশ্য কর্তব্য”। কারণ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পথে চলতে গিয়ে আমরা যেভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছি বা যাচ্ছি, তাতে আল্লাহতা’লা ছাড়া আর কেউ নেই যে আমাদের পরকালের আযাব থেকে রক্ষা করবে। আল্লাহতা’লা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমার এই লেখাটি পরে যদি আপনার সামান্যতম উপকারও আমি করতে পারি তবেই আমার সকল শ্রম সার্থক হবে।

Advertisements

79 thoughts on “কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ও ইসলাম

  1. আপনাকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন একটা লেখার জন্য। সম্ভবত এই লেখাতে এই প্রথম পুরোপুরি এবং স্পষ্টভাবে ভাবে কোয়ান্টামের ভাঁওতাবাজী সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে।

    যারা কোয়ান্টামের সাথে আছেন বা একে সমর্থন করছেন তাদের প্রতি বলছি- কোয়ান্টামের বিভিন্ন জিনিষ (মনছবি, অন্তঃগুরু, সাইকিক বর্ম………………) সরাসরি শিরকের সাথে সম্পর্ক। কোয়ান্টা ভঙ্গি, যেখানে বলা হয় হাতের আঙ্গুলে আল্লাহ নাম (নাউজুবিল্লাহ) এই জিনিষ যে শিরক সেটা তাওহীত নিয়ে পড়াশোনা করলেই বুঝতে পারবেন।

    একটা উদাহরন দেই, “এক লোক নাকি ঢাকায় থেকে, ধ্যানে বসে কোলকাতায় তার ছেলেকে দেখেছে…সে নাকি সিনেমা হল থেকে বের হচ্ছিল!!”

    অর্থ্যাৎ ধ্যানে বসে একটা অদেখা, অদৃশ্য বস্তু দেখা যায়!! কিন্তু এই ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। এই ক্ষমতা মানুষের নেই। তাই এই ধ্যনে বসে অদৃশ্য জিনিষ দেখতে পাওয়ার দাবি করা ১০০% শিরক।

    আপনারা যদি মুসলিম হয়ে থাকেন, তাহলে কোয়ান্টামের ছায়াও মাড়াবেন না!!

    Like

    • Thanks for the comment and thanks for notifying me about the Google search. Well… wordpress.com doesn’t allow a user to change the header info of the blog, so I can’t insert any SEO code there. So the only way of making this site’s appearance frequently in Google search is to make it appear everywhere in the web by sharing the links in different websites, blogs, twitter, facebook, google+ etc. So please share this site everywhere!

      Thanks again. 🙂

      Like

        • Thank for the concern. If we want to share this one to the wider platform and to the islamic scholars, then we can do that by-
          – printing this article on paper
          – photo-copying the printed version
          – distributing the copies to the imams of various mosques (in diffrent localities), to the Islamic Foundation Bangladesh, to the Khatib of Baitul Mukarram etc.

          If we can do that then I think a wider range of people will learn about this quantum-culture and beaware of of it. But for doing this we all have to step up. This is my point of view of how we can reach more people.

          Like

  2. আপনার কথার মধ্যে যথেষ্ট যুক্তি আছে । সাদা চোখে অনেক কিছু বুঝা না গেলেও গভীরে গেলে বুঝা যায় – এসব আসলেই অনৈসলামিক কর্মকান্ড ।

    সাধারণ মানুষকে সচেতন করা উচিত – যারা এগুলো ধরতে পেরেছেন ।

    Like

  3. এখানে যেসব বিষয় নিয়ে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা হল গ্রেজুয়েশান লেভেলের। এর পরের ধাপটি হচ্ছে আধ্যাত্মিক লেভেল যাকে বলা হয় প্রো – মাষ্টার লেভেল। এই লেভেলটির আমল গুলো বেশ গোপনীয়তার সাথে করা হয়। এইটি করতে গুরুর কাছে বায়াত নিতে হয়। আগে কোর্স করতে গিয়ে হঠাৎ করে বায়াতের শপথ করানো হত। ইদানিং ফরমে বায়াত সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন করা হয়। গুরু নিজেকে ধারা পরম্পরার প্রতিনিধি হিসেবে দাবী করেন। কিন্তু কিভাবে উনি তা পেলেন তা জানাননি। বায়াত হওয়ার সময় মেডিটেশনে কল্পনা করতে বলা হয় যে, শিস্য মারা গিয়েছেন এবং গুরু সেই কবর থেকে মাটি সরিয়ে উনাকে আবার জীবিত করে নতুন জীবন দেন। আপনার কাছে জানতে চাই এই মেডিটেশনটি করলে বায়াত গ্রহণকারির শিরক হবে কিনা? হলে কিভাবে তওবা করতে হবে?

    আর একটি আমল আছে দিনে দুইবার করতে হয় হিন্দুদের চরকা মেডিটেশন যেখানে কাল্পনিক অন্তর গুরু বা ধর্মগুরুর কাছে সব প্রশ্ন করে জানতে চাওয়া হয় এবং ধর্মগুরু সেইসব প্রশ্ন গুলোর জবাব দেন। এই মেডিটেশনটিকে বলা হয় স্রষ্টার কাছে সমর্পণের মেডিটেশন। এইটি কি কোন গুনাহ হবে?
    এখানে উল্লেখ্য প্রচুর বিধর্মী উনার বায়াত প্রাপ্ত। বায়াতের অর্থ বলা হয় স্রষ্টার প্রতি সমর্পণ। সেই ক্ষেত্রে একজন মূর্তিপূজারিকে ঈমান আনতে না বলে উনি কি বায়াতের বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারেন? বায়াত সম্পর্কিত ইসলামিক নির্দেশনা কি?

    একই হলে দুইভাগে বসে মহিলা এবং পুরুষ ইবাদত করেন। মহিলাদের অধিকাংশ সাধারণ পোশাকেই থাকেন মানে বোরকা বা বড় পর্দা করেন না। সেই ক্ষেত্রে পুরুষদের কি কোন গুনাহ হবে?
    অনুগ্রহ করে আমার উপরের প্রশ্ন গুলোর উত্তর কোরআন হাদিসের আলোকে দিলে খুব উপকৃত হব।

    Like

    • অনেক ধন্যবাদ আপনাকে প্রশ্নগুলো করার জন্য। তবে আমি ইসলাম সম্পর্কে এইসব প্রশ্নের জবাব দেবার জন্য উপযুক্ত নই। এগুলো বড় আলেমরা সঠিকভাবে দিতে পারবেন ইনশাল্লাহ। তবে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে কিছুটা আলোচনা করতে পারি।

      প্রথমেই এই লিংকটি পড়ুন। বায়াত নিয়ে এখানে লেখা আছে বায়াত কেবলমাত্র একজন খলিফা বা ইসলামিক রাষ্ট্রের প্রধানের কাছ থেকেই নেয়া যাবে, তবে শর্ত হচ্ছে যে যার কাছ থেকে বায়াত নেয়া হচ্ছে তাকে শাষক হিসেবে রাষ্ট্রের মধ্যে শরীয়তের বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবে আমাদের জন্য ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ আমরা ইসলামিক শাসনব্যবস্থায় কিংবা কোন খলিফার অধীনে নেই। আর আপনি যদি আল্লাহ’র সকল আদেশ-নিষেধ ও নবীজী (স.) এর জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করেন তবে আপনার বায়াত নেবার কোনই দরকার নেই। ইসলামে পুরোহিতন্ত্র নেই, অর্থাৎ একজন পীরের শিষ্যত্ব গ্রহণ করতেই হবে – এমন কিছু ইসলামে নেই। আপনি নেতা হিসেবে মহানবী (স.) কে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে অনুসরন করুন, ইনশাল্লাহ আপনার আর কারো শিষ্যত্ব লাগবেনা, কারণ আপনি প্রিয়নবীকে অনুরসণ করছেন অর্তাৎ তাঁরই শিষ্যত্ব গ্রহন করেছেন – আর কোন গুরুকে আপনার দরকার কেন?

      মৃত শিষ্যকে পুনরায় জীবিত করার কোন প্রক্রিয়া যদি আপনাকে কল্পনা করতে বলা হয় তার মানে হচ্ছে আপনার গুরু আপনাকে বিশ্বাস করাতে চাইছেন যে মৃতকে জীবিত করা ক্ষমতা বা তার সমপরিমান ক্ষমতা সেই গুরুর মাঝে আছে। আল্লাহতা’লা ছাড়া আর কারো ক্ষমতা নেই মৃতকে পুনরায় জীবিত করার। হযরত ঈসা (আ.) আল্লাহর নির্দেশেই মৃতকে জীবিত করতেন অর্থাৎ সেখানেও ক্ষমতাটি আল্লাহ তা’লার। তাই মৃত শিষ্যকে পুনরায় জীবিত করার ব্যাপারটা বিশ্বাস করা শিরক বা সমপর্যায়ের গুনাহ’র মাঝে পড়ে। সকল গুনাহ মাপ করার মালিক মহান আল্লাহতা’লা। আপনি আল্লাহ তা’লার কাছে মন থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে থাকুন।

      বিধর্মীদের কোন কিছু ইসলামে প্রবেশ করানোটাই গুনাহ – সেটা হিন্দুদের চরকা মেডিটেশনই হোক বা অন্য কিছুই হোক। আর কোয়ান্টাম মেথডের অন্তর্গুরুর ধারণাটাই শিরকের পর্যায়ে পড়ে। [রেফারেন্স ১৩৫] এজন্য দয়া করে লেখাটির “অন্তর্গুরু” অংশটি ভালোভাবে পড়ুন।

      আর ইসলামে নারী-পুরুষের পর্দাবিহীন মেলামেশায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেটা তো সবাই জানি। যাতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা পালনে গুনাহ তো হবেই। পর্দা বিধান নিয়ে আরো পড়ুন এখানে

      Like

  4. পিংব্যাকঃ কোয়ান্টাম মেথড ও প্রতারণা | QuranerAlo.com – কুরআনের আলো ইসলামিক ওয়েবসাইট

  5. মহান আল্লাহ যাকাত ব্যয়ের যে ৮টি খাত নির্দিষ্ট করেছেন তাতে ফকির-মিসকিন বলা আছে। ঈমানদার ফকির-মিসকিন বলা হয় নি। আর খোলাফায়ে রাশেদার আমলে খেলাফতে বসবাসকারী ধর্ম-গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি ব্যক্তির ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করেছে। বায়তুল মাল থেকে এ প্রয়োজন পূরণ করা হতো। আর যাকাতের অর্থ বায়তুল মালেই জমা হতো। তাই যেকোনো দুস্থ ও নিঃস্ব মানুষের কল্যাণে যাকাতের অর্থ ব্যয়ে কোনো বাধা নেই।

    Like

    • “ঈমানদার ফকির-মিসকিন” বিষয়ক যুক্তিটি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের যুক্তি। কিন্তু পৃথিবীর তাবৎ ইসলামী পন্ডিতদের যুক্তিটা যে বিপরীত! আপনি তাহলে কোন যুক্তিটি নেবেন? কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নাকি ইসলাম নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করা বিদগ্ধ মনীষীদের? দায়টা আপনার উপরই ছেড়ে দিলাম। তবে কাজটা আপনার জন্য কিছুটা সহজ করতে একটু সাহায্য করি।

      প্রথম সাহায্য হচ্ছে এই লিংকটি। যাতে বলা আছে

      Umar completely forbade giving non-Muslims any part of zakat monies as narrated by al-Qasim b. Sallam in “al-Amwal” (p. 276), al-Bayhaqi in the “Sunan” (7:20) and others. He also forbade that non-Muslims be ever employed as zakat-collectors lest they end up deserving payment out of it (Qal`ahji, “Mawsu`al Fiqh” `Umar b. al-Khattab p. 470)

      অর্থাৎ উমর (রা.) নিজেই মানা করেছেন অমুসলিমদের যাকাত দিতে, সেই সাথে অমুসলিমদের যাকাত সংগ্রহের কাজে নিয়োগ দানেও বারন করেছেন।

      দ্বিতীয় সাহায্য হচ্ছে এই লিংকটি। এখানে বলা আছে

      The governor of the Libyan and Tunisian province wrote to the caliph, Umar ibn Abd Al-Azeez, that he could not find poor people to whom he should pay the zakah already collected. The caliph instructed him to pay it to any poor people among the Christian and Jewish citizens. The governor wrote back that none could be found. In fact, zakah money was carried into the market place and placed in public with an invitation to anyone who needs it to come forward and take what he needed. But none did. Umar then instructed his governor to use it in buying slaves and setting them free, as the freeing of slaves is one of the legitimate purposes of zakah.

      অর্থাৎ যাকাতের টাকা তখনই অমুসলিমদের দেয়া যাবে যখন মুসলমানদের মাঝে যাকাত নেবার মত কেউ থাকবেনা। আশাকরি ব্যাপারগুলো পরিস্কার করতে পারলাম।

      তাছাড়া অন্যধর্মালম্বী দুস্থ ও নিঃস্ব মানুষের কল্যাণে আপনি অকাতরে সাদকা দিতে পারেন, সাদকা যে কাউকেই দেয়া যায়।

      Like

  6. jazhakallah khair brother for such a very important post……. i used to do meditation to some extant in past….. but caught some of their foul statement wch drove me to throw it to the winds. this post is excellent to open up the eyes who are infatuated by quantum and meditation.

    Like

  7. অতি উত্তম একটি লেখা। তাদের মানে মহাজাতক ও তার স্ত্রীর এই লাইনে ভাওতাবাজি এখন যতটা অসার মনে হত বছর ১০ আগেও সেটা সেরকম মনে হত না। সত্যি বলতে কি, আমি নিজেও তার (মহাজতকের) অনেক বই পরেছি, এবং মাজে মধ্যে মেডিটেশন করতে চেষ্টা করেছি। বর্তমানে ‘ইউগা’ প্রাশ্চাত্যে একটি অন্যতম যোগ ব্যায়াম হিসেবে স্থান করে নিচ্ছে। এই বিষয়ে আপনার মতামত কি জানি না, তবে আমার কথা হচ্ছে মানুষের শারীরিক ব্যাপারটা অবশ্যিই কিছুটা ধ্যান নির্ভর, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের শরীর ‘ম্যাগনেট’ হিসেবে কাজ করে। এবং এইসব নিয়ন্ত্রীত হয় শরীরের বায়োক্যমিস্ট্রি দ্ধারা। কিন্তু এই ধ্যানের নামে ‘মন’ বা এমন কোন শক্তি যা দিয়ে বস্তু তান্ত্রীক বাহ্যিক কোন প্রভাব রাখা যায় বলে যা প্রচার করা যায়, সেটা অবশ্যিই ধাপ্পাবাজি।
    মহাজাতক নাম পড়েই আমি দ্বিধাগ্রস্থ ছিলাম ও কি মুসলমান? কিন্তু ও চাতুরিত এমনই যে সে কখনো মুমীন মুসলমান আবার কখনও শয়তানের সেকেন্ড ইন কমান্ডার।
    যাই হোক অনেক শ্রম দিয়ে আপনি লেখাটা লিখেছেন। আল্লাহ আপনাকে এর উত্তম প্রতিদান দিন। এখন আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই লেখাগুলোকে সকল বাংলা ভাষীদের কাছে পৌছে দেয়া।
    শুভ কামনা রইল আপনার প্রতি।

    Like

  8. এই ভন্ডগুলো আরো একটা কাজ করে যাকাত নিয়ে। তারা যাদেরকে যাকাত দেয়, তাদের থেকে এর বিনিময় নেয়।

    যেমন: তারা কোন দুস্হকে জাকাতের টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে দিলো, কিন্তু শর্ত থাকে, গরু যদি বাছুর দেয়, সেটা কুয়ান্টামকে দিয়ে দিতে হবে। কাউকে যদি রিক্সা কিনে দেয়, তবে দৈনিক রিক্সার ভাড়া বাবদ যে টাকা জমা দিতে হয়, সেই টাকা কুয়ান্টামকে দিতে হয়।

    আপনি যখন কাউকে জাকাত দিবেন, সেটাতে কোন শর্ত আরোপ করতে পারেন না। একবার যখন আপনি যাকাত আদায় করলেন, সেই জাকাতের উপর আপনার কোন অধিকার কিংবা দাবীদাওয়া থাকতে পারে না।

    আল্লাহ কিংবা রাসুল এমন কোন বিধিবিধান দেন নাই। কুয়ান্টামের ভন্ডরা আল্লাহ রাসুলের বিধিবিধান টপকে নিজের পছন্দমতো মতবাদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে ধর্মকে নিয়ে।

    Like

  9. অসাধারণ লেখা। শেয়ার করায় মঞ্জুর ভাইকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না। আশাকরি সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

    আপনাদের সুবিধার জন্য কয়েকটা বিষয় আগেই ক্লিয়ার করছি।

    ১- কোয়ান্টামে “অন্ত্রগুরু” শব্দটি বিবেকের ভিজুয়াল রূপ হিসেবে ব্যবহ্রত হয়। এর কাজ পরামর্শ দেয়া ও অন্যের জন্য দোয়া করা।

    ২- ইসলাম ধর্মের সাথে কোয়ান্টামের সম্পর্ক হচ্ছে, কোয়ান্টাম নিজেকে “সাইন্স অফ লিভিং” বলে দাবী করে। এবং এই “সাইন্স অফ লিভিং” এর সুত্র বা নিয়ম সমূহ ইসলাম তথা কোরআন ও হাদিস থেকে নেয়া হয়।

    ৩- কোয়ান্টাম মেডিটেশনকে প্রাত্যহিক করনিয় কাজ সমুহের ১ টি মনে করে। যারা মেডিটেশনকে বেদাত বা ইবাদতের সাথে তুলনা করে তারা বিকেলে হাটতে যাওয়া বা বাচ্চাদের খেলাধুলাকেও বেদাত বলতে পারে।
    এছারা মোরাকাব শব্দটা আপনারা শুনে থাকবেন। শুধু কিতাব পরে কোন আলেম বুজুর্গ হন নাই। ইতিহাস দেখেন, সকল বুজুর্গ মোরাকাবা বা ধ্যানের স্তর পার হয়েই বুজুর্গি হাসিল করেছেন। আর মানুষ ধ্যানে বসলে চিন্তা বা জিকির ছারা আর কিছু করে বলে আমার জানা নাই।

    ৪- কোয়ান্টামের ৫ টি পূর্ব শর্ত আছে- উচ্চ স্তরের মেডিটেশনে শর্ত ৫ টি মনে করিয়ে দেয়া হয়। শর্তগুলো হচ্ছে-
    ১- প্রথমত স্রস্টায় সমর্পণ।
    ২- সঙ্ঘায়ন ও বিশ্বজনীন মমতা।
    ৩- গিবত ও মিথ্যা বর্জন।
    ৪- পরিমিতি ও সংযম।
    ৫- সময় ও নিয়মানুবর্তিতা আনুসরন।

    Like

    • ধন্যবাদ ভাই মন্তব্য করার জন্য। সম্ভবত আপনি পুরো লেখাটি পড়েননি, তাই যেসব ব্যাপার লেখাটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার কিছু কিছু অংশ আপনি এই মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন। তবে সমস্যা নেই আমি আপনার মন্তব্যের যথাসাধ্য জবাব দেবার চেষ্টা করছি। আপনি যেভাবে পয়েন্ট দিয়েছেন সেভাবেই পয়েন্ট অনুসারে দিচ্ছি।

      ১। সমস্যা হচ্ছে যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বইয়ে বলা আছে যে এই অন্তর্গুরু বা আপনার ভাষায় বিবেক “সকল অদৃশ্য অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির জন্যে ‘সাইকিক বর্ম’ প্রদান করেন। এই সাইকিক বর্ম অতীতের সকল অশুভ প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং ভবিষ্যতের এ ধরনের প্রভাব থেকে তাকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখে।” [রেফারেন্স ১৩৫]। যদি তাই হয়, তবে বলতেই হচ্ছে যে বিবেকের কাছে সেই ক্ষমতা রয়েছে যা কেবল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে থাকার কথা! ব্যাপারটা কি শিরকের পর্যায়ে পড়ে যাচ্ছেনা? যদিও আপনি এটাকে বিবেক বলছেন, তবে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কিন্তু তাদের গুরুকেই ঐ আসনে আসীন করতে বলছে – “আপনি যাকে মনে করেন যে, তিনি আপনাকে জীবনের পথে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে পারবেন, তাকেই আপনি অন্তর্গুরু হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। তবে যে ধ্যান বা মেডিটেশন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া আপনি অনুসরণ করবেন, সে প্রক্রিয়ার উদ্ভাবক বা প্রশিক্ষককে অন্তর্গুরু হিসেবে গ্রহণ করা সবসময়ই বেশি কার্যকরী।” [রেফারেন্স ১৩৫]। ব্যাপারটা তাহলে কী দাঁড়ালো?

      ২। শুধু কুরআন-হাদীস নয় বরং বেদ, গীতা, ধম্মপদ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ থেকে নিয়মগুলো নেয়া হয়েছে। এবং এখানেই ইসলামের সাথে মূল সমস্যা। ইসলামানুসারে ইসলাম নাযিল হবার পর অন্য কোন ধর্ম বা ধর্মের কিয়দাংশও অনুসরণ বা অনুকরণ করা যাবেনা। কিন্তু কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কুরআন-হাদীসের পাশাপাশি রীতিমত গীতাকণিকা, বেদকণিকা, ধম্মপদকণিকা প্রভৃতি ছাপিয়ে প্রচার করছে। কেন ওগুলো প্রচার করা হচ্ছে? নিশ্চয়ই কুরআন-হাদীসে অনেক কিছুর ঘাটতি রয়েছে যেগুলো ঐসব ধর্মগ্রন্থে রয়েছে? যদি তাই হয়, তবে এটাই বিশ্বাস করা হয় যে ইসলাম অসম্পূর্ণ, মানুষের জীবনকে সম্পূর্ণ করার জন্য ইসলামের পাশাপাশি অন্য ধর্মের চর্চাও করতে হবে। অথচ আল্লাহতা’লা ঘোষণা করে দিয়েছেন যে ইসলামই আমাদের জন্য একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। তাই সবকিছু মিলিয়ে যা দাঁড়ায় তাতে আমাদের ঈমানটাই ধ্বংস হয়ে যাবে অন্য কিছু নয়।

      ৩। মেডিটেশনকে ইবাদতের সাথে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনই তুলনা করেছে। [রেফারেন্স ৯৫] শুধু তাই না জাল হাদীস দিয়ে তারা প্রমান করার চেষ্টা করেছে যে মেডিটেশন করা নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম! [রেফারেন্স ৯৫, ৯৮, ৯৯] বিকেলে হাটতে যাওয়া বা বাচ্চাদের খেলাধুলা নিশ্চয়ই নফল ইবাডতের চেয়ে শ্রেয়তর নয়। অথচ মেডিটেশন নাকি নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম! আর ইসলামে ধ্যান কোথা থেকে এসেছে সেটাও এই লেখায় উল্লেখ আছে। এর উৎস হচ্ছে সুফিবাদ [রেফারেন্স ১০১]। এবং সুফিবাদের সাথে সুন্নাহ’র নীতিগত মূল সংঘর্ষও তুলে ধরা হয়েছে। খুব সহজ কথা জিজ্ঞেস করি ভাই – মহানবী (স.) কি মেডিটেশন করতেন? তাঁর চার খলিফা কি মেডিটেশন করতেন? তাঁর সাহাবারা কি মেডিটেশন করতেন? মহানবী কি তাঁর উম্মতদের মেডিটেশন করার জন্য উৎসাহ দিয়ে গেছেন? সবগুলো প্রশ্নেরই জবাব হচ্ছে “না”। নবী করিম (সা.) ও তাঁর সাহাবারা যা করেননি তা অন্য কেউ করলেই কেন আমরা সেটাকে সঠিক বলে ধরে নেব? হোক না সে যতবড় আলেম বা বুজুর্গ ব্যক্তি।
      তিনি তো আর নবী করিম (সা.) ও তাঁর সাহাবাদের চেয়ে সেরা নন? তাহলে কেন আমরা তা পালন করব যা নবী করিম (সা.) ও তাঁর সাহাবারা করেননি?

      ৪। শর্তগুলো সুন্দর। 🙂 তবে প্রথম শর্তটি “স্রষ্টায় সমর্পন” কি ইবাদতের দিকে নির্দেশ করেনা? আমরা আল্লাহ’র ইবাদত করি আল্লাহ’র কাছে নিজেকে সমর্পন করার উদ্দেশ্যে। মেডিটেশনেও যদি তাই করা হয় তবে বলতেই হচ্ছে মেডিটেশন একটি ইবাদত, অর্থাৎ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন তাদের বই-পুস্তকে যা দাবী করছে সেটাই এখানে ফুটে উঠেছে। তাই যদি হয় তবে আপনি যে একটু আগে বললেন “যারা মেডিটেশনকে বেদাত বা ইবাদতের সাথে তুলনা করে তারা বিকেলে হাটতে যাওয়া বা বাচ্চাদের খেলাধুলাকেও বেদাত বলতে পারে” – সেটাতো খাটলো না! মেডিটেশন তো আসলেই ইবাদত হয়ে যাচ্ছে! তা নয় কি?

      Like

    • ভাই আপনি কি মোরাকাবার ইতিহাস জানেন নাকি না জেনেই লিখছেন? মোরাকাবা ইসলামের কোন টার্ম বা কাজ নয় বরং এটা সূফীদের আবিষ্কার। আমি কোয়ান্টাম সম্পর্কে বেশ কিছুটা পড়াশোনা করেছি এবং তাদের বিষয়গুলি কোরআন এবং সহিহ হাদিসের আলোকে মিলিয়ে দেখেছি এবং আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে কোয়ান্টাম মেথড হচ্ছে শয়তানের কারখানা এবং আপনি যদি জাহান্নামে যেতে আগ্রহী হন নামাজ, রোজা, হজ্জ যাকাত ইত্তাদি করা সহ অন্যান্য ভালো কাজ করার পরও তাহলে আপনি কোয়ান্টামের সাথে থাকুন।

      অ্যাডমিন, http://www.hadithbd.com
      বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন বাংলা ইউনিকোড হাদিসের ডাটাবেস

      Like

      • আমাদের জ্ঞান কমে যাওয়ার কারণে আজকে এই দশা, আপনি তো ঠিকই বলেছেন, কিন্তু এটা হচ্ছে নতুন একটা ফিতনা যা দিয়ে মানুষের ঈমান পরীক্ষা হয়ে যাচ্ছে। কোয়ান্টাম শুধু সূফী নয়, বরং ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ, ওয়েস্টার্ন অকাল্ট, বোদ্ধদের তাও-ইসম এবং আরও অনেক কিছু থেকে এই মেডিটেশন, অন্তরগুরু এবং বায়াত এর প্রসঙ্গ এনেছে এবং বিশেষ উদ্দেশে কাজ করছে। আমরা এখন ‘সেকুলার’ সমাজে বাস করি তাই আপনি এবং নগণ্য মানুষ ব্লগার ভাই যতই উদাহরণ আর প্রমাণ দেন, কিছু মানুষ বলবে, “সব ধর্ম ‘সমান’, ধার করলে ক্ষতি কি?” – এদের আপনি কি বলবেন? এরা তো মুসলমান হয়ে জন্ম নিয়ে কোয়ান্টাম এর পেছনে ঘুরছে এবং এদের বোঝানো হয়েছে, “কোয়ান্টাম এর ‘বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ‘প্রো-একটিভ’ থেকে ‘বাতিল’ ‘বাতিল’ বলতে কারণ এটা ‘শয়তান’ এর ‘কুমন্ত্রণা’ ” – আর এই সমাজে ধর্ম প্রচারে, পালনে বাধা নেই তাই কোয়ান্টাম ইসলাম নিয়ে যা খুশি করলেও কেউ কিছু বলার নেই।

        আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরও বলছি যে অন্তরগুরুর বিষয়টা ওয়েস্টার্ন অকাল্ট (জাদুবিদ্যা) এর “গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল” (জীন) সামন করা মেডিটেশন এর মাধ্যমে, যেটা যথোপযুক্ত শিরক করলেই করা সম্ভব (কোয়ান্টাম সদস্যরা এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই কারণ তারা মেডিটেশন করে তাদের স্রষ্টার সাথে ‘লীন’ হতে চাচ্ছেন – আল্লাহ্‌ আমাদের রক্ষা করুন এই ধরণের শিরক থেকে) – প্রমাণ হিসেবে দেখুন পউলো কোয়েলহো এর “দ্য পিল্গ্রিমেজ” বই এ (ওনলাইন এ পিডিএফ আছে) যেই মেডিটেশন গুলি বলা আছে সবই কোয়ান্টাম এ শেখানো হয় (শিথিলায়ন = র‍্যাম ব্রিদিং এক্সারসাইজ) । তাতে কি সমস্যা? সমস্যা হচ্ছে যে, পউলো কোয়েলহো জীবনের একটা পর্যায়ে ওয়েস্টার্ন অকাল্টিস্ট এলিস্টার ক্রাউলি এর একজন শিস্য রাউল সিক্সয়াস এর পিছন পিছন ঘুরে এগুলো শিখেছেন, এবং তার সমস্ত বই এই জাদুবিদ্যা নিয়ে লেখা। আপনার আমার ‘সেকুলার’ ভাইএরা বলবেন তাতে কি সমস্যা? ‘সব ধর্মই তো সমান’ – এদের আপনি কি বলবেন?
        বোখারী সম্ভবত টের পেয়েই এগুলো (আগে তার ওয়েবসাইট এ mp3 ছিল) তার ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলেছেন কারণ তিনি অত্যন্ত চালাক এবং ইসলাম ধ্বংস করতে এগুলো করছেন। ওনার পেছনে আরও লোক আছেন। এরকম অনেক অকাট্য প্রমাণ সত্ত্বেও কিছু ‘অতি বুদ্ধিমান মানুষ’ বোখারীর পেছনে ঘুরছেন, এটা জেনেও যে ভদ্রলোক একজন গনক ছিলেন – স্পষ্ট হাদিথ দেখুনঃ
        Sunan Abu Dawood, 3895: “If anyone [resorts to a diviner and believes in what he says (according) to the version of Musa)] …. he has nothing to do with what has been sent down to Muhammad.” — Narrated by Abu Hurairah, Book of Divination and Omens.

        Sunan Abu Dawood, :: Book 29 : Hadith 3896
        Narrated Abdullah ibn Abbas: The Prophet (peace_be_upon_him) said: If anyone acquires any knowledge of astrology, he acquires a branch of magic of which he gets more as long as he continues to do so.

        অর্থাৎ যারা ভাগ্য গণনা করতেই থাকে তারা আস্তে আস্তে আরও জাদুবিদ্যার দিকে চলে যায়। ভাগ্য গণনা যে এক ধরণের জাদুবিদ্যা সেটা আরেক ভাবে প্রমানিত, তা হচ্ছে যে astrology এর গবেষণায় উৎস হিসেবে প্রথম স্থান কে নির্ণয় করা হয়েছে ‘ব্যবিলন’ (খুঁজে দেখুন প্রমাণ) আর আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা কোরআন এ বলছেন যে জাদুবিদ্যা প্রথম এসেছিলো ‘ব্যবিলন’ এ (সুরা বাকারাহঃ ১০২)। এটি এবং আরও অনেক কিছু পর্যায়ক্রমে ইহুদীদের ধর্মে প্রবেশ করে এবং আজ পর্যন্ত তা তারা চর্চা করছে এবং আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’লার লানত প্রাপ্ত হয়েছে। বোখারী কি ভাবে মহাজাতক হয়ে এই সব ‘জ্ঞান’ অর্জন করেছেন (ইহুদীদের ধর্ম থেকে, যেটা জ্ঞানের অভাবে আমরা বুঝতে পারছি না) অথবা অর্জন করে ‘মহাজাতক’ হয়েছেন এবার বুঝে নিন, এবং তিনি ‘যোগ’ ফাউন্ডেশন এর নাম বদলে কোয়ান্টাম করেছেন, নাম বদলেছেন আরও অনেক কিছুর যাতে মানুষ এর আসল উৎস খুঁজে না পায়। তারা এই লেখার অস্তিত্ব পেলে আরও অনেক কথাই পরিবর্তন করে ফেলবেন, যেমন একবার বোখারী সবার সামনে ‘কান্নাকাটি’ করে তওবা করে বলেছেন যে তিনি একদা ভাগ্য গণনা করে ভুল করেছেন (কারন অনেকে বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবাদ করেছিলো)।
        নগণ্য মানুষ ভাই এবার বলেন কি করবেন? আল্লাহ্‌ রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে সান্তনা দিয়েছেন এই বলে যে “Indeed, We sent down to you the Book for the people in truth. So whoever is guided – it is for [the benefit of] his soul; and whoever goes astray only goes astray to its detriment. And you are not a manager over them.” 39:41 – আর আপনি যখন বলবেন বিজ্ঞান এর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই, এরা বলবে এটি তো ‘স্পিরিচুয়াল’, আর যখন বলবেন এটি ইসলাম এর সাথে সাঙ্ঘরসিক তখন এরা বলবে এটি ‘বিজ্ঞান’ – এরা এমন এ মুনাফেক। অতএব কেউ আপনার ব্লগ এ কোয়ান্টাম নিয়ে বিতর্ক করলে তাতে মনঃক্ষুণ্ণ হবেন না, হেদায়েত একমাত্র আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’লার হাতে (92:12)। যারা বিতর্ক করছেন জেতার জন্য সত্য খোঁজার জন্য তর্ক না করে, তাদের দায়ভার তাদের কাছে।
        আপনাদের লেখার জন্য আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’লা আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।

        Like

      • এবং, যারা কোয়ান্টাম এর ‘ভাল’ দিক, অর্থাৎ মানবসেবা, মানবতার কল্যাণ, “জাতি, বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের সেবা” ইত্যাদি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তাদের জন্য কিছু কথাঃ

        অত্যন্ত নিষ্ঠুর শোনালেও সত্য যে একমাত্র ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য না (কোরআন ৩:৮৫), এটা যেমন আপনারা জানেন, তেমনি শুধু মুসলিম দাবি করলেই হবে না নিজেকে, বিশুদ্ধ আকিদা থাকতে হবে আল্লাহর একত্ববাদের যেটি ইসলাম ছাড়া কোন ধর্মে নেই।

        কোয়ান্টাম এর অনেকগুলো লক্ষ্যর মধ্যে একটি হচ্ছে মানবধর্ম, মানবসেবা, মানবতার কল্যাণ, “জাতি, বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের সেবা” ইত্যাদি দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে তাদের আকিদা (ইসলাম, ঈমান) নষ্ট করবার প্রচেষ্টা।

        যারা People of the Book (Jews and Christians) তারা আল্লাহর ক্রোধ অর্জন করেছেন এবং বিপথে গেছেন – সুরা ফাতিহার শেষ আয়াতে আল্লাহ্‌ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেনঃ (তাফসির ইবনে কাথির দ্রষ্টব্যঃ)
        “Not (the way) of those who earned Your anger, nor of those who went astray” – meaning guide us to the straight path, the path of those upon whom you have bestowed Your grace, that is, the people of guidance, sincerity and obedience to Allah and His Messengers.
        They are the people who adhere to Allah’s commandments and refrain from committing what He has prohibited.
        But, help us to avoid the path of those whom Allah is angry with, whose intentions are corrupt, who know the truth, yet deviate from it. Also, help us avoid the path of those who were led astray, who lost the true knowledge and, as a result, are wandering in misguidance, unable to find the correct path.

        Allah asserted that the two paths He described here are both misguided when He repeated the negation `not’. These two paths are the paths of the Christians and Jews, a fact that the believer should beware of so that he avoids them. The path of the believers is knowledge of the truth and abiding by it.

        In comparison, the Jews abandoned practicing the religion, while the Christians lost the true knowledge. This is why `anger’ descended upon the Jews, while being described as `led astray’ is more appropriate of the Christians. Those who know, but avoid implementing the truth, deserve the anger, unlike those who are ignorant. The Christians want to seek the true knowledge, but are unable to find it because they did not seek it from its proper resources.

        This is why they were led astray. We should also mention that both the Christians and the Jews have earned the anger and are led astray, but the anger is one of the attributes more particular of the Jews. Allah said about the Jews,
        (Those (Jews) who incurred the curse of Allah and His wrath) (5:60).

        The attribute that the Christians deserve most is that of being led astray, just as Allah said about them,
        (Who went astray before and who misled many, and strayed (themselves) from the right path) (5:77).

        এদের ধর্ম সম্পর্কিত অপকর্ম জানতে কুরআন এর অনুবাদ পড়ুন – এর থেকে ভাল কোন ব্যাখ্যা কোথাও নেই।

        যারা ইব্রাহিম (সঃ) এর সাথে মূর্তিপুজারিদের ঘটনাটি জানেন (আল-আনবিয়া ২১:৫২-৭০; আরও দেখুন ৩:৯৫, ৪:১২৫, ২:১৩০ ও ১৬:১২৩) তারা জানবেন যে হিন্দু এবং বোদ্ধ ধর্ম (তাও, শিন্তইজম সহ) আপাদমস্তক এ শিরক । অনেকে দাবি করেন হিন্দুধর্ম একেশ্বরবাদী – কিন্তু আসলে ওইটি Pantheism বা Panentheism যা বলে ঈশ্বর সবখানে বিরাজমান এবং সব কিছু তার অংশ, অথচ আল্লাহ্‌ স্পষ্ট বলেছেন যে আল্লাহর সুবহানাহু তা’লা তার সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নঃ
        He created the heavens and earth in truth. High is He above what they associate with Him. (An-Nahl: 3)

        আর সুফিদের কথা আর নাই বা বললাম, শুধু দয়া করে এদের আকিদা বা ধর্ম বিশ্বাস লক্ষ্য করুন যে এরা এই সব ধর্মের মিল ঘটাতে গিয়ে এবং অন্য ধর্মের আচার (Ritual) অনুসরণ করে শুধু বিদাত কেই আমন্ত্রন জানায়নাই, বরং ইসলাম থেকে অনেক অনেক দূরে সরে গেছে। অন্য ধর্ম বিশ্বাস টেনে আনার কোন অবকাশ এ নাই ইসলাম এ, বরং বিদাতিদের সম্পর্কে স্পষ্ট হাদিথ আছেঃ
        Bukhari :: Book 3 :: Volume 49 :: Hadith 861
        Narrated Aisha: Allah’s Apostle said, “If somebody innovates something which is not in harmony with the principles of our religion, that thing is rejected.”

        Muslim :: Book 18 : Hadith 4266
        ‘A’isha reported Allah’s Messenger (may peace be upon him) as saying: He who innovates things in our affairs for which there is no valid (reason) (commits sin) and these are to be rejected.

        অর্থাৎ বিদাত গ্রহণযোগ্য তো হবেই না বরং বিদাত অনুসরণ করলে তা আল্লাহর কাছে পরিত্যাজ্য (rejected) হবে। যারা মুসলিম হয়েও কোয়ান্টাম এর সাথে আছেন তারা একটা বিষয় স্পষ্ট জানুন যে তারা বিদাত অনুসরণ করছেন যার জন্য আল্লাহ্‌ না করুক আপনার ইবাদাহ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’লা বলেছেন সমস্ত ভাল কাজ (কোয়ান্টাম এর ভাষায় আমলে সালেহ – এটার ও নাম পরিবর্তন করেছে যেন মানুষ কোরআন থেকে মিল খুঁজে বের করতে না পারে) পরিত্যাজ্য হয়ে যেতে পারেঃ
        ১। আল্লাহ্‌ এবং তার রাসুলের কোন হুকুম এর বাইরে গেলেঃ
        O you who have believed, do not raise your voices above the voice of the Prophet or be loud to him in speech like the loudness of some of you to others, lest your deeds become worthless while you perceive not. (Al-Hujuraat: 2)
        ২। আল্লাহর ক্রোধ অর্জন করে এমন কোনকিছু অনুসরণ করলেঃ
        That is because they followed what angered Allah and disliked [what earns] His pleasure, so He rendered worthless their deeds. (Muhammad: 28)
        ৩। আল্লাহ্‌ যেই কোরআন নাজিল করে সব ধর্ম রহিত করেছেন তাকে সম্পূর্ণ না মনে করলেঃ
        That is because they disliked what Allah revealed, so He rendered worthless their deeds. (Muhammad: 9)
        ৪। আল্লাহ্‌ প্রদত্ত সরলপথ বাদ দিয়ে অন্য বক্রপথের অনুসন্ধান করলেঃ
        Indeed, those who disbelieved and averted [people] from the path of Allah and opposed the Messenger after guidance had become clear to them – never will they harm Allah at all, and He will render worthless their deeds. (Muhammad: 32)
        এবং আরও অনেক কারণে আল্লাহ্‌ ই ভাল জানেন।

        আগেও বলেছি কোয়ান্টাম এর অনেকগুলো লক্ষ্যর মধ্যে একটি হচ্ছে মানবধর্ম, মানবসেবা, মানবতার কল্যাণ, “জাতি, বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের সেবা” ইত্যাদি দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে তাদের আকিদা (ইসলাম, ঈমান) নষ্ট করবার প্রচেষ্টা। সব জেনে শুনে, কেন এত ঝুকি নিয়ে শুধু তর্কে জেতার জন্য নিজেকে এত বিপন্ন করছেন কিছু মানুষ, এই প্রশ্ন করা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।

        Like

  10. And it is not for any human being that Allah should speak to him except by revelation or from behind a partition or that He sends a messenger to reveal, by His permission, what He wills. Indeed, He is Most High and Wise. (Ash-Shura: 51)

    কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়।

    Please refer to books that enlightens us on the subject of Bayat. [Bengali]
    https://sorolpath.wordpress.com/boi/

    Like

  11. যিনি পোস্ট টি দিয়েছেন তাকে বলছিঃ আপনার লেখাটি যথেষ্ট তথ্য সমৃদ্ধ এবং রেফারেঞ্চ গুলো সবই ঠিক আছে। তবে সমস্যা হল, আপনি যে দৃষ্টিকোন থেকে কোয়ান্টাম মেথড এর দৃষ্টি ভঙ্গি ব্যখ্যা করেছেন তা পড়ে মনে হল আপনার জ্ঞানের গভীরতা ও বিস্বশ্লেষণ ক্ষমতা খুবই অপ্রতুল। উপরন্ত, আপনি মোটেও মুক্তমনা ব্যক্তি নন বরং আপনি হয়ত মনে করছেন আপনি মুক্তমনা; আর মনে হচ্ছে (ধরে নিচ্ছি, আপনি নিজেই পুরো বিশ্লেষণ করেছেন, বুজেছেন এবং লিখেছেন) আপনি বিজ্ঞান জানেন কিন্তু এই ধরনের বিশ্লেষণ করার জন্য আরও অনেক প্রয়োজনীয় জ্ঞানের আপনের অভাব রয়েছে।

    ইসলামের সাথে সূফী সাধনার মধ্যে সাংঘরশিক যে বিষয় উত্থাপন করেছেন, তা শরিয়তপন্থীদের মাঝে বহু পুরনো এবং এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অমীমাংসিত। সেই হিসেবে, সূফী সাধনা যে অর্থে শরিয়তপন্থীদের দৃষ্টিকোন হতে বেদাত, একি অর্থে কোয়ান্টাম মেথডকে ও আপনি বেদাত বলতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে এ বিষয়টি দায়হীন ভাবে অমীমাংসিত।

    কোয়ান্টাম এর কিছু সামাজিক কাজ কে আপনি বিতর্কিত বলতে পারেন, তবে তাই বলে যদি আপনি পুরো কোয়ান্টাম কে প্রতারক বলে ফেলেন তবে এর দায় পুরো মাত্রায় আপনাকে ই নিতে হবে। কারন, আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে, আপনি কোয়ান্টাম এর কাজ ও চেতনা (সে যাই হোক না কেন) সম্পর্কে তেমন ওয়াকিবহাল নন। এর এটাই আপনার বড় দুর্বলতা।

    আমার ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বেশ অনেকজন মানুষ, যারা নানা সময়ে কোয়ান্টাম কে পতিত বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছেন; তাঁরা, সাধারানত তিন ভাগে বিভক্ত, একঃ যারা নানা সুবিধা নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, দুইঃ যারা নিজেদের যথেষ্ট যোগ্যতা সম্পন্ন মনে করেন এবং অন্নের সাফল্লে মনে মনে হতাশাগ্রস্থ; তিনঃ যারা আদতে ভণ্ড ও প্রতারক, পরছিদ্রান্বেষী।

    আপনার প্রতি পরামর্শ, নিজেকে যথেষ্ট জ্ঞানী মনে না করে মুক্ত মন নিয়ে আরও জানার চেষ্টা করুন; কারন হতে পারে আপনি যা জানেন তার আরও বেশি কিছু অজানা রয়ে গেছে।

    Liked by 1 person

    • আপনার কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ। সেই সাথে আমাকে একাধারে “কূপমন্ডুক”, “ব্যর্থ সুবিধাবাদী”, “অযোগ্য”, “ঈর্ষান্বিত”, “ভণ্ড ও প্রতারক”, “পরছিদ্রান্বেষী” হিসেবে উল্লেখ করায়ও (কিংবা আরো ভালভাবে বললে ‘আক্রমন করায়ও’) ধন্যবাদ!

      আমি আমার লেখার কোথাও আমার জ্ঞানের জাহির করিনি, কারণ আমি নিজেই আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানি। এবং সেই সীমিত জ্ঞান দিয়েই লেখাটি লিখেছি বলে নিজের অক্ষমতা লেখার শুরুতেই বলে নিয়েছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমার সীমিত জ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন রেফারেন্সের সাহায্যে যতটুকু বিশ্লেষন আমি করেছি তা ঠিক আছে কী না? আপনার কথায় এটা স্পষ্ট যে বিভিন্ন রেফারেন্সের সাহায্যে করা বিশ্লেষনটি সঠিক হয়নি। আপনি যখন আমার জ্ঞানের অপ্রতুলতা ধরতে পেরেছেন, তার মানে হচ্ছে এসব ব্যাপারে আপনার অগাধ জ্ঞান। তাহলে লেখার কোন জায়গায় ভুল হয়েছে সেটা কি দয়া করে বলবেন? দয়া করে ‘অবশ্যই’ রেফারেন্সসহ তুলে ধরবেন।

      “ইসলামের সাথে সুফীবাদের সংঘর্ষ” নিয়ে বলছেন ভালোকথা, সুফিবাদ যদি ইসলাম সম্মতই হত তবে কেন শরীয়তপন্থীদের মাঝে এটা নিয়ে বিভেদ থাকবে? ইসলামের সবকিছু মহান আল্লাহপা’ক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুফিবাদ যদি ঐসব নির্ধারিত বিধানগুলো অনুসরণ করত তাহলে নিশ্চয়ই বিভেদ তৈরি হতনা। তারমানে আল্লাহ যেসব নিয়মকানুন তৈরি করে দিয়েছেন সুফিবাদে সেগুলোর কিছু কম-বেশি আছে। নবীজী (স.) কি বলেছেন যে তোমরা আল্লাহর বিধানকে কম-বেশি যোগ-বিয়োগ করে নাও? যারা ইসলামে আল্লাহ’র বিধান বেশ-কমের রকমফের করে ফেলে তাদেরকে কেন আমরা অনুসরণ করব? এটাও আমার অপ্রতুল জ্ঞানের একটা সরল অ্যাজাম্পশন, এবং এই অ্যাজাম্পশনের উপর নির্ভর করেই কিন্তু আপনার ভাষায় “সংঘর্ষ” ব্যাপারটা দাঁড়িয়ে আছে। এবার আপনার কাছে প্রশ্ন – ইসলামের মূলনীতির সাথে কোন তরিকা বা বিধানের সংঘর্ষ হলে আপনি কি করবেন? সেটাকে গ্রহন করবেন নাকি বর্জন করবেন?

      প্রতারণা শব্দটি এসেছে কারণ ইসলামের নামে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন মানুষজনকে এমন কিছু (যেমন মেডিটেশন) শিক্ষা দিচ্ছে যা ইসলামের অংশ নয়। প্রতারণ শুধু টাকা পয়সা দিয়েই হয়না বরং আত্মিক ও মানসিকভাবেও হয়।

      যাই হোক আবারো ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

      Like

      • @ নগণ্য মানুষঃ
        প্রথমতঃ আপনি নিজেই নিজের কাঁধে কিছু অপবাদ তুলে নিলেন, কারন আমি আপনাকে “কূপমন্ডুক”, “ব্যর্থ সুবিধাবাদী”, “অযোগ্য”, “ঈর্ষান্বিত”, “ভণ্ড ও প্রতারক”, “পরছিদ্রান্বেষী” ইত্যাদি বলিনি। আমি বলেছি তাদের কথা যারা কোয়ান্টাম ফাউন্দেসন এর সদস্য হয়ে কোয়ান্টাম কে পতিত বলেন। এখন কোয়ান্টাম মেথড সম্পর্কে জানার জন্য কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করতে হয়না, বই ও ওয়েব সাইটে সবই পাওয়া যায়; সুতরাং আমি ধরে নিয়েছি যে আপনি বিকল্প মাধ্যম হতে সকল তথ্য পেয়েছেন।
        দ্বিতীয়তঃ আমি আপনাকে আক্রমন করিনি বরং আপনার সিমাবদ্ধতাকে মনে করিয়ে দিয়েছি মাত্র।
        তৃতীয়তঃ আমি আপনার সাথে কোন বিতর্কে জড়াতে চাইনা কারন নীতির প্রশ্নে বিতর্ক কোন সমাধান আনেনা; বরং এই জন্য প্রয়োজন জানার জন্য, সত্য উপলব্দির জন্য একনিশ্ততা। আর তাই আমি আপনাকে পরামর্শ দিয়েছি মুক্ত মন নিয়ে জানার চেষ্টা করার।

        Like

        • “মুক্তমন” বলতে আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন দয়া করে বলবেন কি? আমি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন ব্যাপারগুলোর অসাড়তা বিজ্ঞান ও ইসলামের আলোকে বোঝাবার চেষ্টা করেছি। কেন বিজ্ঞান আর ইসলাম নিয়েই করলাম? কারণ বিজ্ঞান আর ইসলাম – এই বিষয় দু’টোকেই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন প্রচুর ব্যবহার করে থাকে। যে কারণে আমি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের টিপিকাল চিন্তা ভাবনা থেকে বের হয়ে এসে তাদের বিষয়গুলোকে বিজ্ঞান ও ইসলামের আলোকে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস নিয়েছি। এখন “মুক্তমন” বলতে যদি আপনি বোঝান “উদারতা” দেখানো তাহলে কিছু সমস্যা আছে। কারণ ইসলাম ধর্ম এত “উদার” নয় যে অন্য ধর্মের রীতি-নীতি তার মাঝে ঢুকিয়ে দিতে হবে, এবং মুলিমরা এত “মুক্তমনা” নয় যে অন্য ধর্মের রীতিনীতি ইসলামে ঢুকিয়ে শিরক, কুফর ও বিদআত এ জড়িয়ে পড়বে। নীতিগতভাবেই আমরা ইসলামে অন্য কোন ধর্মের রীতি-নীতি প্রবেশ করাইনা। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এসব শিরক, কুফর ও বিদআত এর ব্যাপারস্যাপারগুলোকে মুক্তমন নিয়ে দেখলে হয়তো আপনার কাছে মনেই হতে পারে যে – “কী আর করছে এরা, নতুন ভালো জিনিসই তো ইসলামে ঢুকাচ্ছে”, কিন্তু সঠিকভাবে ইসলামী জীবন যাপনের জন্য তা হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে।

          যাই হোক আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, আপনি সম্পূর্ণ লেখাটি ভালোমত পড়েননি। আমার অনুরোধ থাকলো আপনি সম্পূর্ণ লেখাটি সময় নিয়ে ভালোমত পড়ুন। যদি আগে পড়া হয়ে থাকে তাহলে আবারো পড়ুন। তারপর কোনখানে কী ব্যাপারটা অসামঞ্জস্য লেগেছে সেটা উল্লেখ করুন। কারণ “মুক্তমন নিয়ে দেখুন”, “সত্য উপলব্ধির জন্য একনিষ্ঠতা প্রয়োজন” – এসব অস্পষ্ট ব্যাপারগুলো আমি ধরতে পারছিনা। আপনি যদি কষ্ট করে পুরো লেখা পড়ে স্পষ্ট করে ধরিয়ে দেন যে লেখার কোথায় কোথায় সমস্যা আছে, তাহলে ব্যাপারগুলো ধরা আমার জন্য সুবিধা হয়।

          ধন্যবাদ।

          Like

    • আমি কোয়ান্টাম সম্পর্কে বেশ কয়েক বছর স্টাডি করেছি এবং একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি যে যারা কোয়ান্টামের একনিষ্ঠ ভক্ত তারা আসলে বুদ্ধিহীন নির্বোধ ছাড়া কিছুই নয় কেননা তাদের গুরু মহাজাতক (আমি তাকে বলি মহাঘাতক) যা বলে সেটাই জি হুজুর জি হুজুর করে গিলে ফেলে এবং তার পিছনেই সমস্ত শ্রম ধ্যান জ্ঞানকে ব্যয় করা শুরু করে।

      আপনি লিখেছেন সূফীদের কাজ কারবার সাঙ্ঘরশিক শরীয়তের সাথে এবং এটা অমীমাংসিত বিষয়, আপনাকে কে বলেছে অমীমাংসিত? মীমাংসা কি আপনি করেছেন না আপনার সে যোগ্যতা আছে? নিশ্চয় সে যোগ্যতা আপনার নেই এটা আমি নিশ্চিত। ইসলামের পথ সোজা এর ভিতরে বক্রতা নেই, যারাই বক্র পথ চালু করবে বা সেই পথে চলবে তারাই জাহান্নামী। সূফী একটি আবিষ্কার করা পথ আর এর আদি পিতা হচ্ছে ইহুদীরা আর আপনি সেই ইহুদীদের পথের পথিক মনে হচ্ছে।

      আমি বলব তারাই কোয়ান্টামের পক্ষে কথা বলে যাদের ভিতরে আসল ইসলামের গন্ধও নেই আছে সূফী, পীর ইত্যাদির শিরকী আকিদা এবং বিশ্বাস।

      যে প্রতিষ্ঠান নিজের ইচ্ছা মত হাদিস তৈরি করে সহিহ বুখারীর নাম দিয়ে চালিয়ে দিতে পারে, কোরআনের আয়াতের ভিন্ন এবং মনগড়া অর্থ করতে পারে, নিজেদেরকে গায়েবের খবর জানে বলে চালাতে পারে, মাটির ব্যাংক খুশি হয় নি তাই মনের বাসনা পুরন হয় নি ইত্যাদি বলতে পারে, তারা আর যায় হোক মুসলিম হতে পারে না বরং তারা কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম জানতে হলে কোরআন এবং সহিহ হাদিস পড়তে হবে নতুবা যা জানবেন এবং মানবেন তাতে জাহান্নামে যেতে পারবেন তাড়াতাড়ি কিন্তু জান্নাতের গন্ধও পাবেন না।

      আল্লাহ আমাদেরকে সহিহ এবং সঠিক ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন আমরণ, আমীন।

      অ্যাডমিন, http://www.hadithbd.com
      বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন বাংলা ইউনিকোড হাদিসের ডাটাবেস

      Like

      • @ রকন-উল-হকঃ
        একঃ সূফীবাদ যে একটি সম্পূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় তা জানার জন্য আপনাকে খুব বেশি চিন্তা করতে হবে না। বাংলাদেশ সহ প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে এবং বেশ কিছু অমুসলিম দেশেও সূফীদের অনেক খানকা শরীফ রয়েছে। আমরা যাদেরকে প্রচলিত ভাষায় পীর বলে থাকি। অবশ্যই তাদের অনেকেই ভণ্ড ও অর্থ আদায়কারী। কিন্তু এই ধারাটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ভাবে প্রতিটি দেশেই বর্তমান। আর সুফিদের আভিরভাবের সাথে ইহুদিদের যে সম্পর্ক টেনেছেন তা ভুল এবং আমি যতদূর জানি এটি একটি মউদুদী পন্থী প্রচারণা।
        দুইঃ কোয়ান্টাম সদস্য সম্পর্কে আপনার মতামত আমি আংশিক সমর্থন করি, কারন কয়েক লাখ সদস্যের মধ্যে আমিও এমন বেশ কিছু মানুষ দেখেছি যারা আদতে অন্ধ সমর্থক। তা, আমি এইরকম ক্রেজি মানুষ অন্যান্য অনেক রাজনৈতিক দল, পীরের দরবার বা ধর্মীও সঙ্ঘেও দেখেছি। তবে সবচেয়ে বেশি দেখেছি জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরে। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কখনও কোন কিছুর উপর অন্ধ সমর্থন পছন্দ করিনা।
        তিনঃ মনগড়া হাদিস সংক্রান্ত আপনার মন্তব্ব একটি ভ্রান্ত ধারনা মাত্র। আপনার উচিৎ বিষয় গুলো নিয়ে নিজ দায়িত্বে আরও জানার চেষ্টা করা।

        Like

    • একঃ সূফীবাদ ইসলামের কোন অংশ নয় অতএব এটা বাতিল এবং এর মীমাংসা হয়ে গেছে ১৪০০ বছর আগেই। না জানা থাকলে ইসলামী স্কলারদের বিভিন্ন বই, কোরআন এবং সহিহ হাদিস পড়ুন। আশা করি বুঝতে পারবেন।

      দুইঃ যারা এখনো কোয়ান্টামের সাথে জড়িত তারা সবই নির্বোধ কারন এদের আল্লাহ্‌র কিতাবের পরিস্কার কোন জ্ঞান নেই তাই কোয়ান্টামের কাছে গিয়ে সাফল্য খুঁজে শান্তি খুঁজে।

      তিনঃ মনগড়া হাদিস সম্পর্কে আমার কথা পরিস্কার এবং আমি যা বলছি জেনে বুঝে বলছি। আমার কাছে প্রমান আছে লাগলে বলুন প্রমান দিতে পারব ইনশা আল্লাহ।

      Like

        • সূফীবাদ বিষয়টি আসলে ছোট নয় তাই সংক্ষেপে তুলে ধরা সমস্যা। সূফীদের আকিদা হচ্ছে তারা আল্লাহর সাথে বিলীন হতে পারে এবং তাদের ভিতরেই আল্লাহ যা রাসুল (সা) এবং সাহাবাদের আকিদা নয়। তারা কোরআন এবং হাদিসের মনগড়া ব্যাখা করে থাকে যা সালাফে সালেহিনদের ব্যাখার বিপরীত। তারা মোরাকাবা করে এবং সাথে নাচ এবং গান বাজনা করে। ইসলাম সম্পর্কে যাদের কিছুটা হলেও সঠিক ধারনা আছে তারা নিশ্চয় জানে যে এগুলি করতে রাসুল (সাঃ) বলেন নাই বরং এগুলির শুরু ইহুদীদের থেকে। পীর এবং সূফী একই সুত্র থেকে উৎপত্তি।

          ইনশাআল্লাহ্‌ চেষ্টা করব বিস্তারিত তুলে ধরতে সূফীবাদ সম্পর্কে সময় পেলে।

          Like

  12. ভোণ্ডো গুরুর সকল গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেলো তাই সবাই বলি আলহামদুলিল্লাহ , কূয়াণ্টূম থেকে সকলে আশীম দুরে থাকুন, আল্লাহ আমাদের এই সব ডাজ্জাল থেকে হেফাজত করুক আমিন ‘

    Like

  13. পিংব্যাকঃ Imranhaque SAJEEB (imranhaquesajeeb) | Pearltrees

  14. অজানাকে জানা । জানার চেষ্টা । জানার শেষ নাই -জ্ঞান চর্চার বিকল্প নাই । প্রতারকরা প্রতারনা করবেই । কিছু লোককে কিছুকালের জন্য বোকা বানাবেই । ওরা ভেড়ার পালের মত । রাখালের ও কথা শুনেনা গর্তে না পড়া পর্যন্ত ।

    Like

  15. অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দরভাবে লেখার জন্য।

    কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে কোয়ান্টাম যারা করে, মহাজাতক তাদের ব্রেনওয়াশ করে দেয়। তাদেরকে সবসময় প্রোঅ্যাক্টিভ হবার কথা এমনভাবে মনের ভিতর গেঁথে দেয় যে, তারা কোয়ান্টাম নিয়ে কোন কথা শুনলে সেটাকে পাশ কাটিয়ে যায়। তাদের বোঝানো হয় যে যুগে যুগে মানুষ ভাল জিনিসের পিছে লাগে, তাই ঈর্ষাবশবর্তী হয়ে তারা এখন কোয়ান্টামের পেছনে লেগেছে। মানুষজন আপনার ভালো চায়না, তাই আপনি কোয়ান্টামে আসছেন সেটা সহ্য করতে পারছেনা। ইত্যাদি। এবং দুঃখের বিষয় হচ্ছে কোয়ান্টাম সদস্যরা এসব বিশ্বাস করেই চলে। তাই লেখক সাহেব, আপনার এই লেখা তারা পড়েও কিছু বোঝার চেষ্টা করবেনা। কারণ তাদের গুরুজীর বারণ আছে, কোয়ান্টাম নিয়ে কেউ কোন বিপক্ষ কথা বললে সেটা নিয়ে মাথা না ঘামানো!

    তারপরও আমরা চেষ্টা করব লেখাটি ছড়িয়ে দিয়ে লোকজনের বোধোদয় করানোর জন্য। আবারো ধন্যবাদ আপনাকে।

    Like

  16. প্রসঙ্গ একঃ
    যারা অদৃশ্যের জ্ঞান আছে বলে দাবি করেন, তাদের সম্পর্কেঃ
    Bukhari :: Book 9 :: Volume 93 :: Hadith 477
    Narrated Masruq: ‘Aisha (may Allah be pleased with her) said,
    “If anyone tells you that Muhammad has seen his Lord, he is a liar, for Allah says: ‘No vision can grasp Him.’ (6:103) And if anyone tells you that Muhammad has seen the Unseen, he is a liar, for Allah says: “None has the knowledge of the Unseen but Allah.” (27:65)
    “যদি কেউ বলে যে মুহাম্মদ (সঃ) তার পালনকর্তার দেখা পেয়েছে সে একজন মিথ্যাবাদী, কারণ আল্লাহ্‌ বলেছেন: ‘কোন দৃষ্টি তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না.’ কেউ যদি বলে যে মুহাম্মদ (সঃ) এর অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, তবে সে একজন মিথ্যাবাদী কারণ আল্লাহ্‌ বলেছেন: “আল্লাহ ব্যতীত কারো অদৃশ্যের জ্ঞান নেই”

    প্রসঙ্গ দুইঃ
    যারা ইয়োগা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে জানতে চান, তারা শেখ আল মুনাজ্জিদ (Islam Q & A) এর লেখা পড়তে পারেন এখানেঃ
    http://islamqa.info/en/101591
    ইয়োগা যে কোন সাধারণ ‘ব্যায়াম’ না বরং জাদুবিদ্যা (অকাল্ট) তা জানতে পড়ুনঃ
    http://www.jashow.org/wiki/index.php?title=Yoga:_The_Occult

    প্রসঙ্গ তিনঃ
    কেন আমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যেক নামাজে সুরা ফাতিহা পড়ে সরল পথের সন্ধান চাই?
    “আমাদেরকে সরল পথ দেখাও [Guide us to the straight path. Surah Fatiha 1:6]”
    (নিম্নোক্ত অংশটি কিছু প্রশ্ন উত্তর ছাড়া কোন অবস্থাতেই কোরআন এর ইজতিহাদ বা ব্যাখ্যা (Interpretation) নয়, একমাত্র একজন মুজতাহিদ ইজতিহাদ করতে পারেন।)

    ১। কেন সরল পথ এত গুরুত্বপূর্ণ?
    [হুদ (আঃ) বলছেন] … আমার পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই। [… Indeed, my Lord is on a path [that is] straight. Quran 11:56 ]

    ২। সব মানুষ কেন সরল পথে নেই?
    সকল মানুষ একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা পয়গম্বর পাঠালেন সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকরী হিসাবে। আর তাঁদের সাথে অবর্তীণ করলেন সত্য কিতাব, যাতে মানুষের মাঝে বিতর্কমূলক বিষয়ে মীমাংসা করতে পারেন। বস্তুতঃ কিতাবের ব্যাপারে অন্য কেউ মতভেদ করেনি; কিন্তু পরিষ্কার নির্দেশ এসে যাবার পর নিজেদের পারস্পরিক জেদবশতঃ তারাই করেছে, যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ ঈমানদারদেরকে হেদায়েত করেছেন সেই সত্য বিষয়ে, যে ব্যাপারে তারা মতভেদ লিপ্ত হয়েছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, সরল পথ বাতলে দেন। [Mankind was [of] one religion [before their deviation]; then Allah sent the prophets as bringers of good tidings and warners and sent down with them the Scripture in truth to judge between the people concerning that in which they differed. And none differed over the Scripture except those who were given it – after the clear proofs came to them – out of jealous animosity among themselves. And Allah guided those who believed to the truth concerning that over which they had differed, by His permission. And Allah guides whom He wills to a straight path. Quran 2:213]

    ৩। আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ছাড়া কি অন্য কেউ, এমন কি একজন নবী বা রাসুল ও পথ সরল পথ দেখাতে পারেন?
    আপনি (ও মুহাম্মাদ) তাদেরকে সুপথে আনতে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তিনি তাকে পথ দেখান না এবং তাদের কোন সাহায্যকারী ও নেই। [Even] if you should strive for their guidance, [O Muhammad], indeed, Allah does not guide those He sends astray, and they will have no helpers. Quran 16:37]

    ৪। তাহলে একজন নবী বা রাসুলের দায়িত্ব কি? আসল পথ প্রদর্শক কে?
    বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া। Say, “Obey Allah and obey the Messenger; but if you turn away – then upon him is only that [duty] with which he has been charged, and upon you is that with which you have been charged. And if you obey him, you will be [rightly] guided. And there is not upon the Messenger except the [responsibility for] clear notification.” [Quran 24:54]

    ৫। যারা বিভ্রান্ত তারা কেন সরল পথে নেই?
    নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। [Indeed, the religion in the sight of Allah is Islam. And those who were given the Scripture did not differ except after knowledge had come to them – out of jealous animosity between themselves. And whoever disbelieves in the verses of Allah, then indeed, Allah is swift in [taking] account. Quran 3:85]

    ৬। আল্লাহ্‌ তাদেরকে কেন সরল পথ দেখান না?
    আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না? Have you seen he who has taken as his god his [own] desire, and Allah has sent him astray due to knowledge and has set a seal upon his hearing and his heart and put over his vision a veil? So who will guide him after Allah? Then will you not be reminded? [Quran 45:23]
    … তিনি ভ্রষ্টাচারী ভিন্ন কাউকেও বিপথে চলতে দেন না। [… And He misleads not except the defiantly disobedient. Quran 2:26]

    ৭। সরল পথে অন্য পথের সংমিশ্রণ তাহলে কি করা যাবে না?
    আপনি বলে দিনঃ আমাকে তাদের এবাদত করতে নিষেধ করা হয়েছে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের এবাদত কর। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের খুশীমত চলবো না। কেননা, তাহলে আমি পথভ্রান্ত হয়ে যাব এবং সুপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হব না। [Say, “Indeed, I have been forbidden to worship those you invoke besides Allah.” Say, “I will not follow your desires, for I would then have gone astray, and I would not be of the [rightly] guided.” Quran 6:56]

    ৮। অন্য পথের (ধর্মের) সংমিশ্রণ কেন করা যাবেনা?
    (আল্লাহ্‌ বলছেন) তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও। And, [moreover], this is My path, which is straight, so follow it; and do not follow [other] ways, for you will be separated from His way. This has He instructed you that you may become righteous. Quran 6:153]

    বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি এবং আমি এবাদত করব না, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী হবে না, যার এবাদত আমি করি। ”তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন।*’’ [Say, “O disbelievers, I do not worship what you worship. Nor are you worshippers of what I worship. Nor will I be a worshipper of what you worship. Nor will you be worshippers of what I worship. For you is your religion, and for me is my religion.” Surah Al Kafirun 109: 1-6]
    *“লাকুম দিনুকুম ওয়ালিইয়া দ্বীন” মানে “তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন,” “ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার” নয়; ইসলাম এ ধর্মের সংমিশ্রণ (Syncretism) কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয় বরং যারা এরুপ করে তারা নিঃসন্দেহে ইসলাম বহির্ভূত, নির্দ্বিধায়।

    ৯। নিজের খেয়াল মত যারা চলে তারা আসলে কি করে?
    বরং যারা বে-ইনসাফ, তারা অজ্ঞানতাবশতঃ তাদের খেয়াল-খূশীর অনুসরণ করে থাকে। অতএব, আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কে বোঝাবে? তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। [But those who wrong follow their [own] desires without knowledge. Then who can guide one whom Allah has sent astray? And for them there are no helpers. Quran 30:29]

    ১০। তাহলে, আল্লাহ্‌ কাকে সরল পথ দেখান এবং কিভাবে?
    (কোরআন) এর দ্বারা আল্লাহ্ তাকে হেদায়ত করেন যে তাঁর সন্তষ্টি অনুসরণ করে শান্তির পথে, আর তাদের বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে তাঁর ইচ্ছায়, আর তাদের পরিচালিত করেন সহজ-সঠিক পথের দিকে। [By which Allah guides those who pursue His pleasure to the ways of peace and brings them out from darknesses into the light, by His permission, and guides them to a straight path. Quran 5:16]

    ১১। যারা সরল পথে নেই তারা কি অনুসরণ করছে?
    যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে। [Allah is the ally of those who believe. He brings them out from darknesses into the light. And those who disbelieve – their allies are Taghut. They take them out of the light into darknesses. Those are the companions of the Fire; they will abide eternally therein. Quran 2:257]

    ১২। কেন তারা সরল পথ থেকে দূরে সরে গেল?
    (আল্লাহ্‌ কোরআন এ শয়তান কে উদ্ধহৃত করে বলছেনঃ)
    ক) সে (শয়তান) বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। আল্লাহ বললেনঃ বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথে চলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব। [[Satan] said, “Because You have put me in error, I will surely sit in wait for them on Your straight path. Then I will come to them from before them and from behind them and on their right and on their left, and You will not find most of them grateful [to You].” [Allah] said, “Get out of Paradise, reproached and expelled. Whoever follows you among them – I will surely fill Hell with you, all together.” Quran 7:16-18]
    খ) সে (শয়তান) বলল, আপনার ইযযতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দেব। তবে তাদের মধ্যে যারা আপনার খাঁটি বান্দা, তাদেরকে ছাড়া। [Iblees] said, “By Your might, I will surely mislead them all. Except, among them, Your chosen servants.” 38:82-83
    গ) সে (শয়তান) বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব। আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত। [Iblees] said, “My Lord, because You have put me in error, I will surely make [disobedience] attractive to them on earth, and I will mislead them all. Except, among them, Your chosen servants.” Quran 15:39-40

    ১৩। কাদের উপর শয়তান এর ক্ষমতা আছে?
    (আল্লাহ্‌ বলছেন) যারা আমার বান্দা, তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু পথভ্রান্তদের মধ্য থেকে যারা তোমার পথে চলে। তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। Indeed, My servants – no authority will you have over them, except those who follow you of the deviators. And indeed, Hell is the promised place for them all. Quran 15:42-43

    ১৪। কেন তাদের উপর শয়তান এর ক্ষমতা আছে?
    তার আধিপত্য তো তাদের উপরই চলে, যারা তাকে বন্ধু মনে করে এবং তার মাধ্যমে/অনুসরণ করে আল্লাহর সাথে অন্য কে শরিক (শিরক) করে। His authority is only over those who take him as an ally and those who through him associate others with Allah. [Quran 16:100]

    ১৫। তাহলে যারা ইসলাম ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করছে তারা কি পথ অনুসরণ করছে?
    যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান। And whoever opposes the Messenger after guidance has become clear to him and follows other than the way of the believers – We will give him what he has taken and drive him into Hell, and evil it is as a destination. Quran 4:115

    ১৬। শিরকের পরিণতি কি? আসলে মুশরিকরা কাকে উপাস্য মানে এবং অনুসরণ করে? কেন?
    তারা তো আহ্বান করে তাঁর পরিবর্তে শুধু নারী- মূর্তিদের*, আর তারা তো আহ্বান করে শুধু বিদ্রোহী শয়তানকে, যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। They call upon instead of Him none but female [deities], and they [actually] call upon none but a rebellious Satan. Whom Allah has cursed. Quran 4:117-118
    *(মুশরিক আরবরা লাত, উজ্জা, মানাত al-Lat, al-Uzza and Manat নামে তিন দেবীর উপাসনা করে শিরক করত)

    ১৭। শয়তান এর উদ্দেশ্য কি?
    … শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব। For he had said, “I will surely take from among Your servants a specific portion. Quran 4:118

    ১৮। কেন সে মানুষকে শিরক এ লিপ্ত করতে চায়?
    নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। Indeed, Allah does not forgive association with Him, but He forgives what is less than that for whom He wills. And he who associates others with Allah has certainly gone far astray. Quran 4:116

    ১৯। বস্তুত, শয়তান আসলে কি করছে?
    সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদেরকে আশ্বাস দেয়। শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সব প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। Satan promises them and arouses desire in them. But Satan does not promise them except delusion. Quran 4:120]

    ২০। শয়তান কিভাবে মানুষকে বিপথে (কুফরী তে লিপ্ত) করে?
    [তারা (মুনাফেকরা) ] শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি। [The hypocrites are] like the example of Satan when he says to man, “Disbelieve.” But when he disbelieves, he says, “Indeed, I am disassociated from you. Indeed, I fear Allah, Lord of the worlds.” Quran 59:16

    ২১। শয়তানের এই দ্বিমুখী মনোভাব (retreater) থেকে পরিত্রাণ কি?
    বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের, তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে (retreating whisperer), যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে। [Say, “I seek refuge in the Lord of mankind, The Sovereign of mankind. The God of mankind, From the evil of the retreating whisperer – Who whispers [evil] into the breasts of mankind – From among the jinn and mankind.” Quran 114: 1-6]

    ২২। এবং আল্লাহ্‌ কি মনে করিয়ে দিচ্ছেন না শয়তানের আসল উদ্দেশ্য ও তার পরিণতি?
    শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়। যারা কুফর করে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব। আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার। Indeed, Satan is an enemy to you; so take him as an enemy. He only invites his party to be among the companions of the Blaze. Those who disbelieve will have a severe punishment, and those who believe and do righteous deeds will have forgiveness and great reward. Quran 35:6-7

    ২৩। এই বিপথগামীদের আসল অবস্থা কি?
    যাকে মন্দকর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়, সে তাকে উত্তম মনে করে, সে কি সমান যে মন্দকে মন্দ মনে করে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। সুতরাং আপনি তাদের জন্যে অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন তারা যা করে। Then is one to whom the evil of his deed has been made attractive so he considers it good [like one rightly guided]? For indeed, Allah sends astray whom He wills and guides whom He wills. So do not let yourself perish over them in regret. Indeed, Allah is Knowing of what they do. Quran 35:8]

    ২৪। কাফির বা বিপথগামীরা আসলে কার অনুসরণ করছে?
    যারা ঈমান এনেছে তারা যুদ্ধ করে আল্লাহ্‌র পথে, আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা তাগুতের পথে যুদ্ধ করে, অতএব শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিঃসন্দেহ শয়তানের চক্রান্ত চির-দুর্বল। Those who believe fight in the cause of Allah, and those who disbelieve fight in the cause of Taghut. So fight against the allies of Satan. Indeed, the plot of Satan has ever been weak. Quran 4:76

    ২৫। এই পথভ্রষ্টদের কি পরিণতি?
    আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, সেই তো সঠিক পথ প্রাপ্ত এবং যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তাদের জন্যে আপনি আল্লাহ ছাড়া কোন সাহায্যকারী পাবেন না। আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দিব। [And whoever Allah guides – he is the [rightly] guided; and whoever He sends astray – you will never find for them protectors besides Him, and We will gather them on the Day of Resurrection [fallen] on their faces – blind, dumb and deaf. Their refuge is Hell; every time it subsides We increase them in blazing fire. Quran 17:97]

    ২৬। শয়তান তাদের কি বলবে?
    যখন সব কাজের ফায়সলা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবেঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছি, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোন ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু এতটুকু যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছি, অতঃপর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছ। অতএব তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না এবং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই। এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও। ইতোপূর্বে তোমরা আমাকে যে আল্লাহর শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করি। নিশ্চয় যারা জালেম তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। And Satan will say when the matter has been concluded, “Indeed, Allah had promised you the promise of truth. And I promised you, but I betrayed you. But I had no authority over you except that I invited you, and you responded to me. So do not blame me; but blame yourselves. I cannot be called to your aid, nor can you be called to my aid. Indeed, I deny your association of me [with Allah] before. Indeed, for the wrongdoers is a painful punishment.” Quran 14:22

    আমরা কি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাদের ইসলাম অনুসরণ করতে অনুমতি দিয়েছেন?
    আমরা কি সরল পথ চাই না জনৈক গুরুজির অনুসারী হতে চাই যার কাছে মুমিন আর কাফির এর তফাৎ নেই?
    আমরা কি আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারো কাছে সরল পথ চাই যেখানে নবী-রাসুলও শুধু সরল পথ দেখানো ছাড়া সেদিকে পরিচালিত করার কোন ক্ষমতা রাখতেন না?
    আমরা কি বুঝি যে এই সব গুরুর অনুসারী হওয়া শয়তান এর ফিতনা এর একাংশে অংশগ্রহণ ছাড়া আর কিছুই নয়?
    এটা কি স্পষ্ট নয় যে এইসব গুরুরা যা শেখাচ্ছেন তা ইসলাম এর অংশ নয়?
    সে কি মিথ্যাবাদী নয় যে দাবি করে নামাজ হচ্ছে ইবাদাত কিন্তু মেডিটেশন “উচ্চস্তরের ইবাদত”, যেখানে আল্লাহ্‌ বলেছেন সরল পথের অনুসন্ধান কর? তাহলে কি দুনিয়ার তাবৎ গরীব মুসলমান যাদের মেডিটেশন করার পয়সা নেই তারা নিম্নস্তরের ইবাদত করছে?
    আল্লাহ্‌ কি নবী পাঠিয়ে সরল পথ দেখিয়ে দেন নাই যে আমাদের আরও “উচ্চস্তরের ইবাদাত” খুঁজতে হবে এবং অন্য ধর্মের মানুষকে সরল পথের আহ্বান না করে অন্য “ধর্মের মর্মার্থ” খুঁজে বেড়িয়ে পথভ্রষ্ট হতে হবে?
    এটা কি বোধগম্য নয় যে স্রষ্টার প্রতি সমর্পণের একমাত্র পথ ইসলাম এবং রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর দেখানো পথ এবং এর বাইরে কিছু নয়?
    আমরা কি রাসুলুল্লাহ (সঃ) দেখানো পথে না চলে অন্য “গুরু” চাই যে আমাদের ধাবিত করবে তাগুতের পথে এবং পরিণতি জাহান্নামে?
    আমরা কি এতই অকৃতজ্ঞ যে মুসলিম হয়েও গুরুর সাহায্য চাব মেডিটেশন করে যেখানে আল্লাহ্‌ বলেছেন তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ডাকলে (প্রার্থনা/ইবাদাহ) তা শিরক?
    অন্য পথে চলা কুফর?
    আমরা কি শয়তানের হিংসা ভুলে গেছি যার গন্তব্য অবধারিত জাহান্নাম এবং সে তার সাথে আরও যাকে পারে নিয়ে যেতে চায়?
    বস্তুত শয়তান তো সত্য জানেই, যা সে স্বীকার করবে শেষ বিচারের দিনে, কিন্তু আমরা কি সত্য জানি?
    জানলে কি হাল্কা ভাবে নিচ্ছি যেখানে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু?
    তিনি কি পরম করুনাময় নন যিনি আমাদের সব তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সাবধান করে দিয়েছেন?

    যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। [All] praise is [due] to Allah, Lord of the worlds – The Entirely Merciful, the Especially Merciful, Sovereign of the Day of Recompense. It is You we worship and You we ask for help. Guide us to the straight path – The path of those upon whom You have bestowed favor, not of those who have evoked [Your] anger or of those who are astray. Surah Al Fatiha: 1-7

    আমীন

    এই দোয়ার উত্তরঃ
    আলিফ লাম মীম। এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য, Alif, Lam, Meem. This is the Book about which there is no doubt, a guidance for those conscious of Allah – Quran Surah Al-Baqarah 1-2

    আসুন সরল পথ খুঁজতে কুরআন পড়ি, “গুরুর পথ” না অনুসরণ করে রাসুল্লুল্লাহ (সঃ) এর দেখানো পথ জানতে হাদিথ পড়ি এবং জনৈক গুরুর “মর্মবাণী” আর মনগড়া ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে কুরআন এবং হাদিথ থেকে যেই সব মুফাসসির তাফসীর করেছেন তা পড়ি, এবং একজনের বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত কথা বাদ দিয়ে যেই আলেমগণ ঐক্যমত্য (ইজমা) প্রকাশ করেছেন তাদের কথা জানতে চেষ্টা করি।

    Like

      • আলহামদুলিল্লাহ্‌। ভাই, ব্যাখ্যা তো নয় আগেই উল্লেখ করেছিলাম, শুধুই কুরআনের উদ্ধৃতি, আল্লাহর কথার উপর কার কি বলার আছে আর, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আপনি তো মনেহয় উল্লেখ করেছেন ই যে, ব্যাখ্যা আমাদের বোখারি সাহেবও সুরা-বুরুজ মানে করেছেন “রাশিচক্র”- Constellations; Al-Buruj মানে Constellations এই ভুল ব্যাখ্যার পুরোধা Abdullah Yusuf Ali এর কোরআন অনুবাদ, আলি সাহেব সুন্নি মুসলিম নন, ইসমাইলি শিয়া সম্প্রদায়ের ‘বোহরা’ গোত্র, ওনার ব্যাখ্যা সুন্নিদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, কে ব্যাখ্যা/অনুবাদ করছে তা সবসময় খেয়াল করতে হবে*,

        এগুলি বলার একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি, মুসলমান হিসেবে আমাদের কর্তব্য, আমাদের কাজ রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে অনুসরণ করাঃ
        তোমার প্রভুর রাস্তায় আহ্বান করো জ্ঞান ও সুষ্ঠু উপদেশের দ্বারা, আর তাদের সাথে পর্যালোচনা কর এমনভাবে যা শ্রেষ্ঠ। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু স্বয়ং ভাল জানেন তাকে যে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে, আর তিনি ভাল জানেন সৎপথাবলন্বীদের। Invite to the way of your Lord with wisdom and good instruction, and argue with them in a way that is best. Indeed, your Lord is most knowing of who has strayed from His way, and He is most knowing of who is [rightly] guided. Quran 16:125

        কিন্তু ব্লগে লিখেই তো আর ব্যাপারটা শেষ নয়, শেষ কি? ইয়গা ইত্যাদি শেখাচ্ছেন জনৈক ভাগ্যগণক ‘ইসলামিক’ গুরু, শেখাচ্ছেন কুফর আর শিরক মেডিটেশনের নামে, উচুস্তরের ইবাদতের পরিভাষায় উচুস্তরের শিরক প্র-মাস্টার কোর্সের নামে যা তিনি দীর্ঘদিন ‘সাধনা’ করে লাভ করেছেন, ইসলাম এ নিষেধ মানত এর নাম ‘মাটির ব্যাংক’ দিয়ে মাছের তেলে মাছ ভাজছেন …

        আল্লাহ্‌ কোরানের অনেক জায়গায় বলেছেন “যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে” – “ইন্নাল্লাজিনা আমানু ওয়া আমিলুসসালিহাত” – আগে ঈমান, পরে “আমলে সালেহ” (কোয়ান্টাম এর ভাষায় ‘ভাল কাজ’)।

        কোয়ান্টাম এর অনুসারীরা যদি শুধু বুঝতেন ঈমান আর ইসলাম ঠিক না থাকলে কোন ‘আমলে সালেহ’ গ্রহণযোগ্য না আল্লাহর কাছে, (আমরা কোরআন, হাদিথ, ইজমা ও কিয়াস থেকে বুঝি আল্লাহ্‌ যা বিচার করেন, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন শুধু কাফের-মুশরিক ছাড়া যাদের ঈমান ও ইসলাম ঠিক নেই, তিনিই বিচার দিনের মালিক, সর্বজ্ঞানী),

        তাহলে তারা উপলব্ধি করতেন কোয়ান্টাম এর অনেকগুলো আসল উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি হচ্ছে মেডিটেশন (এক ধরণের অকাল্ট সায়েন্স) এর মাধ্যমে “সুস্থ দেহ সুন্দর মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবন” এর লোভ দেখিয়ে শিরক আর কুফর শিখিয়ে, “মানবসেবার” আত্মতৃপ্তির অহংকার মনে বপন করে, তার বিনিময়ে শুধুমাত্র ঈমান আর ইসলামটি কিনে নেয়া। এতটুকই, আর তো কিছু দরকার নেই শয়তানের তার প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করতে তার অনুসারীদের মাধ্যমে। যারা এভাবে চায় দুনিয়াতে, আল্লাহ্‌ তো তাদের দেবেনই বলেছেন, আল্লাহ্‌ কাফির আর মুশরিকদের এই দুনিয়াতেই তাদের ভাল কাজের প্রতিদান দেবেন, পরকালে তাদের জন্য কিছু নেইঃ

        যে কেউ পরলোকের শস্যক্ষেত্র চায়, আমরা তার জন্য তার চাষ-আবাদ বাড়িয়ে দিই, আর যে কেউ এই দুনিয়ার চাষ-আবাদ চায় তাকে আমরা তা থেকেই দিয়ে থাকি, আর তার জন্য পরলোকে কোনো ভাগ থাকবে না। Whoever desires the harvest of the Hereafter – We increase for him in his harvest. And whoever desires the harvest of this world – We give him thereof, but there is not for him in the Hereafter any share. Quran 42:20

        একদলকে তিনি সুপথগামী করেছেন, আর আরেক দলের পথভ্রান্তি তাদের উপরে সংগত হয়েছে। নিঃসন্দেহ তারা আল্লাহ্‌কে ছেড়ে দিয়ে শয়তানদের গ্রহণ করেছিল অভিভাবকরূপে, আর তারা মনে করত যে তারা অবশ্যই সুপথে চালিত। A group [of you] He guided, and a group deserved [to be in] error. Indeed, they had taken the devils as allies instead of Allah while they thought that they were guided. Quran 7:30

        হে আদম-সন্তানগণ! শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই প্রলোভিত না করে, যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে বের করে দিয়েছিল এই বাগান থেকে, তাদের থেকে তাদের পোশাক ছিন্ন ক’রে, যেন সে তাদের দেখাতে পারে তাদের লজ্জা। নিঃসন্দেহ সে তোমাদের দেখে — সে ও তার কাফেলা, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিঃসন্দেহ আমরা শয়তানকে বানিয়েছি তাদের অভিভাবক যারা বিশ্বাস করে না। O children of Adam, let not Satan tempt you as he removed your parents from Paradise, stripping them of their clothing to show them their private parts. Indeed, he sees you, he and his tribe, from where you do not see them. Indeed, We have made the devils allies to those who do not believe. Quran 7:27

        আমি কি তোমাদের জানাব কাদের উপরে শয়তানরা অবতরণ করে? তারা অবতরণ করে প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর উপরে, তারা কান পাতে**, আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। Shall I inform you upon whom the devils descend? They descend upon every sinful liar. They pass on** what is heard, and most of them are liars. Quran 26:221-223
        [** মিথ্যাবাদী ভাগ্যগণকেরা জীনদের সাহায্য নেয় ভবিষ্যৎ জানতে যা জীনরা চুরি করে ফেরেশতাদের কথোপকথন থেকে, সহি হাদিথঃ Bukhari :: Book 6 :: Volume 60 :: Hadith 223
        Narrated Abu Huraira: The Prophet said, “When Allah has ordained some affair in the Heaven, the angels beat with their wings in obedience to His statement, which sounds like a chain dragged over a rock.” (‘Ali and other sub-narrators said, “The sound reaches them.”) “Until when fear is banished from their (angels) hearts, they (angels) say, ‘What was it that your Lord said? They say, ‘The truth; And He is the Most High, the Most Great.’ (34.23) Then those who gain a hearing by stealing (i.e. devils) will hear Allah’s Statement:– ‘Those who gain a hearing by stealing, (stand one over the other like this). (Sufyan, to illustrate this, spread the fingers of his right hand and placed them one over the other horizontally.) A flame may overtake and burn the eavesdropper before conveying the news to the one below him; or it may not overtake him till he has conveyed it to the one below him, who in his turn, conveys it to the one below him, and so on till they convey the news to the earth. (Or probably Sufyan said, “Till the news reaches the earth.”) Then the news is inspired to a sorcerer who would add a hundred lies to it. His prophecy will prove true (as far as the heavenly news is concerned). The people will say. ‘Didn’t he tell us that on such-and-such a day, such-and-such a thing will happen? We have found that is true because of the true news heard from heaven.” ]

        আর কে তার চাইতে বেশি অন্যায়কারী যে আল্লাহ্ সন্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে — ‘আমার কাছে প্রত্যাদেশ এসেছে’, অথচ তার কাছে কোনো-প্রকার প্রত্যাদেশ আসে নি, আর যে বলে — ‘আমি অবতারণ করতে পারি যা আল্লাহ্ অবতারণ করেছেন তার মতো জিনিস’? আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যু-যন্ত্রণায় থাকবে আর ফিরিশ্‌তারা তাদের হাত বাড়াবে — ”বের করো তোমাদের অন্তরা‌ত্মা! আর তোমাদের দেয়া হবে লাঞ্ছনাপূর্ণ শাস্তি যেহেতু তোমরা আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে বলে চলেছিলে সততার সীমা ছাড়িয়ে, আর তোমরা তাঁর আয়াতসমূহের প্রতি অহংকার পোষণ করতে।’’ And who is more unjust than one who invents a lie about Allah or says, “It has been inspired to me,” while nothing has been inspired to him, and one who says, “I will reveal [something] like what Allah revealed.” And if you could but see when the wrongdoers are in the overwhelming pangs of death while the angels extend their hands, [saying], “Discharge your souls! Today you will be awarded the punishment of [extreme] humiliation for what you used to say against Allah other than the truth and [that] you were, toward His verses, being arrogant.” Quran 6:93

        আবারো বলি, কিন্তু ব্লগে লিখেই তো আর ব্যাপারটা শেষ নয়, শেষ কি? ইয়গা ইত্যাদি শেখাচ্ছেন জনৈক ভাগ্যগণক শহীদ আল বোখারি সাহেব যিনি আবার ‘ইসলামিক’ এবং ‘গুরু’, শেখাচ্ছেন কুফর আর শিরক মেডিটেশনের নামে, উচুস্তরের ইবাদতের পরিভাষায় উচুস্তরের শিরক প্র-মাস্টার কোর্সের নামে যা তিনি দীর্ঘদিন ‘সাধনা’ করে লাভ করেছেন, ইসলাম এ নিষেধ মানত এর নাম মাটির ব্যাংক দিয়ে মাছের তেলে মাছ ভাজছেন …

        হ্যাঁ, বোখারি সাহেবের নিউরো লিঙ্গুইসটিক প্রোগ্রামিং (“কোয়ান্টাম এর নামে কথা বলা আসলে ভাল কাজে ঈর্ষান্বিত হওয়া, কানে দেবেন না, প্র-এক্টিভ থাকবেন”) আর অটোসাজেশন (সেলফ হিপনোটিজম) একেবারেই ঠিকঃ আমরা কোয়ান্টাম এর সাফল্য দেখে ‘ঈর্ষান্বিত’, যে একটা মুসলিম, গরীব দেশে এত মানুষ আজকে কুফর এর অনুসারী, ইসলাম এর নয়। আল্লাহ আমাদের গরীব দেশের মুসলমানদের এই ফিতনা থেকে বাঁচান, আমাদেরই দোষ, আমরাই দূরে সরে গেছি। আল্লাহ্‌ আমাদের মাফ করে দেন, সরল পথে পরিচালিত করুন, আমীন।

        আল্লাহ্ — তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই। সুতরাং আল্লাহ্‌র উপরেই তবে মুমিনরা নির্ভর করুক। Allah – there is no deity except Him. And upon Allah let the believers rely. Quran 64:13

        ওয়াসসালাম।

        [* এখানে ব্যবহৃত সব অনুবাদ জহুরুল হক/মহিউদ্দিন খান/Saheeh International – – কোরআন ও অনুবাদ এক সাথে পড়তে/খুঁজতে ব্যবহার করুন কোরআন উল কারীম এর ফ্রী সফটওয়্যারঃ zekr.org]

        [এটা পাবলিশ করেন নাঃ আপনার ব্লগের একটা যেমন তেমন ইংরেজি অনুবাদ গুগল ট্রান্সলেট দিয়ে করে একটা ইন্টারনাল পেজ তৈরি করলে (লিঙ্ক দেবার দরকার নেই) কি SEO ইম্প্রুভ করবে? বুঝিনা, আন্দাজ করে এমনি জিগ্যেস করলাম। আল্লাহ্‌ আপনার ব্লগ সবখানে ছড়িয়ে দিন এবং আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, আমীন]

        Like

  17. ডঃ মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, PhD, Islamic University Madinah (Ntv আপনার জিজ্ঞাসা তে যিনি প্রশ্নোত্তর দেন) এর লেকচার (ইউটিউব) সূফীসম বিষয়েঃ
    http://www.youtube.com/watch?v=g-yaeZUTLcI‎

    সূফীসম সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর লেকচার (অডিও)
    http://www.icdbd.org/blog/2012/dr-saifullah/

    Like

  18. সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ এর জন্য যে আল্লাহর অশেষ রহমতে ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ সিরিজের প্রথম বইয়ের অনুবাদ “খোরাসান থেকে কালো পতাকা” প্রকাশিত হয়েছে। হলুদ মিডিয়া যা জানতে দিবে না তা জানতে পড়ুন এই বইগুলো।

    বইটি আপনারা এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া অনলাইনেও পড়ার ব্যাবস্থা ও আলাদা প্রবন্ধ হিসেবে পড়ার ব্যাবস্থাও আছে।

    http://blackflagseriesinbangla.wordpress.com/

    https://www.facebook.com/blackflagseriesinbangla

    Like

  19. Dear Honorable Article Writer,
    You have sufficient knowledge about Science & Islam Religion.
    I respect your knowledge.

    But, there are some more realities than your knowledge.
    You have told again and again that your knowledge is not sufficient.
    So, if you honestly believe that your knowledge is not sufficient – How
    think you to write this type of article !!!!!!!

    Do you know personally and Completely about Quantum Foundation???
    Do you know actually – Have Quantum Any Research Centre? Or not !!!!!
    Do you know all the issues & purposes of Quantum Foundation???
    Do you believe in purpose (NIYOT)???
    Have you describe once about the benefits of Quantum Theory???
    Do you believe – Little Knowledge is dangerous for anybody!!!!!!!!!!!!

    First of all try to know completely about Quantum Foundation.
    I will suggest you to not to describe your purpose too………….
    But, I’ll cordially request you to know completely about this Foundation.

    My Speech = “Though Religion & Science is Top from all the knowledge, But, Can they lead & touch us properly? If something try to help & try to keep touched us with many of good purposes so whats the wrong here!!! “

    Like

    • I didn’t get your point from the above comment. It seems that You think, I’ve written this article without any actual knowledge about Quantum Method. How can you be so sure of that? Did I write anything wrong in this article? If I did, then please pin point that portion. Without pointing anything from this article, please do not argue about the true-lies of this article. Your comment was something of an enigma.

      Like

    • MR. ABCD KHAN সাহেব,
      কাকতালীয় হলেও বিষয়টা মজার যে যারা কোয়ান্টাম এর আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারে তাদের জ্ঞান সাধারণত বেশ কম হয়। এবং এটি ও কাকতালীয় যে কোয়ান্টাম এর কোন বিষয় ইসলাম এর সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ না হলে তা কোয়ান্টাম এর ওয়েব সাইট থেকে কেন যেন হারিয়ে যায় এবং এ বিষয়ে যারা জ্ঞানী তারা প্র-এক্টিভ থাকেন।

      যাইহোক, আপনি বাংলায় আপনার দ্বিধা প্রকাশ করুন, উত্তর দেয়া সহজ হবে ইনশা আল্লাহ্‌।

      আর আপনার হোম-ওয়ার্ক হচ্ছেঃ
      ১। শহীদ আল বোখারি এর মত ‘গুরু’ ইতিপূর্বেও ফিতনা ছড়িয়েছেন, যেমন শ্রী- ভগবান রজনিশ ওরফে ‘ওশো’ (https://en.wikipedia.org/wiki/Osho_%28Bhagwan_Shree_Rajneesh%29), মেহের বাবা (https://en.wikipedia.org/wiki/Meher_baba) এবং শ্রী চিন্ময় (https://en.wikipedia.org/wiki/Sri_Chinmoy) – এদের ‘আকিদা’, কীর্তিকলাপ সম্পর্কে জানুন এবং তার সাথে বোখারি সাহেবের কি কি সামঞ্জস্য আছে তা আবিষ্কার করুন। আপনি আগ্রহী হলে আরও জানাবো, কেমন?

      ২। New Age religion (http://en.wikipedia.org/wiki/New_Age#Organized_religion) সম্পর্কে জানুন এবং এর সাথে বোখারি সাহেবের কি কি সামঞ্জস্য আছে তা আবিষ্কার করুন।

      এখন শেখ হাসিনার ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট সস্তা – শুধু wiki না পরে আরও অন্য উৎস অনুসন্ধান করুন, উইকি তে ভুল তথ্য ও থাকে, তবে শুরু করার জন্য খারাপ না।

      আমরা শুধু দোয়া করতে পারি, হেদায়েত আল্লাহ’র হাতে (কোরআন ৯২:১২)

      Like

  20. প্রিয় ইসলামিক রিসারচ সেন্টারের সম্মানিত ব্লগার ভাই,

    আমার সালাম নিবেন।

    মেহেরবানি করে অনুসন্ধান উদ্দেশ্যে কিন্তু কাউকে না জানিয়ে, “কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট কোরস” অথবা “প্রজ্ঞা জালালি” অথবা “সজ্ঞা জালালি”- তে অতিথি হিসেবে আমার মতন অংশ নিন অথবা অল্প কিছু টাকা খরচ করে অংশ নিয়ে দেখুন। আমারও প্রথম প্রথম সন্দেহ হয়েছিল ভীশন ভীশন ভীশন – কিন্তু বহু লোক জন এবং অনেকের উন্নতি দেখে = আমার কাছে জা মনে হলো = এ কোনো কালোজাদু বা আদ্ধ্যাত্যিক কিছু নয় = এ পুরোটাই মনোবিদ্যার গাঠনিক প্রয়োগের ফলে মানুষের উন্নতি করার একটা চেস্টা মাত্র। এখানে ধরমো বা ঈমান নষ্ট হবার সম্ভাবনা তো নাই-ই বরং আপনি আরো বেশী ইমান-এর দিকে ঝুকে পড়বেন = আমার অন্তত ব্যক্তিগত ভাবে বিচার বিশ্লেষন করে তাই-ই মনে হলো।

    মুসলিম যেহেতু, তাই, আপনি “নিয়ত”-এ বিসশাস করেন অবশ্যই। তাই, আমি বলবো – “আগে ঊনাদের মূল এবং প্রধান প্রধান নিয়ত গুলো সম্পরকে জানার চেষ্টা করুন এবং অবশ্যই সেইটা আপনি নিজে সশরীরে জেয়ে – কারো মুখের কথায় বা কারো লেখা প্রতিবেদন বা কোনো ব্লগ-এর সাহাজ্যে নয়। কোনো কিছু নিয়ে আমরা অবশ্যই মুক্ত আলোচনা করব = ঠিক এবং কল্যানকর হলে, তা অবশ্যই প্রচারনা করতেও পিছপা হবো না = কিন্তু তার-ও আগে আমাদের উচিত গভীরভাবে সেই বিষয়ে নিজে আগে পুরনাঙ্গভাবে ধারনালাভ করা এবং অনুসন্ধান করা।

    আমার বিসশাস আপনি আমার মতন-ই একজন ঈমানদার মানুষ।
    শহীদ আল বোখারি সাহেব-এর সাথে আপনি আগে সাক্ষাতে দেখা করেন অথবা ওই Program-গুলোর মাধ্যমে সরাসরি উনার কথা শুনুন = আমি বিসশাস করি = আপনার ঈমান যাবে না = একটা ফোটা-ও ঈমান যাবে না ইনশাল্লাহ।

    মহান মালিকের উপর এ আমার বিসশাস। আল্লাহ- এর উপর ভরশা, আস্থা এবং ভরসা থাকলে, সাহস করে আমার এই কথাটা শুনুন = কোন প্রকার কালো জাদু অথবা বেদাত কোনো কিছু অথবা অলউকিক কোনোকিছু অথবা অশুভ কোনো কিছু হলে = মহান মালিক-এর কাছে অনেক অনেক অনেক ঈমানদার মানুষ একত্রিত হয়ে এর বিচার চান = ইনশাল্লাহ, উনাদের “নিয়ত” যদি খারাপ হয় ==== তবে তারা আর বেশীদিন টিকবে না = নিয়ত ভালো থাকলে, মহান মালিক-এর অশেষ রহমতে তাদের কিছুই হবে না – ইসলামিক ফাউন্ডেশন অথবা এর চেয়েও অনেক বড় কোনো সনামধন্য একাধিক ফাউন্ডেশনের একাধিক শক্তিশালী ব্লগ-এও তাদের কিছুই হবেনা = ইনশাল্লাহ ।। “

    Like

    • ভাই, আপনাকে আমি আহবান জানবো আগে ইসলাম সম্পর্কে জানুন এবং অতঃপর কোয়ান্টামের পক্ষে কথা বলুন। আমি তাদের আদ্য পান্ত সবই জানি এবং আমি বহু প্রমান আপনাকে দেখাতে পারব তাঁরা ইসলামের নামে বাতিল সূফীবাদের প্রচার প্রচারণা করছে।

      ইসলাম সম্পর্কে যাদের কোন জ্ঞান নেই তারাই কোয়ান্টামের পক্ষে কথা বলবে, এই বিষয়ে আমি ১০০% নিশ্চিত।

      Like

    • আপনি নিজে আগে চিন্তা করুন আপনি কি মুসলিম থাকতে চান? যদি মুসলিম থাকতে চান তাহলে কোয়ান্টাম থেকে ফেরত আসুন নতুবা আপনার জীবনে আমল বলতে শিরক ছাড়া আর কিছু থাকবে কি না সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।

      সময় আছে কোরআন এবং সহিহ হাদিস পড়ুন এরপর বুঝতে পারবেন কোয়ান্টাম সত্য না যা এখানে বলা হয়েছে সেটা সত্য। যারা কোরআন এবং সহিহ হাদিস থেকে দূরে বসবাস করে তারাই শুধু কোয়ান্টামের পক্ষে কথা বলে আর কেউ নয়।

      Like

    • আপনিও সালাম নেবেন। ভাই একটি জিনিস পরিস্কার বলি – “আমি ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের কোন ব্লগার নই। এই সাইটের সাথে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের কোন যোগসাজস নেই, এই সাইটে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার থেকে প্রকাশিত কিছু আর্টিকেলের লিংক দেয়া হয়েছে মাত্র।”

      ভাই আমি যে গ্রাজুয়েশন কোর্স, প্রজ্ঞা জালালি, সজ্ঞা জালালি, কোয়ান্টামম কিংবা প্রোমাস্টার্স করিনি আপনি কিভাবে জানলেন? এসব করে কি আমার মাঝে বোধোদয় হতে পারেনা? আপনার জ্ঞাতার্থে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, “জালালি” প্রোগ্রামগুলোতে শহীদ সাহেবকে প্রশ্ন করার নিয়ম হচ্ছে, তাকে প্রশ্নটি কাগজে লিখে দিতে হয়। কোন এক “জালালি” প্রোগ্রামে এই আর্টিকেলের বিষয় নিয়ে কিছু প্রশ্ন তাকে কাগজে লিখে করা হয়েছিল। উনি সুন্দরমত সে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে অন্য প্রশ্নে চলে যান। যাই হোক ভাই, আপনার যদি মনে হয় যে এই লেখায় তথ্য প্রদানে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, তবে দয়া করে অসামঞ্জস্যতাটুকু ধরিয়ে দিন, কৃতজ্ঞ থাকব।

      Like

    • MR. ABCD KHAN সাহেব,
      কাকতালীয় হলেও বিষয়টা মজার যে যারা কোয়ান্টাম এর আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারে তাদের জ্ঞান সাধারণত বেশ কম হয়। এবং এটি ও কাকতালীয় যে কোয়ান্টাম এর কোন বিষয় ইসলাম এর সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ না হলে তা কোয়ান্টাম এর ওয়েব সাইট থেকে কেন যেন হারিয়ে যায় এবং এ বিষয়ে যারা জ্ঞানী তারা প্র-এক্টিভ থাকেন।

      যাইহোক, আপনি বাংলায় আপনার দ্বিধা প্রকাশ করুন, উত্তর দেয়া সহজ হবে ইনশা আল্লাহ্‌।

      আর আপনার হোম-ওয়ার্ক হচ্ছেঃ
      ১। শহীদ আল বোখারি এর মত ‘গুরু’ ইতিপূর্বেও ফিতনা ছড়িয়েছেন, যেমন শ্রী- ভগবান রজনিশ ওরফে ‘ওশো’ (https://en.wikipedia.org/wiki/Osho_%28Bhagwan_Shree_Rajneesh%29), মেহের বাবা (https://en.wikipedia.org/wiki/Meher_baba) এবং শ্রী চিন্ময় (https://en.wikipedia.org/wiki/Sri_Chinmoy) – এদের ‘আকিদা’, কীর্তিকলাপ সম্পর্কে জানুন এবং তার সাথে বোখারি সাহেবের কি কি সামঞ্জস্য আছে তা আবিষ্কার করুন। আপনি আগ্রহী হলে আরও জানাবো, কেমন?

      ২। New Age religion (http://en.wikipedia.org/wiki/New_Age#Organized_religion) সম্পর্কে জানুন এবং এর সাথে বোখারি সাহেবের কি কি সামঞ্জস্য আছে তা আবিষ্কার করুন।

      এখন শেখ হাসিনার ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট সস্তা – শুধু wiki না পরে আরও অন্য উৎস অনুসন্ধান করুন, উইকি তে ভুল তথ্য ও থাকে, তবে শুরু করার জন্য খারাপ না।

      আমরা শুধু দোয়া করতে পারি, হেদায়েত আল্লাহ’র হাতে (কোরআন ৯২:১২)

      Like

  21. যে ভাই মূল ব্লগটি লিখেছেন,

    উনাকে আমার সশ্রদ্ধ সালাম।

    ভাই, ভালো আছেন তো আপনি?

    আমার জানা মতে, “Quantum Foundation”-এর গবেশনাগার রয়েছে এবং উনাদের অনেক অনেক কিছুই রয়েছে = যে সকল বিশয়ে আপনি কোনো প্রকার খোজ-ই নেন নাই দেখলাম। আপনার এত্তো বড়ো একটা প্রতিবেদন-এর মূল ভিত্তি পুরোটাই ওয়েব ভিত্তিক। সশরীরে জান এবং খোজ নিয়ে দেখুন। অনেক অনেক অনেক অনেক অনে…………ক কিছুই জানেন না। এতোটা অল্প জেনে এতো বড়ো একটা সেন্টারের (ইসলামিক রিসারচ সেন্টার) এমন একটা ভিত্তীহীন লেখা লেখাটা হয় তো থিক হলো নাহ। নাহ!!! একদম-ই ঠিক হলো নাহ !!!!!!!!!

    আরো জানুন। না জেনে কিছু করতে গেলেই যে জ্ঞানাদরশনের জন্যে বিপদ।
    অল্প বিদ্যা যে ভীশন রকম ভয়ংকর……এ হলো জ্ঞানপাপ-র আর জ্ঞানান্ধতা-র লক্ষন মাত্র।

    সশরীরে গভীরভাবে খোজ নিয়ে দেখেন => ভুল হলে, এইখানেই সীকার করবেন মেহেরবানি করে = নইলে অপপ্রচার-এর কারনে মহান মালিক-এর কাছে গুনাহগার হয়ে রইবেন।

    জাই হোক আমার সালাম নিবেন শেষবার আবার-ও।

    Like

    • আপনাকেও সশ্রদ্ধ সালাম। প্রথমেই ভাই একটি জিনিস পরিস্কার বলি – “এই সাইটের সাথে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের কোন যোগসাজস নেই, এই সাইটে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার থেকে প্রকাশিত কিছু আর্টিকেলের লিংক দেয়া হয়েছে মাত্র।”

      আপনার মন্তব্য থেকে যা বুঝলাম তা হল “আমি না জেনে অনেক কিছু লিখেছি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সম্পর্কে যা মোটেও সঠিক নয়।” খুব ভাল কথা ভাই। তাহলে ভাই আপনি কি দেখিয়ে দেবেন লেখাটির কোথায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বা কোয়ান্টাম মেডিটেশন নিয়ে বানোয়াট ও অসত্য কথা লেখা হয়েছে? দেখিয়ে দিলে খুবই বাধিত হব ভাই, কারণ অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেউ এখনও পর্যন্ত দেখায়নি যে লেখাটির ভুলগুলো কোথায়।

      Like

    • sot niyot সাহেব,
      কোয়ান্টামের কি আছে কি নাই সেটির বৃত্তান্ত তো এই ব্লগ এ কোথাও বলা হয়নি, ফেরাউনদের তো বড় বড় পিরামিড ছিল, মমির গবেষণাগার ছিল – তাহলে তারা ইসলাম এর শত্রু কেন? কোয়ান্টাম এর উৎস কোথায় তা বোঝা এর থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

      আপনার হোমওয়ার্ক হচ্ছেঃ
      কোয়ান্টাম এর মেডিটেশন এর সাথে Paulo Coelho এর The Pilgrimage (http://en.wikipedia.org/wiki/The_Pilgrimage) বই এ উল্লেখিত RAM Breating Exercise এর কেন হুবহু মিল তা লক্ষ্য করা। শহীদ আল বোখারি সাহেবের দীক্ষা কেন একজন লাতিন আমেরিকান myticism-based লেখক, যিনি একজন ceremonial magician এর শিস্য ছিলেন, তার মত এটি ভেবে দেখেন?
      আল বোখারি সাহেবের কণ্ঠে এই মেডিটেশন গুলি যদি ওদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলে থাকে তবে এই ব্লগ এ আমাকে জানান, আমি আপলোড করে দেব কোথাও আপনার জন্য।

      আর উইকি এর বাইরে খোঁজ করুন, ওখানে কিছুই নেই তেমন।

      বিঃদ্রঃ ভাই আমি কিন্তু মূল ব্লগার কেও চিনি না, ওই সেন্টার কোথায় জানিও না। আপনি (sot niyot) আর ABCD Khan সম্ভবত একই মানুষ (লেখার discourse দেখে মনে হল) যিনি ভাবছেন ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের ব্লগ এটি। আপনি কোন যুক্তি ছাড়া একটি Sophist এর মত রাজনৈতিক মন্তব্য করে সব উড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন, এটি কিন্তু ভাল লক্ষণ না।

      Like

  22. Thanks a lot for that Exclusive Informations about Quantum Method. I had relation with quantum method since 10 years. I had also decision to participate in Quantum Method Course Shagotom ! Rahmom !! 375 at 12-15 September, 2014. But, now i am detached from anti Islamic Prayer system like Quantum. Alhamdulillah. May Allah Bless you.

    Like

  23. লেখককে ধন্যবাদ এমন একটা ব্লগ লেখার জন্য। আমি বুখারি সাহেবেকে নিয়ে কিছু ঘটণা বলতে চাই। আমি কোয়ান্টামের একজন গ্র্যাজুয়েট। মেডিটেশন কি তা জানার লোভে আমি কোয়ান্টামের করস্টি করি । আমি কোর্স করার সময়য় কয়েকটা জিনিস আমার মনে অনেক দাগ কাটে।
    ১। কোয়ান্টা ধ্বনি আর ভঙ্গি।
    ২। মাটির ব্যাঙ্ক।
    ৩। অন্তরগুরু।
    ৪। অনেক বেশি পরিমাণ শিরক আর কুফরের ছড়াছড়ি।
    ৫। তার প্রাক্তন পেশা।

    এই বিষয় গুলা নিয়ে অনেক বলেছেন আমার কিছু বলার নেই।

    লেখক যেইসব যুক্তির অবতারণা করছেন আমার মনে তখনই বেজে উঠে। ব্লগটি পড়ে পুরোপুরি সব নিশ্চিত হলাম।

    আমি বুখারি সাহেবের ব্যাকগ্রাউন্ড স্ট্যাডি করেছি। এমন কিছু বের করেছি যা শুনলে সবাই শিউরে উঠবেন।

    বুখারি সাহেব আগে ভাগ্যগনণা করতেন। কিন্তু তার অনেক ক্ষমতা ছিল। এমননা ক্ষমতা গুলো গুজব ছিল। আমার বাবা তার কাছে বেশ কিছু সমস্যা সমাধানের এর জন্য যায় এবং সে পুরোপুরি সফলতার সাথে সমাধান করে। আমার বাবা শুরুতে তাকে অবিশ্বাস করেছিল কিন্তু পরে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় তার অলৌকিক ক্ষমতা আছে কারণ তার সফলতার পরিমাণ ১০০% কোন ভুল নাই। সে এই কথা বলত যে টাকা দিলে সে মৃত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলানোর ব্যবস্থা করবে(নাউযুবিল্লাহ) তার এই ক্ষমতা আছে।

    তার সাথে সরাসরি শয়তান বা খুব বেশি জিনের সাক্ষাত হয় আমার বিশ্বাস। তাই সে এসব কথা বলতে পারবে।এইগুলা সরাসরি কারও নির্দেশে হয়। সে উপর দিয়ে দেখায় সব কিছু কত ভাল করতেছে কিন্তু সে আমাদের মুসলিমদের আসল জিনিস নিয়ে নিচ্ছে। আল্লাহ আমাকে রহম করে এই ফিতনার হাত থেকে আমাকে বাচিয়ে এনেছেন।

    তবে একটা জিনিস এখনও বুঝি না আমি আপনি তো অভিজ্ঞ “মেডিটেশনটা কি আসলে? জাদুবিদ্যার আরেক রুপ? নাকি শরীরের ভিতর জীন বাঃ শয়তান ঢুকতে দেয়া? নাকি ২টার কোনটাই না?”

    Like

    • Dear Sabbir Ahmed

      Taoist Meditation (Tai-Chi) অনুশীলন করতে গিয়ে এক ব্যক্তি তার demonic possession (শরীরে জীন ভর করা) এর সম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এই সাইট এঃ http://www.dangerofchi.org/

      একাধিক কোয়ান্টাম মেডিটেশন করে মানুষ উপলব্ধি করেছেন তাদের Sleep Paralysis হয়, আল্লাহই ভাল জানেন এটি demonic possession কি না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি এটি তাই। কারণঃ

      Meditation is a branch of magic (occult) – comment এ বিস্তারিত বলা সম্ভব না – দয়া করে amazon.com এ,
      (occult meditation), (jewish meditation mysticism), (meditation magic), (judaism magic meditation)
      – এই শব্দসমুহ দিয়ে পৃথক অনুসন্ধান করে দেখুন কি পরিমান শিরক আর কুফর এর ভেতর ‘মুসলিমদের’ রাখা হয়েছে।

      Magic (occult) হচ্ছে সেই জাদুবিদ্যা (magic trick বা তুকতাক নয়) যেই যাদুবিদ্দ্যার কথা কুরআন এ সুরা-আল বাকারায় ১০২ আয়াতে বলা হয়েছে। এই আয়াতে আল্লাহ বলছেন যে, সুলায়মান (আঃ) জাদুবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন না (যা ইহুদী ও নাসারারা তাদের বিকৃত গ্রন্থে উল্লেখ করেছে – তাফসির ইবনে কাথির দ্রষ্টব্য ),

      ইহুদী, খৃস্টানরা বিশ্বাস করে যে সুলায়মান (আঃ) জাদুবিদ্যার দ্বারা জিন (Jinns) এবং শয়তান (Devils) দের নিয়ন্ত্রণ করতেন, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে এটি হারুত এবং মারুত নামে দুই ‘মালাখ’ (angels) মানুষকে শেখায়। সুরা-আল বাকারায় ১০২ আয়াতেই বলা আছে যে জাদুবিদ্যার ক্ষমতা (অন্যান্য আল্লাহর অবাধ্যতার মত) আল্লাহর অনুমতির উপর নির্ভরশীল।

      Magic (occult) একটি সুনির্দিষ্ট ‘বিজ্ঞান,’ যা দ্বারা জীন নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক পরিবর্তন, ভাগ্য গণনা ইত্যাদি ‘সম্ভব’ – শুধু যদি আল্লাহ চান তবে। এর সাথে meditation সম্পর্ক কি? এই হাদিথটি লক্ষ্য করুনঃ

      গণক বা জ্যোতিষীর কাছে পরামর্শের নিষেধাজ্ঞাঃ হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্যোতিষবিদ্যার একটি শাখার জ্ঞান আহরণ করল, সে জাদুবিদ্যার একটি অংশ শিখল, যেটি সে যত চর্চা করতে থাকে তত বেশী জাদুবিদ্যা শিখতে থাকে।
      (ইমাম আবু দাঊদ সহীহ সনদসহ হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন। Prohibition of Consultation with Soothsayers: Ibn `Abbas (May Allah be pleased with them) said: The Messenger of Allah (sallallaahu ’alayhi wa sallam) said, “He who acquires a branch of the knowledge of astrology, learns a branch of magic (of which he acquires more as long as) he continues to do so.” Abu Dawud. Commentary: In this Hadith, astrology has been regarded a part of magic. In Islam the learning of magic has been held equivalent to infidelity. Thus, it is evident that in Islam, astrology and soothsaying are highly dangerous, and learning them is a great sin. Astrology here stands for that pseudo-science on the basis of which future events are predicted with reference to the movements of stars. There is another science called astronomy by means of which timings of sunrise and sunset are calculated. This branch of science, however, is a genuine science because it is based on experiment and observation.)

      অর্থাৎ যারা ভাগ্য গণনা করতেই থাকে তারা আস্তে আস্তে আরও জাদুবিদ্যার দিকে চলে যায়। ভাগ্য গণনা যে এক ধরণের জাদুবিদ্যা সেটা আরেক ভাবে প্রমানিত, তা হচ্ছে যে astrology এর গবেষণায় উৎস হিসেবে প্রথম স্থান কে নির্ণয় করা হয়েছে ‘ব্যবিলন’(http://www.amazon.com/Astrology-Ancient-Babylon-P-G-Maxwell-Stuart-ebook/dp/B00AY1Z8Y8/) আর আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা কোরআন এ বলছেন যে জাদুবিদ্যা প্রথম এসেছিলো ‘ব্যবিলন’ এ (সুরা বাকারাহঃ ১০২)। এটি এবং আরও অনেক কিছু পর্যায়ক্রমে ইহুদীদের ধর্মে প্রবেশ করে এবং আজ পর্যন্ত তা তারা চর্চা করছে এবং আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’লার লানত প্রাপ্ত হয়েছে।

      বোখারি প্রথমে ভাগ্যগণনা করতেন, পরে আরও ‘বিশেষ জ্ঞান’ (Arcane/Esoteric Knowledge) আহরণ করেছেন জাদুবিদ্যার বিভিন্ন শাখা থেকে এবং সুফি, বাহাই, শিয়া, হিন্দু, তন্ত্র, তাও (Taoism), খৃষ্টান Gnostic এবং ইহুদী Mysticism থেকে।

      অন্য গুলো বাদ দিলাম, সুফিরা কিভাবে ইহুদীদের থেকে occult/meditation শিখেছে তাও সংক্ষেপে বলা কঠিনঃ Sayed Idries Shah নামে একজন Persian সুফির জীবন বৃত্তান্ত গুগল করে এবং তার লেখা বইয়ের তালিকা amazon থেকে দেখলেই সুফিদের স্বীকারোক্তি পেয়ে যাবেন যে তারা এটি কোথা থেকে পেয়েছে (আমার আগের কমেন্ট ও দেখতে পারেন)।

      কোয়ান্টাম থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন এবং ইসলাম কে ভাল করে জানুন, আকিদার গুরুত্ব জানুন, অন্য ধর্মের আকিদা সম্পর্কে জানুন, ইনশা আল্লাহ আপনি নিজেই বুঝবেন এরা কি করছে এবং কারা এদের চালায়।

      Like

  24. আমি কোয়ান্টামের অগ্রসর অ্যাসোসিয়েট ছিলাম । যে সময় কোর্স করার জন্য মাটির ব্যাংকে দান করলাম ও কোর্স অ্যাকাউন্টে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে আমার জন্য ১৬১ নং আসনটি বুকিং দিলাম, ঠিক সে সময়েই এক বন্ধুর কথা মত গুগলে সার্চ দিয়ে এই লেখাটা পড়লাম ।
    আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোয়ান্টামের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করব । ইনশাআল্লাহ ।
    মহান আল্লাহ লেখককে ও আমার সেই বন্ধুকে উত্তম প্রতিদান দিন । আমিন

    Like

  25. Such an enlightening write-up indeed. Cannot thank you enough dear Nogonno Manush and others who have subsequently contributed to this. I’d really appreciate if someone (especially Nogonno Manush) can kindly volunteer and open a Facebook page to promote a healthy debate and a more active sharing of knowledge, thoughts and experiences (terrible) on the practices (Satanic) of Quantum and the likes. It will certainly promote critical thinking and help people (at least some) greatly to come out of their paranormal beliefs.

    The other day, I came across a Youtube video (https://youtu.be/Ij64Sno_i5M) where Mr Bukhari was narrating the last sermon of Prophet Muhammad (PBUH) in Bangla and immediately found out how daring and deceptive this guy can get to succeed in his Satanic agenda. My comments on his presentation of the sermon is as follows:

    “Verily, the Satan is disappointed at never being worshiped in this land of yours, but he will be pleased by obedience in anything (short of worship that is) in matters you may be disposed to think insignificant, so beware of him in your matters of religion.” – Interestingly, Mr Bukhari does not mention the above part of the Prophet’s (PBUH) sermon! Understandably, who wants to call him(her)self a Satan!

    He does not even mention the case of usury (riba) although it constituted an important part of the last sermon. Wonder if Mr Bukhari’s doing so would hurt many of his disciples’ who may have been already deeply involved in usury!

    Alongside avoiding the issues of (1) the Satan’s intention and (2) usury in his presentation, Mr Bukhari included the following two issues that I CANNOT find as being mentioned by the Prophet (PBUH) even after an extensive search through several versions of the sermon –
    (1) Mr Bukhari misquotes the Prophet (PBUH) as suggesting in his last sermon that people should travel, if necessary, as far as China to seek knowledge! One may easily find out that this has been in fact a very weakly documented but widely circulated hadith (Da`if).
    (2) He also misquotes the Prophet (PBUH) as emphasizing in his last sermon that one should not commit excesses in his religion! In fact, this has been an ayah of Sura An-Nisa (Al-Quran 4:171).

    Observing all this I’ve nothing but to say – May Allah save us from this very Satan who dares to distort just about anything to succeed in his hidden agenda.

    Like

  26. Reblogged this on Let your mind to be opened to explore the truth and commented:
    তাহলে আমাদের করণীয় কি? এক কথায় যদি আমাদের করণীয় বলতে হয়, তবে তা হল দ্বীন শিক্ষা করা। এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে দ্বীন শিক্ষার রাস্তা কোন কালেই মসৃণ ছিলনা।

    Like

  27. শোকর আলহামদুলিল্লাহ। অপপ্রচারও একটা বড় প্রচার। ধন্যবাদ ভাই। শ্রদ্ধেয় গুরুজি, শ্রদ্ধেয়া মা-জি ,ফাউন্ডেশন, মমেন্টিয়ার, অর্গানিয়ার, মাস্টার, গ্রাজুয়েট কিংবা কোয়ান্টিয়ার এর ব্যাপারে আরও বেশি করে যত অসঙ্গতি আছে তুলে ধরুন। আল্লাহ আপনাকে এর উত্তম জাজা দান করুন। আমিন।

    Like

    • ইফতেখার সাহেব, “অসংগতি” তো বলে শেষে করা যাবেনা! এই যেমন ধরুন এই লেখায় পাওয়া কিছু তথ্য আপনার সুবিধার জন্য নিচে দিয়ে দিলাম। দেখুন তো কোথায় ভুলভাল লেখা রয়েছে? দয়া করে জানাবেন। আপনারা যারা কোয়ান্টিয়ার, তারা আবার বিভিন্ন ভুলভালগুলো “ইচ্ছে করে” এড়িয়ে চলেন (কারণ গুরুর নির্দেশ 😛 )। দয়া করে কেউ একজন ভুলভাল নিয়ে আলোচনা করুন, তাহলে হয়তো আমাদের মত নির্বোধরা কোয়ান্টাম মেথডের প্রতি আকৃষ্ট হবে!

      কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশান এবং যোগ ফাউন্ডেশান

      কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশান একটি সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান। অন্য দিকে যোগ ফাওউন্ডেশান একটি লিমিটেড কোম্পানি যা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এই দুই প্রতিষ্ঠানেরই মালিক শহিদ আল বোখারি এবং উনার স্ত্রী নাহার আল বোখারি। কেবল ম্যাটির বাঙ্কের টাকাই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশানের আকাউন্টে জমা হয়। কোর্স ফি সহ যাবতীয় অন্যান্য আয় সব জমা হয় যোগ ফাউন্ডেশানের একাউন্টে। কোর্স করতে গেলে দেখবেন বলা হচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশান আয়োজন করেছে। কোথাও যোগ ফাউন্ডেশানের নাম উল্লেখ নেই। কিন্তু টাকার রসিদ খেয়াল করে দেখবেন তা যোগ ফাউন্ডেশানের। শুভঙ্করের ফাঁকিটা এই খানেই। ব্যানার ব্যবহার করা হয় সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টামের আর টাকা জমা হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যোগ ফাউন্ডেশানে। ঐদিকে মুরিদ বা সদস্যদের আমল দেওয়া হয় প্রতি সপ্তাহে অন্তত একজন লোককে সাপ্তাহিক সাদাকায়নে (মোটিভেশন প্রোগ্রাম কোর্স করার জন্য) আনা আর পরিচিতদের মধ্যে ম্যাটির ব্যাংক বিতরণ। এম আল এম কোম্পানির মতই। কারন মুল ইনকাম ঐ কোর্স ফি এবং ম্যাটির ব্যাঙ্কের টাকা। মাটির ব্যাঙ্কের টাকায় কোয়ান্টামের সব কার্যক্রমের খরচ দেখানো হয়। আর যোগ ফাউন্ডেশানের টাকা রয়ে যায় পকেটে যার পরিমাণ শত শত কোটি টাকা। এখন কথা আসতে পারে পত্রিকায় এইটা নিয়ে লিখা লিখি করা হয়না কেন? শুনে অবাক হবেন অনেক আগে থেকেই কোয়ান্টামের রয়েছে দুইটি প্যানেল – সাংবাদিক প্যানেল এবং আইনজীবী প্যানেল। গুরু এদের সাথে সব সময় আলাদা সময় দেন এবং এরাই এই ব্যাপার গুলো জনসমক্ষে না আসার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা চালিয়ে আসছেন।

      আর একটি বিষয় অবতারণা করছি। আত্ম স্বীকৃত পীর বা আধ্যাত্মিক গুরু “শহীদ আল বোখারী মহাজাতক”-এর ব্যাক্তিগত জীবনকে রহস্য আবৃত করে রাখা হয়েছে। যেমন –

      ১। মহাজাতকের জন্ম, শিক্ষা ও পেশা কোথাও উল্লেখ নেই। উনার পরিবারের কথা, মা-বাবা, ভাইবোনের কারও কথা আসেনা। সচেতন ভাবে এড়িয়ে চলা হয় পারিবারিক পরিচয়। পরিবারের কাউকে ফাউন্ডেশানে দেখা যায়না। কেন? কোন দিন উনি উনার কোন ছোট বেলার ঘটনা বা স্মৃতি বলতে সুনেননি কেউ। কারন কি? ঘটনা কি এই যে উনি দেশ প্রেম নিয়ে কথা বলেন কিন্তু উনার জন্মভুমি এই দেশ নয়? নামটাও “শহীদ আল বোখারী” বাঙ্গালী নামের সাথে যায়না। লামার যত স্থাপনা প্রায় সব গুলোর নামই আরবীতে। ব্যাপার গুলো ঠিক “লাল সালু” উপন্যাসের মত লাগে কি?

      ২। উনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কোথাও বলা নেই। কতটুকু পড়াশোনা করেছেন বা কোথায় পড়াশোনা করেছেন কখনও বলেননি।

      ৩। উনার স্ত্রী মাজী মাদাম (??) নাহার আল বোখারী – অত্যন্ত বদ মেজাজি এবং উনার কথা বার্তা মাঝে মাঝে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। উনি প্রতি দিন নিত্য নতুন শাড়ি পড়েন, সারা গায়ে দেন নিত্য নতুন অলঙ্কার এবং কটকটে লিপস্টিক মেখে নারী পুরুষ সবাইকে নিয়ে আধ্যাত্মিক ধ্যান করান – অথচ উনি বলেন উনারা খুব সাধারন জীবন যাপন করেন। ডিজিটাল পীরের ডিজিটাল স্ত্রী।উনি কোয়ান্টাম ও যোগ ফাউন্ডেশানের চেয়ারম্যান। উনিও মানুষকে ধর্মীয় নির্দেশনা দেন এবং মানুষের ব্যাক্তিগত, পারিবারিক জীবনের সমাধান দেন। উনার উপদেশ নেওয়ার জন্য আগে থেকে বুকিং দিয়ে টিকেট নিতে হয়। গুরু সবাইকে শিষ্টাচার শেখান কিন্তু নিজের বউকে তা শেখাতে পারেন নি। গুরুজি মুরিদদের শেখান “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন” কিন্তু উনার নিজের বউয়ের রাগ কমাতে পারেন নি গত অর্ধ শতাবধি ধরে। কোয়ান্টাম সেবকরা উনার রাগের কারনে সব সময় ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকেন।

      ৪। উনারা স্বামী-স্ত্রী দুই জনই হায় হায় কম্পানি যুবক এর পার্টনার ছিলেন।

      Like

    • ঐ একই লেখায়, সাধারন হিসেব নিকেশে একটি সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোয়ান্টাম কতটুকু সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করছে তা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, এ ক্ষেত্রেও আপনার মূল্যবান মতামতটুকু গুরুজীর নির্দেশে লুকিয়ে রাখবেন। নাহলে তো সত্য ফাঁস হয়ে যাবে ভাই 😀 😀 😀 ! আমি সেই হিসেবের পুরো অংশটিই তুলে দিলাম।

      কোয়ান্টামের আয়ের খাত –

      কোর্স – গ্রেজুয়েশান কোর্স – ৩৭০ টা ব্যাচ।

      শেষ ১০০ ব্যাচ এ প্রতিব্যাচ এ গড়ে ১০০০ জন হলে ৯০০০ হাজার টাকা করে মোট আয় ১০০x১০০০x৯০০০ = ৯০০,০০০,০০০ (নব্বই কোটি টাকা)

      আর আগের ১০০ ব্যাচ এ গড়ে ৬০০ জন করে হলে ৬০০০ টাকা করে মোট আয় ১০০x৬০০x৬০০০ = ৩৬ কোটি টাকা।
      বাকি প্রথম দিকের ১৭০ ব্যাচ এ গড়ে ২০০ জন করে ৪০০০ টাকা করে মোট আয় ১৭০x২০০x৪০০০ = ১৩,৬০,০০,০০০

      আর ৩৭০ টি ব্যাচ এ যারা কোর্স রিপিট করেছেন এদের কাছ থেকে আনুমানিক ১০ কোটি ধরলাম।

      মোট আয় = ১৪৯,৬০,০০,০০০ টাকা অর্থাৎ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।

      প্রো-মাস্টার কোর্স – আনুমানিক ৮০০০ জন ৩০০০ টাকা করে = ২ কোটি ৪০ লাখ।

      প্রথমায়ন, শিক্ষার্থী কোর্স, ব্যায়াম কোর্স, সাইকি কোর্স, হার্ট কোর্স, আইসিটি ইত্যাদি থেকে আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা।

      ম্যাটির ব্যাংক = গত ১১ বছরে গড়ে ৬ কোটি টাকা হিসেবে ৬৬ কোটি। গত বছর হয়েছে ১৪ কোটি টাকা।

      যাকাত – গত ১৪ বছরে গড়ে ১ কোটি টাকা হিসেবে ১৪ কোটি টাকা। গত বছর হয়েছে ৫ কোটি টাকা।

      হিলিং থেকে দিনে ২০ হাজার টাকা করে গত ২১ বছরে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকার মত হওয়ার কথা।

      অনুদান – আনুমানিক গত ২১ বছরে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা। এইটি আর অনেক বেশি হতে পারে।

    • ব্লাড ব্যাংক – ১২ কোটি টাকা।
    • বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এবং সাপ্তাহিক, মাসিক এবং বাৎসরিক প্রোগ্রাম গুলো থেকে আরও ২০ কোটি টাকা।

      প্রকাশনা – প্রকাশনা থেকে আয় আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু আয় আরও অনেক বেশি হতে পারে। কারন গত ২১ বছরে প্রতি বছরে কোটি কোটি টাকার বই এবং অন্যান্য প্রকাশনা বিক্রি হচ্ছে।

      সব মিলিয়ে আনুমানিক সর্ব মোট আয় – ৩৭৯ কোটি ৪০ লাখ।

      কোয়ান্টামের খরচের খাত –

      স্কুল – স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সর্ব উচ্চ ৭ কোটি (বাস্তবে আরও অনেক কম হবে)। জমি গুলো নাম মাত্র দামে কেনা।

      গত ১১ বছরে গড়ে ৪০০ জন শিক্ষার্থীর জনপতি মাসিক খরচ ২ হাজার টাকা হিসেবে মাসে মোট খরচ ৮ লাখ ১২ = ৯৬ লাখ, ১১ বছরে মোট = ১০ কোটি ৫৬ লাখ। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রতিটি বাচ্চাদের পিছনে ২-৩ জন আত্মিক মা-বাবা আছেন যারা বাচ্চাদের এই খরচ চালিয়ে যান। অর্থাৎ কোয়ান্টামের মুল ফান্ড থেকে কোন খরচ এদের জন্য করা হয়না বরং ২-৩ জন আত্মিক মা-বাবা থাকায় টাকা আরও উদ্বৃত্ত থেকে যায়। অর্থাৎ মাটির ব্যাঙ্কের দান দিয়ে যে স্কুল চালনা হয় তা সত্য নয়।

      আরও কার্যক্রমের মধ্যে আছে ১২ এতিম মেয়ে শিশুর ভরন পোষণ এবং , মাতৃ মঙ্গল কার্যক্রমে ৮০০ নারীকে সেবা দান যা খুব বেশী হলে ৩০ লাখ খরচ ধরলাম।

      ব্লাড ব্যাংক ; প্রতিষ্ঠা করতে ধরে নিলাম আনুমানিক ৩ কোটি টাকা খরচ হয়। যা রক্ত বিক্রির (কোয়ান্টামের ভাষায় নুন্যতম প্রসেসিং ফি) পয়সা দিয়ে অনেক আগেই উঠে এসেছে। আর গড়ে মাসে সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগ থেকে ৫০০ ব্যাগ যদি বিনা মুল্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে তবে ৬০০০ ব্যাগ থেকে যে আয় হয় দিয়ে ছয় মাসে প্রতি জেলায় একটি করে ব্লাড ব্যাঙ্ক করা যায়।

      যাকাত – কোয়ান্টামের যাকাত দেওয়ার নিয়ম হচ্ছে যা দেওয়া হবে তা ফেরত দিতে হবে। অর্থ ১০ হাজার টাকায় গরু কিনে দিলে তা যদি বড় করে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করা হয় তবে মুল লগ্নি ১০ হাজার কোয়ান্টামকে ফেরত দিতে হবে। প্রায় ক্ষুদ্র ঋণের মত। অর্থাৎ কোয়ান্টামের টাকা কোয়ান্টামেই রয়ে যায়। গত বছর কোয়ান্টাম যাকাত সংগ্রহ করেছে ৫ কোটি টাকার উপরে। আর বাংলাদেশের কয়টি পরিবার বলতে পারবে তারা কোয়ান্টাম থেকে যাকাত পেয়েছে! প্রতি বছর একটি ছবি ছাপা হয় কোয়ান্টাম প্রকাশনায় যে একটি সেলাই মেশিন আর একটি ইজি বাইকের ছবি দিয়ে যে শত শত পরিবারকে কোয়ান্টাম যাকাত দিচ্ছে। অথচ কোয়ান্টাম সদস্যরা নিজের পাড়া পড়শি ও নিকট আত্মীয়কে যাকাত না দিয়ে গুরুর নির্দেশে কোয়ান্টামে যাকাত দেন যার যাকাত দান প্রক্রিয়া মোটেই ইসলাম সম্মত নয়। আরও একটি প্রশ্ন উঠে কোয়ান্টাম কি যাকাত নিতে পারে? এই পর্যন্ত কোয়ান্টাম অসংখ্য কোয়ান্টাম সদস্যদের জিজ্ঞেস করেছি যে তাদের পরিচিত বা এলাকার কেউ কোয়ান্টামের কাছ থেকে যাকাত পেয়েছে কিনা। সবার উত্তর নেতি বাচক। অথচ রমজানের সময় গুরু বার বার তাড়না দিয়ে সদস্যদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেন কে কত বেশী যাকাত আদায় করে আনতে পারেন পরিচিত জনদের কাছ থেকে।

      নলকুপ স্থাপন – বলা হয়ে থাকে এই পর্যন্ত প্রায় ১৮৪ টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে কোয়ান্টামের পক্ষ থেকে। এই সংখ্যা যাচাইয়ের বিষয়। কিন্তু এই ১৮৪ টি নলকূপ স্থাপন করতে কত খরচ হবে? ২০ লাখ টাকা বা ৩০ লাখ টাকা, এর বেশী কি?

      কর্মচারীর বেতন – কোয়ান্টামের প্রায় ৯৫% কর্মচারী মুলত স্বেচ্ছাসেবী। বেতন ভুক্ত যারা আছেন তাদের বেতন তুলনামূলক ভাবে অনান্য প্রতিষ্ঠান থেকে এতই নগণ্য যে অবাক হতে হয়।

      খতনা কার্যক্রম এবং দাফন কার্যক্রম – এই গুলো মুলত যে স্থানে আয়জন করা হয় ঐখানের স্থানীয় সদস্যরাই খরচ বহন করে থাকেন। অর্থাৎ কোয়ান্টামের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে কোন টাকা আসেনা। ঔষধ বাবদ সারা বছরে ১ লাখ টাকার বেশী খরচ হওয়ার কথা না।

      অফিস রেন্ট – কোয়ান্টামের কেন্দ্রীয় অফিস এবং সারা বাংলাদেশে কয়েকটি শাখা ছাড়া দেশ জুড়ে যত শাখা প্রি-সেল আছে এই গুলোর অফিস ভাড়া মুলত ঐ শাখা প্রি-সেলের স্থানীয় সদস্যরাই বহন করেন। সেই সাথে শাখা প্রি সেল গুলোতে যত রকম প্রোগ্রাম হয় তার সব টুকুই ঐ শাখা প্রি-সেলের স্থানীয় সদস্যরাই বহন করেন। কোয়ান্টামের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে কোন টাকা খরচ হয়না।

      উপরোক্ত পরিসংখ্যান থেকে দেখতে পাই কোয়ান্টামের আয়ের বিপরীতে ব্যয় নগন্য। প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় কি ৪০ কোটি টাকা হয়েছে?

      Like

  28. প্রো-মাস্টার একটি দাস বানানোর প্রক্রিয়া মাত্র। বায়াতের নামে বিনা খরচে কর্মী বাহিনী বানানোর প্রক্রিয়া। বায়াতের নামে আজীবন দাসত্ব বরণ।

    অনেকেই উনাকে প্রশ্ন করেছিলেন – আপনি কি ধর্ম বিশেষজ্ঞ। উনি নিজেই বলেন উনি ধর্ম বিশেষজ্ঞ নন। কিন্তু উনি আবার সবার ধর্ম গুরু হন কিভাবে? ধর্ম বিষয়ে ভাল জ্ঞান না থাকলেও উনি ধর্মের ফতোয়া দেন, নির্দেশনা দেন। উনি নিজেকে দাবী করেন ধারা পরম্পরার প্রতিনিধি বা “উলিল আমর”। উনি প্রো-মাস্টার সেমিনারের মধ্যে মাউলানা সাইদুর রহমানকে দিয়ে বলান যে উনি নবীজির রওজায় গিয়ে উনার সাথে স্ব-শরীরে মোলাকাত করেছেন। প্রো-মাস্টার লেভেলে প্রতিদিন দুইবার মেডিটেশানের মাধ্যমে শপথ নেওয়া হয় – স্রস্টার কাজ আমার কাজ, গুরুর কাজ আমার কাজ, সঙ্ঘের কাজ আমার কাজ। অর্থাৎ গুরু যা করতে বলেন তাই স্রস্টার কাজ। গুরু যা বলেন তা করা অবশ্য পালনীয়। পালন না করা স্রস্টার নির্দেশ লঙ্ঘন। আর এইভাবেই কোয়ান্টামে সদস্যদের বিনা পয়সায় খাটিয়ে নেওয়া হয় বছরের পর বছর। উনার মতে বায়াত হওয়া ফরয।

    প্রো-মাস্টার হওয়ার সময় মেডিটেশান করানো হয় এই ভাবে (দেড় ঘণ্টার মেডিটেশান অতি সংক্ষেপে) – “আপনি হঠাৎ মারা গেলেন। কবর দেওয়া হল। অন্ধকারে আপনি কাঁদছেন। গুরুজি (মহাজাতক) সেই মাটি সরিয়ে আবার আপনাকে কবর থেকে তুলে এনে পুনর্জীবন দান করলেন।“ এইভাবে চরম মৃত্যু ভয় ডুকিয়ে মনটাকে দুর্বল করে দিয়ে অসহায় মানুষকে গুরুর উপর নির্ভরশীল করে ফেলেন মানসিক ভাবে। দেখা যায় প্রো- মাস্টারদের নিজস্ব চিন্তা ধারা লুপ্ত হয়।সব কিছুতেই গুরুর সহযোগিতা কামনা করেন। উনারা কেবল গুরুর নির্দেশকেই ফরয হিসেবে মেনে নেন। মুল ব্যাপারটা এইখানেই। মহাজাতক সাহেব উনার রপ্ত করা মেডিটেশান বা ধ্যান বিদ্যাকে প্রয়োগ করেছেন দারুন ভাবে। মেডিটেশানের হিপণোটিক্স শাখাতে উনার দক্ষতা চমৎকার। আর এইটাই ব্যাবহার করেছেন সফল ভাবে ধর্মের প্রলেপ দিয়ে। মাধ্যম হিসেবে মেডিটেশান খুব শক্তিশালী হাতিয়ার। চোখ বন্ধ করে প্রশান্ত মনে (আলফা লেভেলে) কাউকে যা দেখতে বলা হয় এবং যা শুনানো হয় তা মস্তিষ্কে স্থায়ী একটি প্রভাব ফেলে। বারবার একই কথার পুনরাবৃত্তি মস্তিকের প্রোগ্রাম স্থায়ী ভাবে বদলে দেয়। প্রো- মাস্টারের যত গুলো মেডিটেশান আছে তাতে বার বার উনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করানো হয়। তাই মুরিদরা উনার বা কোয়ান্টাম সম্পর্কে কেউ যুক্তি দিয়ে কিছু বললেও তা উড়িয়ে দেন বা ক্ষেপে যান। এই ভাবেই জীবনের দুর্দশার বৃত্ত ভাংতে গিয়ে মানুষ ডুকে পড়ে আরেক মায়ার বৃত্ত কোয়ান্টামের দাসত্বের বৃত্ত যেখানে দিনের পর দিনে কাজ করে যায় আরেক জনের ব্যবসা আর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। “অনন্য মানুষ” বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তার অনন্যতা। একই ফ্যাক্টরিতে বানানো হচ্ছে সব একই ধরনের মানুষ। স্রস্টার অনন্য মানুষ পরিণত হচ্ছে জৈবিক রোবটে। বুদ্ধি দীপ্ত মানব সন্তান পরিণত হয় মহাজাগতিক কোয়ান্টাম দাসে।

    Like

  29. কোয়ান্টাম মেথড ও মেডিটেশন কি ইসলাম সম্মত?
    কুরআন ও হাদিথের আলোকে একটি সমীক্ষা

    https://quantummethodmeditationislam.wordpress.com/about/quantum-method-meditation-islam-yoga-bokhari-mohajatok/

    জীবনদর্শন হিসেবে কোয়ান্টাম মেথড ধর্মবিশ্বাস এবং মানবজাতি বিষয়ে যা দাবী করে সে সম্পর্কে ইসলাম কি বলেছে সেটি বোঝার চেষ্টা করতে এই সংকলনটিতে কুরআন ও হাদিথের কিছু সমীক্ষা উপস্থাপন করা হয়েছে। ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ায় মুসলিম সমাজে ধর্মসচেতনতার জায়গাতে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান যেভাবে পূরণ করার সুযোগ করে নিচ্ছে ইসলামবিরোধী এবং ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক দর্শন কোয়ান্টাম মেথড, তা অনুধাবন করতে এই সমীক্ষার অবতারণা।

    Like

  30. OMG! I never think like the way u describe Mr. NM! Thanks a lot to open my eyes ! One thing I want to share , whenever I did meditation I had something missing in my feelings therefore I use to say after meditation O Allah show me the right path ! Coz I did like the word Antor Guru” …… Anyway , may Allah guide us as a practicing Muslim. Ameen.

    Like

  31. কোয়ান্টামের লিফলেট দেখে ২০১৪ সালে যাকাতের কিছু অংশ দিয়েছিলাম, তবে তখনই খটকা লেগেছিল তাদের মাটির ব্যাংকের লিফলেটে ও যাকাতের লিফলেটে হুবহু এক কিছু ছবি দেখে । আর কোয়ান্টাম প্রতি বছর হুবহু একই ছবি লিফলেটে ছাপায়, তাই তাদের যাকাত আদায় নিয়ে মনে সন্দেহ জাগছে । কয়েক বছর ধরে সাড়া জাগানো যাকাত মেলায় কোয়ান্টাম অংশ নেয় কি না ? সে সম্পর্কে জানতে তাদের অফিশিয়াল ইমেইল অ্যাড্রেস info@quantummethod.org.bd তে এই মেইলটি করেছিলাম ”Assalamu Alaikum. I want to know about participation of Quantum Foundation in the recent Zakat fair. Organized by Centre for Zakat Management at Bangabandhu International Conference Center.” তারা কোন উত্তর দেয়নি । গত বছর কোয়ান্টামে দেয়ার জন্য বরাদ্দ যাকাতের টাকা হারিয়ে ফেলেছিলাম । আমার মনে হচ্ছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে এটি সতর্কবাণী ছিল । আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমি কোয়ান্টামে আর কখনোই যাকাত দিব না ।

    Like

  32. আসসালামুআলাইকুম, এমন একটি গুরুত্বপুর্ণ পোস্ট দেয়ার জন্য।সময় উপযোগী এমন একটি সাইট শেয়ার কারার জন্য। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।
    ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নিয়ে আর্টিকেল এ আরো কিছু লিংক আপডেট করতে হবে। আমি মাসিক আলআবরার মুল সাইটে কোয়ান্টাম মেথড ১৭ থেকে ২০ পর্যন্ত পেয়েছি।
    আমি সম্পুর্ন ফাইলটি নিচের লিংক এ দিলাম।
    https://drive.google.com/open?id=0B5Qkegeh-iufeFNfWWE2bnBvS0k

    Like

  33. Sokoralhamdulillah ,,,,
    Apnake onk onk dowa kori,,,,,
    Vai/Bon,,,,
    Apna ke akta prosno korchi,,,
    Apnar article purotai apnar sondeho,,,,,,apnar ai article jodi kunu manish k alor poth theke dure soriye niye jay tar daitto ki apni niben?(jodio Allah Jake chan take hedayat Dan Korean)
    Apnar ja PROSNO ache Apni Sobkichu nia QUANTUM FOUNDATION
    a jacchen na kno??
    Sekhane open Program hoy,,,apni asen prosno Korean,,,insallah amra apnar sondeho dur Kore dibo,,,,

    Like

    • ভাই, অনেক ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।

      Apna ke akta prosno korchi,,,
      Apnar article purotai apnar sondeho,,,,,,apnar ai article jodi kunu manish k alor poth theke dure soriye niye jay tar daitto ki apni niben?(jodio Allah Jake chan take hedayat Dan Korean)

      প্রথমত, এখানে কোন কিছুই আমি সন্দেহের বশবর্তী হয়ে লিখিনি, বরং যাচাই বাছাই করে কাছ থেকে দেখে লিখেছি। দ্বিতীয়ত, আপনি কোন আলোর পথের কথা বলছেন আমি জানিনা, কিন্তু আমার বিশ্বাস – কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশেনের দেখানো পথটাই বরং ইসলামের আলো থেকে দূরে সরিয়ে নেবার পথ। শেষ কথাটা আপনিই বলেছেন – আল্লাহ যাকে চান তাকে হেয়দায়েত দান করেন। দোয়া করি, আল্লাহ আপনার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

      Apnar ja PROSNO ache Apni Sobkichu nia QUANTUM FOUNDATION
      a jacchen na kno??
      Sekhane open Program hoy,,,apni asen prosno Korean,,,insallah amra apnar sondeho dur Kore dibo,,,,

      ভাই, আমি যে প্রশ্ন নিয়ে সেখানে যাইনি তা আপনাকে কে বললো? ‘প্রজ্ঞা জালালি’ এবং ‘সজ্ঞা জালালি’ তে কোয়ান্টাম-ফাউন্ডেশনের ভাওতাবাজী ধরা পড়ে – এইরকম প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হয় – জবাব দেয়া তো পরের কথা! অভিজ্ঞতার আলোক থেকেই বলছি ভাই। আপনি বিশ্বাস করবেন না জানি, কারন আপনি এই মুহুর্তে ‘কোয়ান্টাম প্রো-অ্যাক্টিভ’ হয়ে আছেন। একটা খুব ছোট অনুরোধ করব – আপনি দয়া করে আপনাদের গুরুজী কে এই লেখা থেকে প্রশ্ন করবেন? যদি কোনওভাবে আপনি তার কাছ থেকে জবাব পেয়ে যান, আপনি আমাকে এইখানে দয়া করে কমেন্ট করে জানান। গুরুজিকে হয়তো ছুঁতে পারবেন না। আপনি বরং আপনার কোয়ান্টামের কাউকে বলুন – এই লেখার অসংগতিগুলো বের করে সেগুলোর সঠিক রূপটা বের করে দিতে।

      আশা করি এতটুকু আপনি নিশ্চয়ই করতে পারবেন। 🙂

      Like

  34. আসসালামু-আলাইকুম ভাইয়া। লিখাটা বেশ মনোযোগ দিয়েই পড়লাম। পড়ে কোরআনের একটা আয়াত মনে হল যে, যারা জানে আর যারা জানেনা, তারা কি কখনো সমান হতে পারে? (৩৯ঃ৯)।
    জনাব NM, আপনার জ্ঞ্যান বালুর সমতুল্য ই মনে করছি আমি। এর কারন আপ্নিতো নিজেই বলছেন যে আপনি, আসলে নিজের ক্ষুদ্র জ্ঞ্যান থেকে সব লিখেছেন। আসলে নিজের রিয়েলাইজেশন আর পুঁথিগত বিদ্যা দুইটা বিষয় আলাদা।
    একটা গল্প বলি মন দিয়ে পড়বেন।এটা একটা রুপক গল্প।
    এক লেখক আর এক সন্ত্রাসী পাশাপাশি বাসায় থাকতো। হঠাৎ একদিন বাড়িতে আগুন লেগে দুইজন-ই মারা গেল। অনেক বছর পর সন্ত্রাসীকে বেহেশতে নিয়ে যাওয়া হল। লেখক তা দেখে খুব রেগে গিয়ে বলল যে, আমিতো কিছুই করতাম না শুধু লিখতাম আর সে তো এমন কোনো খারাপ কাজ নেই করতোনা। তাকে কেন আগে বেহেশতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? তখন একজন ফেরেশ্তা বললেন, তার পাপ কাজ সব অবসান হয়ে গেছে। কেউ আর তার দলে নেই। আর কিছু মানুষ তাকে মাফ করে দিয়েছে। কিন্তু তোমার লিখা পড়ে মানুষ এখনো বিভ্রান্তিতে আছে। যতদিন তোমার লিখা পড়ে মানুষ বিভ্রান্ত হবে ততদিন তুমি দোযকে থাকবে।

    আপনার লিখা পড়ে জানিনা কতজন বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাই আহ্বান রইল, ফাউন্ডেশনে আসেন। মুক্ত প্রোগ্রাম গুলোতে অংশ নেন। ভাল করে যাচাই-বাছাই করেন। আপনার লিখা এটা প্রমান করে আপনি অনেক ধ্যররযশীল। আর একটু ধ্যররয নিয়ে আরো জানার চেষ্টা করেন। আশা করি নিজেই বুঝতে পারবেন। আসলে সবার রাস্তা তো এক না। যে যেভাবে নিজেকে তৈরী করছে সে সেভাবে আল্লাহর কাছে নিজেকে উপস্থাপন করবে। জীবন্তো এক্টাই। কাজে লাগান। সময় নষ্ট না করে। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য। আল্লাহ আপনার সাথেই থাকুন সবসময় এই প্রত্যাশায়……………………

    Like

    • ওয়ালাইকুমআসসালাম আপু। জাজাকাল্লাহ যে আপনি মনযোগ দিয়ে লেখাটি পড়েছেন। আপনার গল্পটিকে পাশ কাটিয়ে মূল আলোচনায় আসি। গল্প তো গল্পই, এটাতো আর হাদীস-কুরআনের কিছু নয়। নিজেকে বাঁচাবার জন্য নিজের মত করে অনেক গল্প বানানো যায়। সেজন্য বানোয়াট জিনিস নিয়ে আপাতত আলোচনা না করি। কেমন!

      আপু, আমি তো নিজের রিয়েলাইজেশন থেকেও লিখতে পারি লেখাটা। আমি যে গ্রাজুয়েশন কোর্স, প্রজ্ঞা জালালি, সজ্ঞা জালালি, কোয়ান্টামম কিংবা প্রোমাস্টার্স করিনি আপনি কিভাবে জানলেন? এসব করে কি আমার মাঝে বোধোদয় হতে পারেনা? আপনার জ্ঞাতার্থে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, “জালালি” প্রোগ্রামগুলোতে মহাজাতক সাহেবকে প্রশ্ন করার নিয়ম হচ্ছে, তাকে প্রশ্নটি কাগজে লিখে দিতে হয়। কোন এক “জালালি” প্রোগ্রামে এই আর্টিকেলের বিষয় নিয়ে কিছু প্রশ্ন তাকে কাগজে লিখে করা হয়েছিল। উনি সুন্দরমত সে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে অন্য প্রশ্নে চলে যান। যাই হোক, আপু আপনার যদি মনে হয় যে এই লেখায় তথ্য প্রদানে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, তবে দয়া করে অসামঞ্জস্যতাটুকু ধরিয়ে দিন, কৃতজ্ঞ থাকব।

      আপনার মন্তব্য থেকে যা বুঝলাম তা হল “আমি বালু সমান জ্ঞান নিয়ে অনেক কিছু লিখেছি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সম্পর্কে যা মোটেও সঠিক নয়।” খুব ভাল কথা আপু। তাহলে আপু আপনি কি দেখিয়ে দেবেন লেখাটির কোথায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বা কোয়ান্টাম মেডিটেশন নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভুল কথা লেখা হয়েছে? দেখিয়ে দিলে খুবই বাধিত হব আপু, কারণ অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেউ এখনও পর্যন্ত দেখায়নি যে লেখাটির ভুলগুলো কোথায়। আশা করি আপনার সেই সৎসাহসটি আছে।

      আরেকটা কথা আপু, চোখ থাকলেই সবাই সব কিছু দেখতে পায় না। সেটা হয়তো আপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই মহাজাতক সাহেবের শিখিয়ে দেয়া বুলি “কোয়ান্টাম ভাল কাজ করছে সে জন্য সবাই এর পিছে লাগে” থেকে দূরে সরে এসে নিরপেক্ষভাবে নিজেই চিন্তা করুন “এই লেখার অংশগুলো আসলে কতটুকু সঠিক”। দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথটি দেখান।

      Like

এখানে মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s